প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নেতাদের বাণিজ্যে অসহায় মালিকরা

ডেস্ক রিপোর্ট : ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলরত পুরনো সিএনজি অটোরিকশার মেয়াদ বৃদ্ধি নিয়ে মূলত আন্দোলন করছেন মালিক পর্যায়ের সংগঠনের নেতারা। আর সাধারণ মালিকরা চাইছেন প্রতিস্থাপন করতে; চালকরাও প্রতিস্থাপনের পক্ষে। কিন্তু নেতারা মেয়াদ বৃদ্ধির দোহাই দিয়ে সাধারণ মালিকদের কাছ থেকে বড় অংকের অর্থ আদায় করছেন বলে মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে সোচ্চার। এ নিয়ে এখন বেকায়দায় রয়েছেন সাধারণ অটোমালিকরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ৯ বছর চলাচলের জন্য আমদানি করা হয় এসব গাড়ি। চলছে ১৫ বছর ধরে। অধিকাংশ গাড়ি রাস্তায় বিকল হয়ে পড়ে। বৃষ্টির দিনে অবস্থা আরও বেগতিক হয়ে পড়ে।

সাধারণ মালিকদের যুক্তি, একটি গাড়ি সিলিংয়ের (রেজিস্ট্রেশনের অনুমোদন) বিপরীতে নতুন গাড়ি প্রতিস্থাপনের আইনত সুযোগ রয়েছে। নতুন গাড়ি পেলে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কম হয়, বাড়ে আয়। এ ছাড়া সরকারের এ সিদ্ধান্ত কখনো পরিবর্তন হলে প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়াও আটকে যেতে পারে। অন্যদিকে পরিবহন নেতারা চাইছেন মেয়াদ আরও ৬ বছর বাড়াতে। এ সুযোগে সাধারণ মালিকদের কাছ থেকে চলছে তাদের চাঁদাবাজি।
বিআরটিএ কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিস্থাপনের আবেদন করলে একই নম্বরে নতুন গাড়ি পরিচালনার সুযোগ রয়েছে। তবে মালিক-নেতাদের চাপে হয়তো অনেকে প্রতিস্থাপনের পরিবর্তে মেয়াদ বৃদ্ধির অপেক্ষা করছেন। প্রতিস্থাপনের জন্য এ পর্যন্ত প্রায় আড়াইশ আবেদন জমা পড়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিআরটিএ চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান আমাদের সময়কে বলেন, সিএনজি অটোরিকশার নতুন করে মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে বুয়েটের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে তিন মাসের দেওয়া সময় ফুরিয়ে যাওয়া গাড়ি আর রাস্তায় নামতে পারবে না। স্ক্রাপের মাধ্যমে প্রতিস্থাপনের আবেদনের সুযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, পুরনো অটোরিকশার মেয়াদ বাড়ানোর প্রক্রিয়া যাচাই করতে বুয়েটকে ফি দিতে হচ্ছে। ২৪ লাখ ৭২ হাজার ৫০০ টাকার অর্ধেক অংশ টেস্ট ফি হিসেবে অগ্রিম দিতে হয়েছে। তবে সংগঠনের নেতারা মেয়াদ বৃদ্ধি নিয়ে অবৈধ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা ইতোমধ্যেই মালিকদের কাছ থেকে এ বাবদ প্রায় ২৫০ কোটি টাকা আদায় করে ফেলেছেন। এমন অন্যায় সুযোগ নিতেই মেয়াদ বাড়ানোর জন্য তারা চাপ দিচ্ছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রথমে মেয়াদ বাড়ানোর বিপক্ষে ছিল বিআরটিএ। কিন্তু ধর্মঘটের পর মেয়াদ সংক্রান্ত ফাইল চালাচালি শুরু হয়। গত ডিসেম্বরে শেষ হওয়া ৮৪২১টি গাড়ির মেয়াদ তিন মাসের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন বর্ধিত করে বিআরটিএ। সেই হিসাবে মার্চেই শেষ হচ্ছে বর্ধিত সেই সময়। জানা গেছে, নতুন করে আর সময় বাড়াবে না বিআরটিএ। অন্যদিকে এ সময়ের মধ্যে বুয়েটের পরীক্ষা শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে এসব গাড়ি আর রাস্তায় চলতে পারবে না।

বিআরটিএ সূত্র জানিয়েছে, বুয়েট চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রদানের ক্ষেত্রে মূলত চারটি বিষয়ে জোর দেবেÑ এক. ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলমান প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুরনো সিএনজি অটোরিকশার মাঠপর্যায়ে কারিগরি সমীক্ষা; দুই. নতুন ও পুরনো চলমান গাড়ির মূল কাঠামো (চেসিস), প্রতিস্থাপনযোগ্য ইঞ্জিন ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট অংশের কারিগরি নিরীক্ষা; তিন. নতুন ও পুরনো চলমান গাড়ির ক্ষেত্রে চালক-যাত্রীর নিরাপত্তার তুলনামূলক পর্যালোচনা এবং চার. আমদানিতব্য নতুন গাড়ির বাজার মূল্যের সঙ্গে চলমান পুরনো গাড়ির লাইফ বৃদ্ধির ব্যয়ের তুলনামূলক পর্যালোচনা।
প্রসঙ্গত, ঢাকা মহানগরীতে বর্তমানে ১২ হাজার ৭১৫টি নিবন্ধিত সিএনজি অটোরিকশা রয়েছে। আরও ৯৩৬টি রয়েছে মিশুকের প্রতিস্থাপন। আর চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলছে ১৩ হাজার সিএনজি অটোরিকশা।সূত্র : দৈনিক আমাদর সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ