প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নির্বাচনী বছরেও বেপরোয়া ছাত্রলীগ

ডেস্ক রিপোর্ট : চলতি বছরের শেষ কিংবা আগামী বছরের শুরুতেই অনুষ্ঠিত হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। অন্য যে কোনো নির্বাচনের চেয়ে এবারের নির্বাচনের বাড়তি গুরুত্ব রয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন জেলা ও মহানগর সফর শুরু করেছেন। নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট চাচ্ছেন তিনি। দলটির নেতাকর্মীরাও উন্নয়নের ফিরিস্তি আর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরছেন সাধারণ মানুষের কাছে। কিন্তু ব্যতিক্রম দলটির ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। আগামী ৩১ মার্চের সম্মেলন নিয়ে নানা নাটকীয়তার পাশাপাশি দিন দিন প্রকাশ পাচ্ছে সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ কোন্দলও।

৩১ মার্চ ছাত্রলীগের সম্মেলন হচ্ছে না, পরে যথাসময়ে সম্মেলন হবে। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদ থেকে এমন ঘোষণা আসার একদিন পরই ছাত্রলীগের সম্মেলনপ্রত্যাশী দুই নেতা ও এক সমর্থককে মারধর করেছে সম্মেলন না চাওয়া ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হলে খাওয়া-দাওয়া শেষে হল থেকে বের হওয়ার সময় তাদের মারধর করা হয়। মারধরের শিকার ছাত্রলীগের দুই নেতা হলেন সূর্যসেন হল ছাত্রলীগের সাবেক শিক্ষা ও পাঠচক্রবিষয়ক সম্পাদক মিশকাত হোসেন ও সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্রলীগের সহসভাপতি এসএম কামাল উদ্দিন। এ ছাড়া ছাত্রলীগের সমর্থক স্যার এএফ রহমান হলের সাগর রহমানকেও মারধর করা হয়। হামলায় মিশকাত ও সাগরের মাথা ফেটে যায়। এ ছাড়া কামালও আঘাতপ্রাপ্ত হন। হামলায় অংশ নেয় সূর্যসেন হল শাখা ছাত্রলীগের উপদপ্তর সম্পাদক ইমরান হোসেন সাগর, উপকর্মসূচিবিষয়ক সম্পাদক রাসেল রানা সোহেল, উপক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক আসাদ আহমেদ, সারওয়ারসহ ছাত্রলীগের ২০-২৫ নেতাকর্মী। তারা সবাই সূর্যসেন হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সারওয়ার আহমেদের অনুসারী। আহতদের মধ্যে মিশকাত ও সাগরকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন ডাক্তাররা।

এসএম কামাল উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা তিন বন্ধু মিলে খাওয়া-দাওয়া শেষে সূর্যসেন হল থেকে বের হচ্ছিলাম। এমন সময় এই হলের ছাত্রলীগের সভাপতি সারোয়ার আহমেদের অনুসারী ২০-২৫ নেতাকর্মী সাগরের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। সাগরকে বাঁচাতে গেলে আমরাও আক্রমণের শিকার হই। সূর্যসেন হল গেট থেকে মারতে মারতে তারা মল চত্বরে নিয়ে আসে। এ সময় সাগর ও মিশকাতের মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে হামলাকারীরা। এতে তাদের মাথা ফেটে যায়।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার রাতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ বাধে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীদের মধ্যে। শহীদ আবদুল হামিদ হলের এ ঘটনায় আট নেতাকর্মী আহত হন। ঘটনার পর রুয়েট ছাত্রলীগ কমিটির সব কার্যক্রম স্থগিত করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এক সিনিয়র ছাত্রলীগ নেতাকে সম্মান না দেখানোর অভিযোগ নিয়ে রাতে জটিলতার সূত্রপাত হয়। এর পর কথা কাটাকাটি থেকে তা সংঘর্ষে গড়ায়। হলের ভেতরে সংঘর্ষ চলাকালে তিনটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। পরে আহত অবস্থায় আটজনকে নেওয়া হয় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

এর আগে গত ৭ ফেব্রুয়ারি রাতে ক্যালকুলেটর ফেরত চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী এহসান রফিককে মারধর করে হল শাখা ছাত্রলীগের বেশ কয়েক কর্মী। পরে তাকে হল থেকে বের করে দেন ছাত্রলীগের সহসভাপতি আরিফুল ইসলাম। এর পর এহসান হল গেট দিয়ে বের হতে গেলে সেখানে তারা আবার তাকে মারধর করে। এতে তার বাঁ চোখের কর্নিয়া নষ্ট হয়ে যায়। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হল সভাপতি তাহসান আহমেদ রাসেলের কক্ষে আটকে রাখা হয়। ঘটনার পরদিন ভোরে সেখান থেকে পালিয়ে যান এহসান। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করে পরিবার। এ ঘটনায় ব্যাপক সমালোচিত হয় ছাত্রলীগ। এখনো নিশ্চিত নয় এহসানের চোখ ভালো হবে কিনা। এহসান রফিককে নির্যাতন করার ঘটনায় হল ছাত্রলীগের সাত নেতাকর্মীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের সুপারিশ করেছে ডিসিপ্লিনারি বোর্ড। তাদের বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শৃঙ্খলা বোর্ডের এক সভায় বহিষ্কারের এই সুপারিশ করা হয়। পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় বহিষ্কার আদেশের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার ঢাবির ফজলুল হক মুসলিম হলে এক শিক্ষার্থীকে মারধর করে হল শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। মারধরের শিকার সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী কাউসার আলী। তার নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। বমি হয়েছে কয়েক দফা। পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মারধরকারীরা হলেন হল শাখা ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদক অভি, দপ্তর সম্পাদক এনায়েতসহ বেশ কয়েকজন। মারধরকারীরা সবাই শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহরিয়ার সিদ্দিক শিশিরের অনুসারী।

এদিকে ময়মনসিংহে ১৩ দিন আগে গুলিবিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা আশফাক আল রাফী শাওনের মৃত্যু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি শাওনের বাবা এমএ কুদ্দুস জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে শহরের মৃত্যুঞ্জয় স্কুলের সামনে গুলিবিদ্ধ হন শাওন। এর পর স্থানীয়রা তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় আনা হয়। কে বা কারা শাওনকে গুলি করেছে তা জানা যায়নি। তবে পুলিশর ধারণা, অভ্যন্তরীণ কোন্দলে শাওনকে গুলি করা হয়ে থাকতে পারে।

সার্বিক বিষয়ে কথা বলেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন। আমাদের সময়কে তিনি বলেন, ছাত্রলীগ কখনই অপরাধীদের প্রশয় দেয় না। অনেক সময় ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব সংগঠনের কাঁধে পড়ে। এর পরও আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিই। তিনি আরও বলেন, সাংগঠনিকভাবে ছাত্রলীগ অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে ঐক্যবদ্ধ। কিছু অনুপ্রবেশকারী বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করলেও তাদের চিহ্নিত করে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। আগামী নির্বাচনে দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষায় ছাত্রলীগের ভূমিকা অবশ্যই প্রশংসনীয় হবে। ইতোমধ্যে আমরা পরিকল্পনা মাফিক কাজ শুরু করে দিয়েছি বলেও জানান জাকির। সূত্র : আমাদের সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত