প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পঞ্চগড়ে দুষ্কৃতিকারীর কাণ্ড!

পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ে তেতুলিয়া থানা পুলিশ অচেতন অবস্থায় একই পরিবারের নারী ও শিশুসহ ১২ সদস্যকে উদ্ধার করেছে। পুলিশ তাদের পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। চিকিৎসকরা ধারণা করছেন চেতনানাশক মিশানো পানি বা খাদ্য খেয়ে তারা অচেতন হয়ে পড়েছেন। তাদের দেখতে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার গিয়াস উদ্দিন আহমদ, পঞ্চগড় সিভিল সার্জন ডা. মো. সাইফুল ইসলাম হাসপাতালে ছুটে যান।

বৃহস্পতিবার (১৫ মার্চ) রাতে পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা ইউনিয়নের হোলাসিজোত গ্রামের পাথর ব্যবসায়ী আব্দুল জলিলের বাড়িতে এ ঘটনাটি ঘটেছে। অচেতন ওই ১২ জন হলেন-জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা ইউনিয়নের হোলাসিজোত এলাকার আব্দুল জলিল (৫৫), তার পরিবারের সদস্য আইনুল ইসলাম (২৮), ফেরদৌস (১৮), আঞ্জুমান আক্তার (১৫), শিমুলি আক্তার (২০), অনিমা আক্তার (৬), অরণ্য (৫), রাসেল (১০), অয়ন (৭), মনির হোসেন (২২), ময়না আক্তার (৫০) ও আসিয়া খাতুন (২৫)।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গতকাল দুপুরে বাড়ির তৈরি ভাত, তরকারি, পানি ও চা খাওয়ার পর থেকেই বাড়ির প্রত্যেক সদস্যের প্রথমে মাথা ঘুরানো, ঝিমুনি আর তারপর অচেতন হতে থাকে। একে একে ওই পরিবারের ১২ জন সদস্য অচেতন হয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে রাত ১০টায় তেঁতুলিয়া থানা পুলিশ তাদের উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতালের চিকিৎসকরা প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে তাদের পানি বা খাদ্যে চেতনানাশক মিশানো হতে পারে বলে ধারণা করছেন। তবে একই পরিবারের ওই ১২ সদস্য বর্তমানে শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।

বাংলাবান্ধা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কুদরত ই খুদা মিলন জানান, পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় আব্দুল জলিলের বাড়ির সদস্যদের অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। বাড়ির সকল ঘরে তালা লাগিয়ে দিয়ে তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। টাকা পয়সা, স্বর্ণালঙ্কার বা মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি বা ডাকাতির উদ্দেশ্যে দুষ্কৃতিকারীরা এমনটি করতে পারে।

অচেতন অবস্থায় আব্দুল জলিলের পরিবার পরিজনদের পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তির পর পরই পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার গিয়াস উদ্দিন আহমদ, পঞ্চগড় সিভিল সার্জন ডা. মো. সাইফুল ইসলাম হাসপাতালে তাদের দেখতে যান। এ সময় তারা তাদের চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

এদিকে গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে একই উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়নের পাথর ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামের বাড়ির পানির ট্যাংকে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে বাড়ির সদস্যদের ঘুমের সুযোগে বাড়িতে প্রবেশ করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ ১০ লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়। এ বিষয়ে রফিকুল ইসলাম তেতুলিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। রফিকুল ইসলামের ছোট ভাই আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি। সূত্র: ইত্তেফাক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত