প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গুলশানে মা-মেয়ে খুন, ভাগনা সঞ্জিত ও তার বন্ধুকে খুঁজছে পুলিশ

সুশান্ত সাহা : রাজধানীর গুলশানের কালাচাঁদপুরে গারো নৃগোষ্ঠির মা ও মেয়ে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয় তিন থেকে ৪ জন অস্ত্রধারী। দুই সপ্তাহ ধরে রেকি করে খুনিরা। মঙ্গলবার বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে কোন এক সময় তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করার পর হত্যাকারীরা বাইরে থেকে ঘরের দরজায় ছিটকিনি লাগিয়ে পালিয়ে যায়। হত্যাকাণ্ডটি পূর্ব পরিকল্পিত বলেও ধারণা পুলিশের। ইতোমধ্যে বাড়িটির ফটকে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেফতারে মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সুজাতার স্বামীর নাম আশীষ মানকিন। তাদের তিন মেয়ে মায়াবী চিরান, মাধবী চিরান ও সুরভী চিরান। তাদের মধ্যে মায়াবীর বিয়ে হয়েছে। তার স্বামীর নাম পেলেস্তার। তারা সবাই কালাচাঁদপুরের ক- ৫৮/২ নম্বর বাসার চতুর্থ তলায় থাকতেন। ঘটনার সময় সুজাতা ও তার মা বেসেথ ছাড়া বাসায় কেউ ছিলেন না। দুপুরে সঞ্জিত দুই থে‌কে তিন জন বন্ধু নিয়ে বাসায় এসেছিল। তখন সুজাতার দুই মেয়ে লা‌ঞ্চে বাসায় এ‌সে‌ছিল। দুপুরের পর তারা কাজে যাওয়ার সময় সঞ্জিত ও তার বন্ধুদের আপ্যায়ন করে যায়। ধারণা করা হচ্ছে এই জোড়া হত্যাকা‌ণ্ডের স‌ঙ্গে সঞ্জিত ও তার বন্ধুদের সম্পৃক্ততা র‌য়ে‌ছে।

পুলিশের সূত্র আরো জানা যায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সুজাতের মেয়ে মায়াবীর স্বামী পেলেস্তা বাসায় ফিরে দেখেন ঘরের দরজা বাইরে থেকে লাগানো। ছিটকিনি খুলে ঘরে ঢুকে তার শ্বাশুড়ি সুজাতের গলাকাটা লাশ খাটের ওপর পড়ে থাকতে দেখেন। তার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন জড়ো হয়। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। তখন তারা কেউ জানেন না খাটের নিচে সুজাতের মা বেসেথের লাশ রয়েছে। এক ঘণ্টা পর তারা খাটের নিচে বেসেথের লাশ পান।

এদিকে আশেপাশের একাধিক প্রতিবেশী জানান, ওই বাসায় কয়েকদিন ধরেই খুব উচ্চ স্বরে ঝগড়া হতো। তবে কী কারণে ঝগড়া, তারা জানাতে পারেননি।

বা‌ড়ির মা‌লিক জাহা‌ঙ্গীর আলম জানান, ১৭ মাস ধ‌রে এই প‌রিবার‌টি আমার বা‌ড়ি‌তে ভাড়া আ‌ছে। তারা চার তলায় থাকত। সুজাতা ও বে‌সেথ ছাড়া বা‌কি সবাই বা‌হি‌রে কাজ করত। প্রথ‌মে চিৎকার শু‌নে পা‌শের ফ্ল্যা‌টের বা‌সিন্দারা দা‌রোয়ান জালাল‌কে খবর দেয়। জালাল আমা‌কে খবর দি‌লে আ‌মি কাউ‌ন্সিলরকে ঘটনা জানাই। প‌রে কাউ‌ন্সিলর পু‌লি‌শ‌কে খবর দি‌লে লাশ উদ্ধার করা হয়।

১৮ নম্বার ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাকির হোসেন বাবুল জানান, আমার এ ওয়া‌র্ডে সা‌ড়ে ৪ হাজার গা‌রো ভোটার র‌য়ে‌ছে, ক‌খনো কোথাও এমন ঘটনা ঘ‌টেনি। মঙ্গলবার বিকেলে বাসাটিতে ঢোকেন ৩-৪ জন যুবক। যা সিসিটিভির ফুটেজে দেখা গেছে। তবে, তার ধারণা, পারিবারিক কলহে এ হত্যাকাণ্ড।

ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডা. প্রদীপ বিশ্বাস ময়নাতদন্ত শেষে জানান, সুজাতার গলাসহ শরীরে ১৪টি ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে এবং মাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি। তবে তা জানার জন্য নিহতদের দেহ থেকে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, নিহতদের শরীরের আঘাতের ধরন দেখে মনে হচ্ছে মাত্র একজন ব্যক্তির পক্ষে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো সম্ভব না।

গুলশান থানার ওসি আবু বকর সিদ্দীক জানান, এ ঘটনায় অজ্ঞাত ৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করছেন সুজাতার স্বামীর আশীষ মানকিন। পরিবার ও আশপাশের লোকজনের বক্তব্য রেকর্ড করা হচ্ছে। তবে আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, হত্যাকাণ্ডটি পূর্ব পরিকল্পিত। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। স্বজনদের অভিযোগ, পূর্ব শত্রুতা, পারিবারিক কোন্দলসহ কয়েকটি বিষয়কে সামনে রেখে তদন্ত চলছে।

গুলশান বিভাগের ডিসি মোস্তাক আহমেদ জানান, ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে, ক্রাইম সিন ইউনিট ও সিআইডির সদস্যরা। এ হত্যাকাণ্ডে পেছনের কী কারণ রয়েছে এবং কারা হত্যা করেছে এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার রাতে কালাচাঁদপুর স্কুলের দক্ষিণ পাশে ক- ৫৮/২ নম্বর বাসার চতুর্থ তলায় একটি বাসা থেকে বেসেথ চিরান (৬৫) ও তার মেয়ে সুজাতা চিরান (৪২)র মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত