প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জালালের ছবি ধরে শুধু কাঁদছেন মা

ডেস্ক রিপোর্ট : ছুটি হলেই গ্রামের বাড়িতে যাবেন বলে বৃদ্ধ মাকে কথা দিয়ে ঢাকায় এসেছিলেন গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক জালাল উদ্দিন। তিনি ছুটি পেয়েছেন, তবে চিরতরে।

সেই কথা মনে করেই ফ্রেমে বাধানো ছেলের ছবি দেখছেন আর চোখের পানি মুছছেন মা আয়েশা খাতুন। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের ভোলপাড়া গ্রামজুড়েই চলছে মাতম।

সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে রাজধানীর মধ্য পীরেরবাগ এলাকায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে যায় ডিবির পল্লবী জোনাল টিমের একটি দল। পুলিশ সদস্যরা বাড়িটি ঘিরে ধরলে সন্ত্রাসীরা তাদের দিকে করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। দুইপক্ষের গোলাগুলির সময় ডিবির পরিদর্শক জালাল উদ্দিনের মাথায় গুলি লাগে। পরে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত ২টার দিকে চিকিৎসক তাঁকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।

পাঁচ ভাই, দুই বোনের মধ্যে সেজো ছিলেন জালাল। তাঁর রয়েছে দুই মেয়ে। বড় মেয়ে তৃপ্তি ঢাকার ভিকারুননেছা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্রী। ছোট মেয়ে তুর্জা একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। স্ত্রী সন্তান নিয়ে ঢাকাতেই বসবাস করতেন তিনি। গ্রামে দ্বিতল একটি বাড়ি বানিয়েছেন জালাল। দুই বছর আগেই বাড়ি তৈরির কাজ শুরু হলেও শেষ হয়নি। ওই বাড়িতে রাত কাটানো হলো না তাঁর।

বিলাপ করতে করতে এই কথাগুলো বলছিলেন আয়েশা খাতুন। জালালের ছবি হাতে নিয়ে তিনি বলছিলেন, ‘আমাকে না বলে জালাল আগে চলে গেল। দুই তলা বাড়ি থুয়ে কোন তলায় যাচ্ছেরে। এই বাড়িটিতে তুই আমাকে রাখতে চেয়েছিলি। এখন আমি কার সাথে থাকব। আমার ওষুধ কে কিনে দেবে। আমার জন্য ফল আর কেউ কিনে আনবে না।’

মায়ের কান্নার এই দৃশ্য দেখে গ্রামের মানুষ চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি। ভারী হয়ে উঠেছিল গ্রামের বাতাস।

নিহতের পরিবার ও প্রতিবেশীরা জানায়, সোমবার দিবাগত রাত ২টার পর জালাল উদ্দিনের নিহত হওয়ার সংবাদ পায় তারা। জালালের অন্য ভাইয়েরা পরিবার-পরিজন নিয়ে গ্রামে আলাদাভাবে বসবাস করেন। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে জালাল উদ্দিন ছিলেন চাকরিজীবী। তাঁর ছোট ভাই বাদশা কুয়েত প্রবাসী ও অন্য ভাইয়েরা কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এ ছাড়া জালাল বৃদ্ধ মায়ের দেখভাল করতেন বলেও জানায়।

নিহতের বাল্যবন্ধু গোলাম রসুল বলেন, ‘আমারা গোপালপুর হাই স্কুলে পড়তাম। জালাল দারুণ মেধাবী ও সামাজিক মানুষ ছিল। চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে রাষ্ট্রীয় পুরস্কারও পেয়েছে।’

ভোলপাড়ার শুকুর আলী বলেন, ‘মানুষের সাথে খুব সহজেই মিশতেন জালাল। বিভিন্ন সমস্যায় তিনি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতেন। তিনি ছাড়া গ্রামের আর কেউ উচ্চ পদে চাকরি করেন না।’

শুকুর আলী আরো বলেন, ‘ছুটিতে বাড়ি এসে জালাল গ্রামে সবার বাড়িতে যেতেন। তাঁর অকাল মৃত্যুতে এলাকার মানুষ শোকে আছন্ন হয়ে পড়েছেন।’

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান খান বলেন, ‘রাত ৯টার দিকে ঢাকা থেকে জালাল উদ্দিনের লাশ আসে। পরে তা পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। রাতেই লাশ ভোলপাড়ায় দাফন করা হয়।

পুলিশ কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন। তিন মাস হলো তিনি পদোন্নতি পেয়ে পুলিশ পরিদর্শক হয়েছেন। সেই সূত্রে সুত্রাপুর থানা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (পশ্চিম) বিভাগের পল্লবী জোনাল টিমে যোগ দেন। সূত্র : এনটিভি অনলাইন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত