প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন

মো. কামাল হোসেন: ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দিবসটি ঘিরে দিনভর নানা কর্মসূচি পালন করছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।

বুধবার (৭ মার্চ) সকাল সাতটার দিকে দিবসটি উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, এরপর সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি। পরে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও দলীয় প্রধান হিসেবে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান শেখ হাসিনা।

এর পর দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান নেতা কর্মীরা। এসময় সেখানে তারা ১ মিনিট নিরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

এর আগে ভোর সাড়ে ৬টায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবন ও ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউর দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ৭ই মার্চ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা একই সূত্রে গাঁথা।

এদিকে ৭ই মার্চ উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভার আয়োজন করেছে আওয়ামী লীগ। সেই সভায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

৭ই মার্চের ভাষণ বিশ্ব প্রামাণ্য দলিল হিসেবে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার পর প্রথমবারের মতো দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করতে দেয়নি তখনকার পাকিস্তান সরকার। প্রায় সাড়ে ৪৬ বছর পর বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণ অমূল্য বিশ্বসম্পদ ও ঐতিহ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করে তা সংরক্ষণ করার এবং বিশ্বকে জানানোর দায়িত্ব নিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (ইউনেসকো)।

‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’, ‘মনে রাখবা-রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেব; এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাল্লা’-১৯৭১ সালের অগ্নিঝরা মার্চের ৭ তারিখ বঙ্গবন্ধুর সেই মহাকাব্যিক দৃপ্ত উচ্চারণ আগে থেকে লেখা ছিল না। বরং তা ছিল মুক্তিকামী বাঙালির প্রতি বঙ্গবন্ধুর দিকনির্দেশনামূলক এক তাৎক্ষণিক ভাষণ।

বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক ভাষণকে গত বছর ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টার’-এ স্থান দিয়েছে ইউনেসকো। এ প্রসঙ্গে ইউনেসকো তার ওয়েবসাইটে লিখেছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই বাংলাদেশের জনগণকে স্বাধীনতার দিকে নিয়ে গিয়েছিলেন। ১৯৭০ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বাঙালি জাতীয়তাবাদী নেতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও পাকিস্তানি সামরিক শাসকরা ক্ষমতা হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণ ছিল কার্যত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা।

ইউনেসকো তার ওয়েবসাইটে আরো লিখেছে, উপনিবেশ থেকে মুক্ত হওয়া জাতিরাষ্ট্রগুলো অংশগ্রহণমূলক ও গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনে ব্যর্থ হয়ে কিভাবে বিভিন্ন নৃতাত্ত্বিক, সাংস্কৃতিক, ভাষাগত বা ধর্মীয় সম্প্রদায়ের জনগণকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে, তার যথার্থ প্রামাণ্য দলিল বঙ্গবন্ধুর ভাষণ। বঙ্গবন্ধুর ওই ভাষণ ছিল তাৎক্ষণিক, লেখা দেখে তিনি ভাষণ দেননি। তবে তার ওই ভাষণ অডিও ও অডিও ভিজ্যুয়াল (এভি) সংস্করণে এখনো টিকে আছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত