প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আগুন নেভাতে পাওয়া যায় না গ্যাস-বিদ্যুৎ সংস্থাগুলোকে, অভিযোগ ফায়ার সার্ভিসের

হ্যাপী আক্তার : মুহূর্তেই সর্বশান্ত করে দেওয়া এক দুর্যোগের নাম- অগ্নিকাণ্ড। রাজধানী ঢাকার মতো জনবহুল ও ঘিঞ্জি শহরের বাসিন্দাদের জন্য আগুন এক আতঙ্কের নাম। আগুন লাগার পর ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসকে যত দ্রুত পাওয়া যায় ঠিক সেভাবে পাওয়া না গ্যাস ও বিদ্যুতের মতো সেবা সংস্থাগুলোকে। এ কারণে আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয় দমকলকর্মীদের। সম্প্রতি মিরপুরের বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এমনটাই অভিযোগ করেছে ফায়ার সার্ভিস।

আগুন লাগার পর সবার আগে ছুটে যান দমকলকর্মীরা। কিন্তু দুর্ঘটনা কবলিত স্থানে যদি গ্যাস ও বিদ্যুতের লাইন দ্রুত বন্ধ করা না যায়, তবে সেই আগুন সব ভয়াবহতা ছাড়িয়ে যায়। ঠিক এমনটিই ঘটেছে সম্প্রতি মিরপুরের বস্তির আগুনে। সেবা সংস্থাগুলো বিশেষ করে তিতাসের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এনেছে ফায়ার সার্ভিস।

ঢাকা ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মামুন মাহমুদ বলেন, ‘গ্যাস থাকার কারণে আগুন নিভাতে বেগ পেতে হয়েছে। আরো আগে যদি আমরা সাড়া পেতাম, তাহলে অনেক আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হতাম।’

অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের বক্তব্য জানিয়েছে- তিতাস।

তিতাসেরে অপারেশন পরিচালক এইচ এম আলী আশরাফ বলেন, ‘আমার জানা মতে, যেখানে আগুন ধরেছে সেখানকার অনেক ঘরে গ্যাস সংযোগ নেই। আমরা লিয়ারেজ বাসাগুলোয় গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দিয়েছি। সুতরাং গ্যাস থেকে আগুন ধরে নি।’

যদিও মিরপুরের ওই বস্তি ঘুরে একাধিক পুড়ে যাওয়া ঘরে গ্যাসের সংযোগ দেখা গেছে। তবে সেটি অবৈধ সংযোগ কি না তা হয়ত অন্য গল্প।

একদিকে দমকল বাহিনীর অভিযোগ অন্যদিকে তিতাসের অস্বীকার। এরমধ্যে কোনো দায়িত্ব এড়ানোর বিষয় রয়েছে কি না সেটি হয়ত অনুসন্ধানের বিষয়। তবে যা হয়েছে তা হলো ইতোমধ্যেই মিরপুরে আগুনে পুড়ে ঘরহারা হয়েছেন ২০ হাজার মানুষ।

নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সব সেবা সংস্থার সমন্বয়ে একটি মনিটরিং টিম গঠন করা উচিত। যারা দুর্যোগে একসাথে কাজ করবে।

নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবিব বলেন, মিরপুরের আগুন লাগার ঘটনায় একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে তা হলো, যদি ফায়ার সার্ভিস ও তিতাস একসাথে যৌথভাবে কাজ করতে পারতো তবে আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা যেতো। সমন্বিতভাবে দুর্যোগ মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকারও করেছেন অনেকে।

ডেসকোর রুপনগর বিক্রয় বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম শাহ সুলতান বলেন, ‘সব সংস্থাকে যদি একই ছাদের নিচে পাওয়া যেতো তাহলে আরো ভালো ফল পাওয়া যেত।’

অবশ্য অনেকেই বলেন, এ ধরণের চিন্তাভাবনা করা হয়েছে অনেক আগেই। সমন্বিতভাবে দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য কমিটিও আছে। তবে সেই কমিটি কোথায় কীভাবে কখন কাজ করে বা কমিটির সঙ্গে যোগাযোগের উপায়ইবা কি তা অন্তত জনসাধারণ জানেন না। সূত্র : সময় টিভি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত