প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কঠিন চ্যালেঞ্জে সরকার

ডেস্ক রিপোর্ট : ধারাবাহিক প্রশ্নপত্র ফাঁসে তীব্র সমালোচনার মুখে সরকার। ২ এপ্রিল ‘এইচএসসি ও সমমান’ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এর পর নভেম্বরে আছে স্কুল-মাদ্রাসার পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির সমাপনী। এসব পরীক্ষায় দায়িত্বশীল মন্ত্রণালয়ের জন্য আসছে কঠিন চ্যালেঞ্জ।
সরকারের মেয়াদপূর্তির শেষ বছর। ‘শেষ ভালো যার, সব ভালো তার’ প্রবাদ স্মরণে রেখেই আটঘাট বেঁধে প্রস্তুতি চলছে মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর এবং শিক্ষা বোর্ডে। চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে বিগত সময়ে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের তথ্য-উপাত্ত।

আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সম্পর্কে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে পরীক্ষাপদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষক, অভিভাবকসহ সবার সহযোগিতা চাই। আপনারা (গণমাধ্যম) আমাদের সহযোগিতা করেন।
মন্ত্রী প্রশ্নপত্র ফাঁস সমস্যার সমাধানের বিষয়ে বলেন, সেটা আমাদের একার নয়, কাজটা করতে হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও। তারাও আমাদের সঙ্গে আছে। সব মিলিয়ে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে বিভিন্ন প্রস্তাব পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিদিনই নতুন কিছু ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে আমরা চেষ্টা করছি, আগামী এইচএসসি পরীক্ষায় বড় পরিবর্তনে যাব না। সেখানেও কিছু ব্যবস্থা নিচ্ছি, যেগুলো আগে নিইনি। এতে আশা করছি, সেটি বেশি কার্যকর হবে। এর পরের পরীক্ষায় আরও বড় ধরনের পরিবর্তন আনব।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আমাদের সময়কে জানান, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার শুরুর আর মাত্র ত্রিশ দিন বাকি। এই সময়ের মধ্যে আকাশ-পাতাল পরিবর্তনে যাওয়ার সুযোগ নেই। এর পরও যতদূর সম্ভব কিছু কৌশল অবলম্বন করা হবে। সবকিছু খোলাসা করে বলা যাবে না। কারণ চোর তো সবসময় গৃহস্থকে পাহারা দেয়। আমরা প্রকাশ করলে চোরও উপায় খুঁজে নেবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ও বেশ সতর্কতার সঙ্গে প্রাথমিক ও এবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। তিনি বলেন, বিগত সময়ের চেয়ে এবার আরও বেশি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারণ এটি সরকারের শেষ বছর। এর সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের সাফল্য-ব্যর্থতা জড়িত। প্রায় ৩০ লাখ শিশু প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেয়। আমাদের নিজস্ব বোর্ড নেই। এর পরও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা ও অধিদপ্তর এ বৃহৎ পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করে আসছে। সাম্প্রতিক ঘটনা থেকে আমরা শিক্ষা নিয়েছি। আমাদের জন্যও চ্যালেঞ্জ প্রশ্নফাঁসহীন পরীক্ষা নেওয়া।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন বলেন, এমন কোনো পদ্ধতি নেই, যা প্রয়োগ করিনি। কিন্তু কোনো পদ্ধতিতেই প্রশ্নফাঁস রোধ করা যায়নি। বিদ্যমান পদ্ধতিতে প্রশ্নফাঁস রোধ করা সম্ভব হবে বলে আমার মনে হয় না।
সচিব বলেন, প্রশ্নপত্র তৈরি করা থেকে বিতরণ পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে প্রায় ৩০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী যুক্ত রয়েছেন। এর মধ্যে যে কোনো একজন যদি অসৎ কাজ করে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে, তা হলে আমাদের গোটা প্রক্রিয়াই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। বিশাল এ কর্মযজ্ঞের মধ্যে কোথাও না কোথাও একটু ব্যত্যয় হচ্ছে।
সোহরাব হোসাইন জানান, আগামী এইচএসসি পরীক্ষায় কতটুকু পরিবর্তন করার সুযোগ আছে, এখন মাত্র একমাস বাকি পরীক্ষা শুরুর। বিগত প্রশ্নফাঁসের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। সম্ভাব্য সব ধরনের ছিদ্র বন্ধের ব্যবস্থা হচ্ছে। তবে আগামী বছর এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা থেকে একটি নতুন পদ্ধতি চালুর বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছি। বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। আশা করি, আগামী বছর থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করা সম্ভব হবে। অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে। এ জন্য কিছু করা যায় কিনা, তা-ও ভাবছি।
শিক্ষাবিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ধারাবাহিক প্রশ্নপত্র ফাঁসে সমালোচিত হয়েছে সরকার। আগামীর পরীক্ষাগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং দায়িত্বশীলদের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ। কারণ সরকারের মেয়াদের এটি শেষ বছর। এর সঙ্গে সরকারের ভাবমূর্তি জড়িত। পরীক্ষা সঙ্গে যারা আছে, তাদের জন্য বড় চ্যলেঞ্জ হবে প্রশ্নপত্র ফাঁসহীন ওই পরীক্ষাগুলো নেওয়া।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগামী ২ এপ্রিল শুরু হবে। তত্ত্বীয় পরীক্ষা চলবে ১৩ মে পর্যন্ত। বেশ কয়েক বছর ধরে ১ এপ্রিল থেকে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হলেও এবার এপ্রিলের প্রথম দিন ইস্টার সানডের বন্ধ থাকায় ২ এপ্রিল থেকে এই পরীক্ষা শুরু হবে। সূচি অনুযায়ী, ১৪ থেকে ৩০ মে হবে ব্যবহারিক পরীক্ষা।
সদ্যসমাপ্ত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সরকার প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে এসএসসি পরীক্ষা শুরুর এক সপ্তাহ আগে থেকেই কোচিং সেন্টার বন্ধ; পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর আধাঘণ্টা আগে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের বাধ্যবাধকতা; কেন্দ্র সচিব ছাড়া অন্য কারো কাছেই মোবাইল থাকা যাবে না; কেন্দ্র সচিবেরও স্মার্টফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা; ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয় বিটিআরসি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নজরদারি; এমনকি পরীক্ষা চলাকালে ইন্টারনেটের গতি সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর পর ছিল প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের ধরিয়ে দিলে ৫ লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা। এতকিছুর পরও বন্ধ করা যায়নি প্রশ্নপত্র ফাঁস। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৫৩ জনকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর মধ্যে পরীক্ষার্থী, কোচিং শিক্ষক, অভিভাবক, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও স্কুল শিক্ষকও রয়েছেন।
গত ১ ফেব্রুয়ারি বাংলা প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্র ফাঁসের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এর পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনসহ দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর হয়ে উঠলেও ঠেকানো যায়নি প্রশ্নফাঁস। অন্তত ১২ বিষয়ের প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। শেষ পর্যন্ত প্রশ্নপত্র ফাঁসের রেকর্ড গড়েই ২৪ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছে পরীক্ষার তত্ত্বীয় অংশ। সূত্র : দৈনিক আমাদের সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত