প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইসলামে নারী-পুরুষে কোনো বিভেদ নেই, সৌদি ক্রাউন প্রিন্স

ইমরুল শাহেদ : ‘নারী-পুরুষ আমরা সবাই মানুষ এবং আমাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।’ এ কথা বলেছেন সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। তিনি যুক্তরাষ্ট্র সফরকে সামনে রেখে সিবিএস নিউজকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন এবং সেটি রোববার প্রচারিত হয়েছে। কোনো আমেরিকান নেটওয়ার্ককে দেওয়া এটাই তার প্রথম সাক্ষাৎকার। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সিবিএস নিউ করেসপনডেন্ট নোরাহ ও’ডোনেল। সাক্ষাৎকারে তিনি বলতে চেয়েছেন ইসলামে নারী-পুরুষে কোনো বিভেদ বা বিভাজন নেই। পার্থক্য নিরুপণের অনেক ধারণাই নবীর (সা.) সময়ের জীবনযাত্রার বিপরীত।’

ক্রাউন প্রিন্স স্বীকার করেন যে সৌদি সমাজ রক্ষণশীল ইসলাম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে আসছে। তিনি সেটা লক্ষ্য করেছেন, ১৯৭৯ সালে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের সময় মক্কার গ্রান্ড মসজিদের উগ্রপন্থীরা সব কিছু ছিনিয়ে নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতির শিকার। বিশেষ করে আমার প্রজন্মের যারা তারা এই পরিস্থিতিতে পড়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে অনেক উগ্রপন্থী আছেন। তারা নারী-পুরুষের মেলামেশা বারণ করে রেখেছেন। তারা নারী-পুরুষের একত্র হওয়া এবং একসঙ্গে কাজ করার পার্থক্য নিরুপণে অপারগ।’

তিনি বলেন, ‘কিন্তু এটাই প্রকৃত সৌদি আরব নয়। এই সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানের যারা দর্শক তারা যদি গুগল থেকে তাদের স্মার্ট ফোনের মাধ্যমে ‘৬০ ও ‘৭০ দশকের সৌদি আরবকে সন্ধান করেন তাহলে খুব সহজেই তারা ছবিতে প্রকৃত সৌদি আরবকে দেখতে পাবেন। আমরাও পারস্য উপসাগরের অন্যান্য দেশের মতো স্বাভাবিক জীবনই যাপন করেছি।
তিনি বলেন, সে সময়ে নারী গাড়ি ড্রাইভ করেছেন। সৌদি আরবে সিনেমা হল ছিল। নারীরা সর্বত্র কাজ করেছেন। অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের মতো আমরাও স্বাভাবিক ছিলাম। ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত এই পরিস্থিতি বিরাজমান ছিল।

প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান আজ মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। তাদের আলোচনায় প্রাধান্য পাবে প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান। ৩২ বছরের এই তরুণ প্রিন্স সৌদি সমাজে দ্রুত যে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছেন তা নিয়েও আলোচনা করবেন। এছাড়া ইয়েমেনসহ উদার পররাষ্ট্র নীতি এবং কাতারের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক তিক্ততা নিয়েও আলোচনা করবেন।

ক্রাউন প্রিন্স নারী অধিকার বিষয়ে বেশ কিছু সংস্কার করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে পোশাকের প্রতিবন্ধকতা অপসারণ, কর্মক্ষেত্রে নারীদের যোগদানের সুবিধা প্রদান এবং সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো নারীদের গাড়ি ড্রাইভ করা থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার। কিন্তু অভিভাবকত্ব আইন বলবৎ আছে এখনও। এই আইনের বলে নারীদের কোনো কাজে যেতে হলে পুরুষ স্বজনদের অনুমতি নিতে হবে। ডন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত