প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা কতটুকু প্রাসঙ্গিক : ড. সা’দত হুসাইন

আশিক রহমান : সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. সা’দত হুসাইন বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে অনেক যুক্তি থাকলেও রাস্তার আন্দোলন দিয়ে এই ব্যবস্থা পুনঃরুদ্ধার করতে যে জনসম্পৃক্ততার প্রয়োজন পড়ে এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের যে কৌশল অবলম্বন করতে হয়, ২০ দলীয় জোট সেই কৌশল উদ্ভাবন করতে পারেনি, জনসম্পৃক্ততার অভাব ছিল।

আমাদের অর্থনীতিকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এর কারণ হয়তোবা জোটের কোনো অংশগ্রহণকারী দলের বুদ্ধি, পরামর্শ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল। বিএনপির সেই কৌশল কার্যকর না হওয়ায় নির্বাচনের পরদিন হঠাৎ করে আন্দোলন বন্ধ করে বিজীতের ভূমিকায় চলে যায়। ফলে তাদের ওই পরাজয় সংগঠনের মারাত্বক বিপর্যয় ডেকে আনে। তিনি আরও বলেন, পরবর্তীকালে বিএনপির এই মূল দাবি (তত্ত্বাবধায়ক সরকার) থেকে সরে আসে। এখন তারা নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থার কথা বলে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বদলে সহায়ক সরকারের কথা বলে, কিন্তু তা সুস্পষ্টভাবে ব্যাখায়িত নয়। বিএনপি সমর্থক অনেকেই মনে করেন, সহায়ক সরকারের রূপরেখা প্রকাশিত হওয়া উচিত। তবে এটি কবে প্রকাশ হবে তা ২০ দলীয় জোটই ভালো বলতে পারবে, বিশ্লেষকদের তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।

ড. সা’দত হুসাইন বলেন, সাধারণ ভোটারদের মূল দাবি, একটি নিরপেক্ষ কর্তৃপক্ষের আওতায় সব দলের অংশগ্রহণধর্মী একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। গ্রহণযোগ্য কর্তৃপক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের সংজ্ঞা কী হবে দুই দলের (আওয়ামী লীগ-বিএনপি) আলাপ-আলোচনায় তা নির্ধারিত হতে পারে। এ ব্যাপারে যে সমঝোতা হবে তাই জাতীয় নির্বাচনের মূল … নীতি হিসেবে গৃহীত হতে পারে। তিনি বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের মূল দাবি ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আওতায় জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান। যদিও ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগই তত্ত্বাধায়ক সরকারের দাবি উত্থাপন করেছিল। এবং দাবি আদায়ে সোচ্চার ছিল। তবুও ২০১১ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার সংবিধান সংশোধনক্রমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার দাবি আক্রে ধরে। কারণ তাদের ধারণা ছিল, সংবিধান সংশোধন করে দলীয় সরকারের আওতায় নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছিল তাতে তারা সুবিধা করতে পারবে না। নিজেদের এবং অন্য শাসকদের অভিজ্ঞতায় তারা ভালোভাবে জেনেছে যে, দলীয় সরকারের আওতায় নির্বাচন করে বিরোধী দল জয়ী হতে পারে না। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে একদিকে তারা জয়ী হতে পারবে না, অন্যদিকে সংবিধান সংশোধন বৈধতা পেয়ে যাবে। তারা এই বৈধতা দিতে রাজি ছিল না। নির্বাচনের বিপক্ষে তারা যে আন্দোলন করেছিল সেই আন্দোলনের ডিজাইন বা আঙ্গিক কতদূর কার্যকর ছিল সেটি পর্যালোচনার দাবি রাখে বলেও মনে করেন এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত