প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দশ বছরে কৃষিতে ঋণ বিতরণ বেড়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা

জাফর আহমদ : আমাদের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) কৃষি খাতের অবদান কমলেও কৃষিতে ব্যাপক রূপান্তর ঘটেছে। গতানুগতিক কৃষি ব্যবস্থার পরিবর্তন এসেছে। এ সময়ে ঋণের পরিমান যেমন বেড়েছে, তেমনি ঋণ বিতরণের বৈচিত্র এসেছে। গত ১০ বছরে কৃষিঋণ বিতরণ বেড়েছে প্রায় দ্বিগুন। এক সময় কৃষি বলতে শুধু ধান আর পাট বোঝালেও মৎস ও পশুপালনের মত বিষয় এখন কৃষির মধ্যে পড়ে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বলছে, কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধিকে বেগমান করতে গত এক দশকে দেড় লাখ কোটি টাকা ঋণের যোগান গেছে এই খাতে। যা মোট বাজেটের এক তৃতীয়াংশের কিছু বেশি।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন,আমরা কৃষিতে ব্যাপক অগ্রগতি করেছে। এক সময় কৃষি বলতে ধান ও পাট বুঝাত। ধান আমাদের খাবার যোগান দিতো। আর পাট দিয়ে আমরা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতাম। কিন্তু সেই ১৯৭০ দশকের কৃষি আজ নেই। অনেক পরিবর্তন এসেছে। এখন আমাদের খাদ্য শস্যের ৯৫ শতাংশ অভ্যন্তরীন ভাবে হচ্ছে।

এই অর্থনীতিবিদ বলেন, আমাদের কর্মসংস্থানের বড় খাত এখনও কৃষি। তবে বিশ্ব অর্থনীতি বদলে গেছে। বিশ্ব বাজার ভিত্তিক অর্থনীতির জন্য আমাদের রপ্তানি নির্ভর অর্থনীতির দিকে যেতেই হবে। তবে কৃষিকেও সঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান সরকারের মেয়াদকালের প্রথম বছর কৃষিতে ঋণের যোগানের পরিমান ছিলো দশ হাজার কোটি টাকার নীচে। ২০০৯ সালে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো কৃষি ঋণ দেয় মোট ৯ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা। কিন্তু চলতি বছর কৃষি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২০ হাজার ৪শ কোটি টাকা। অর্থাৎ দশ বছরের ব্যবধানে দ্বিগুন হয়েছে কৃষি খাতের ঋণ।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক দেবাশীষ চক্রবর্তী বলেন, কৃষি আমাদের অর্থনীতির বড় খাত। এখানে এখনও বিপুল সংখ্যক মানুষ কাজ করছি। একটি হিসেব বলছে, এখনও ৪০ শতাংশের বেশি মানুষ এই খাতের সঙ্গে জড়িত। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও এটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই আমরা প্রতি বছর কৃষিতে ঋণের যোগান বাড়াতে ব্যাংকগুলোতে উৎসাহিত করছি।

তবে প্রতি বছর কৃষিঋণ বিতরণ বাড়লেও অনেক সময়ই অভিযোগ ওঠে অনেক প্রকৃত কৃষক ঋণ পান না। বা ঋণ পেলেও তাদের নানা ভোগান্তি পোহাতে হয়।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত