প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ক্লিনটনের প্রেমে ছিল ক্ষমতার অপব্যবহার

ডেস্ক রিপোর্ট : হোয়াইট হাউসের সাবেক ইন্টার্ন মনিকা লিউনস্কি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন তার সঙ্গে যে সম্পর্কের কারণে অভিশংসনের মুখোমুখি হয়েছিলেন, তা স্রেফ যৌন হেনস্থা ছিল না, ছিল ক্ষমতার বড় ধরনের অপব্যবহার।

ভ্যানিটি ফেয়ার সাময়িকীর মার্চের সংস্করণে ক্লিনটনের সঙ্গে সম্পর্ক এবং যৌন নিপীড়নবিরোধী আন্দোলন নিয়ে একটি স্মৃতিকথা লিখেছেন মনিকা। সেখানে তিনি বলেছেন, আরও অনেক নারী-পুরুষ আছেন, যাদের নিপীড়নের গল্পগুলো আমার গল্পটির আগেই শোনা উচিত। যৌন নিপীড়নবিরোধী আন্দোলন ‘#মি টু’ এর এক নেতা যখন তাকে বলেন, আমি খুবই দুঃখিত যে তখন তুমি একা ছিলে, তখন মনিকা আবেগে অশ্রু ধরে রাখতে পারেননি বলে স্মৃতিকথায় উল্লেখ করেছেন।

লিউনস্কি তার নিবন্ধের শিরোনাম দিয়েছেন ‘ইমার্জিং ফ্রম দ্য হাউস অব গ্যাসলাইট ইন দ্য এইজ অব #মিটু’। খবর বিবিসি।

বার্তা সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৯৮ সালে ওভাল অফিসে ক্লিনটন-লিউনস্কির যখন যৌন সম্পর্ক স্থাপিত হয়, তখন মনিকার বয়স ছিল মাত্র ২২ বছর। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ক্লিনটনের বয়স তখন ৪৯। তাদের গোপন সম্পর্কের খবর ফাঁস হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ওই সম্পর্ক নিয়ে মিথ্যা বলায় প্রেসিডেন্ট ক্লিনটনকে সে সময় অভিসংশনের হুমকিতেও পড়তে হয়।

নিবন্ধে মনিকা লিখেছেন, ওই কেলেঙ্কারির পর পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারে ভুগতে হয়েছিল তার। যেভাবে ওই প্রেমের খবর সংবাদপত্র আর আদালতের শুনানিতে আসছিল, তাতে করে রীতিমতো একঘরে হয়ে যেতে হয়েছিল তার।

তাদের সেই প্রেম ছিল ১৯৯৮ ও ১৯৯৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমের সবচেয়ে বড় খবর। প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন শুরুতে অস্বীকার করলেও এক পর্যায়ে স্বীকার করে নেন যে হোয়াইট হাউসের একজন সাবেক ইন্টার্নের সঙ্গে তার ‘অন্তরঙ্গ সম্পর্ক’ হয়েছিল, যা উচিত হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের রিপাবলিকান সদস্যরা এর পর প্রেসিডেন্টের অভিসংশনের দাবি তোলেন। তার অভিযোগ ছিল, প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন পরে স্বীকার করে নিলেও শুরুতে ফেডারেল তদন্তকারীদের কাছে মিথ্যা বলেছিলেন। অবশ্য শেষ পর্যন্ত অভিসংশনের মুখে পড়তে হয়নি তার এবং ২০০১ সাল পর্যন্ত অর্থাৎ পুরো মেয়াদই তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেশ পরিচালনা করেছিলেন।

বর্তমানে ৪৪ বছর বয়সী মনিকা লিউনস্কি ভ্যানিটি ফেয়ারের নিবন্ধে আরও লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট ক্লিনটনের সঙ্গে ওই গোপন প্রেমের সম্পর্ক যে সম্মতির ভিত্তিতে হয়েছিল, তা তিনি স্বীকার করেন। কিন্তু সে সময় দুজনের মধ্যে বয়স আর ক্ষমতার যে বিস্তর ব্যবধান ছিল, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। এর পরিণতি কী হতে পারে, সে বিষয়ে অপেক্ষাকৃত তরুণ লিউনস্কির সে সময় ধারণা ছিল না বলে নিবন্ধে লিখেছেন তিনি।

মনিকা লিখেছেনÑ তিনি (ক্লিনটন) ছিলেন আমার বস। তখন তিনিই ছিলেন এই পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাবান ব্যক্তি। আমার চেয়ে তিনি ২৭ বছরের বড়, জীবন সম্পর্কে যার অভিজ্ঞতা ছিল আমার চেয়ে ঢের বেশি। নারীরা এখন যেভাবে নিজেদের যৌন নিগ্রহের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রতিবাদী হচ্ছেন, তা নিয়েও ভ্যানিটি ফেয়ারের ওই নিবন্ধে লিখেছেন লিউনস্কি।

তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, ওই ঘটনার পর থেকে আমি যা শিখেছি তা হলো, একজন মানুষ তার নিজের কাছ থেকে, নিজের অভিজ্ঞতার কাছ থেকে পালাতে পারে না। পরিবর্তে আমাদের অতীতের সঙ্গে বর্তমানকে মিলিয়ে নিতে হয়। নিজের জীবন নিয়ে নতুন করে ভাবতে, নতুনভাবে দেখতে, সেই জীবন বদলে ফেলতে যে ক্ষমতা দরকার, লিউনস্কির ভাষায় সেই ক্ষমতা খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব একটি কাজ। বিশেষ করে তার জন্য, যাকে এমন নিগ্রহের শিকার হতে হয়েছে, যাতে সে ভাবতে বাধ্য হয় যে দোষ প্রকৃতপক্ষে তার নিজেরই।

প্রসঙ্গত ক্লিনটনের সঙ্গে প্রেমের খবর প্রকাশ হয়ে যাওয়ার পর ঝঞ্ঝামুখর কয়েকটা বছর পেরিয়ে নিজেকে অনেকখানি অন্তরালে রেখেছিলেন মনিকা লিউনস্কি। ২০১৪ সালে আবার তিনি সামনে আসেন এবং ওই সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন। সূত্র : দৈনিক আমাদের সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত