প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মশক নিধনে ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ চালু করেছে ডিএসসিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক : এবার চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু জ্বরের প্রাদুর্ভাবের আগেই মশার উপদ্রব কমাতে দুই সপ্তাহব্যাপী ‘স্পেশাল ক্রাশ প্রোগ্রাম’ কর্মসূচি চালু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। বুধবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারম্নকলা অনুষদের সামনে এই কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়।

এই কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেন, নগরের মশা নিয়ন্ত্রণে তারা নিয়মিত কার্যক্রম চালাচ্ছেন। তবে কিছুদিন ধরে মশার উপদ্রব বেড়েছে। নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবন স্বাচ্ছন্দ্যে রাখতে এই কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। আজ থেকে ডিএসসিসির ৫৭টি ওয়ার্ডে টানা দুই সপ্তাহ ধরে মশার ওষুধ ছিটানো হবে। এতে ২৭৮ জন কর্মী ও ৩১৮টি ফগার মেশিন ব্যবহার করা হবে।

ডিএসসিসির মেয়র বলেন, ‘গত বছরের মার্চে ঢাকা শহরে চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এই রোগ আমাদের দেশে একেবারেই নতুন। শুরম্নতে বিষয়টি সম্পর্কে কারও তেমন ধারণাই ছিল না। তাই তা নিয়ন্ত্রণে প্রথম আমাদের অনেকটা সময় লেগেছে। পরবর্তী সময়ে তা ভালোভাবেই মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছি। এবার বর্ষার আগেই আমরা পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নেমেছি। পুরো বর্ষা মৌসুম ধরে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

সাঈদ খোকন বলেন, ‘অন্যান্য সিটি করপোরেশনের তুলনায় ডিএসসিসি এলাকায় মশার উপদ্রব কম। ঘনবসতিপূর্ণ পুরান ঢাকায় আরও কম। তবে কামরাঙ্গীরচর, জুরাইন, যাত্রাবাড়ী, মুগদা, সবুজবাগ, বনশ্রী এলাকায় কিছুটা বেশি। এসব এলাকা ঘিরে ঝোঁপ বা জঙ্গল বেশি থাকায় মশার উপদ্রব বেশি হয়। এবার ওই এলাকাগুলোর দিকে আমাদের আলাদা নজর থাকবে। তবে জনবল সংকটের কারণে ডিএসসিসিতে নতুন যুক্ত হওয়া ইউনিয়নগুলোতে এই কার্যক্রম চালাতে পারছি না। এসব এলাকা থেকে মশা ডিএসসিসি এলাকায় ঢুকছে। তা নিয়ন্ত্রণে আমরা সচেষ্ট থাকব।’ তিনি বলেন, চিকুনগুনিয়া মশা সাধারণত বাসাবাড়িতে ফুলের টব, টায়ার, ফ্রিজ, এসিতে জমে থাকা পানিতে জন্মায়। তা পরিষ্কারে নগরীর প্রতিটি নাগরিককে সচেতন হতে হবে। নিজ বাড়ির আঙিনাও পরিষ্কার রাখতে হবে। তাহলে মশা জন্মাবে না।

ডিএসসিসির মেয়র বলেন, ‘গত বছর চিকুনগুনিয়ায় বহু লোক আক্রান্ত্ম হয়েছিল। তাদের জন্য আমরা হটলাইন নম্বর চালু করেছিলাম। নাগরিকরা চিকিৎসা চেয়ে ফোন করেছেন। ডিএসসিসির চিকিৎসক তাদের বাসাবাড়িতে গিয়ে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, ওষুধ ও ফিজিওথেরাপি দিয়েছেন। এবারও আমাদের সে প্রস্তুতি আছে। তবে আশা করি, এবার চিকুনগুনিয়া নগরীতে ছড়াতে পারবে না।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে মশার ওষুধের মান নিয়ে মেয়রকে প্রশ্ন করেন এক সাংবাদিক। জবাবে সাঈদ খোকন বলেন, মশা মারার জন্য যে ওষুধ ব্যবহার করা হয়, তার মান নিয়ন্ত্রণ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এর চেয়ে কম বা বেশি মানের ওষুধ ব্যবহারের সুযোগ নেই। আর যদি বেশি মানের ওষুধ ব্যবহার করা হয়, তাহলে অন্যান্য কীটপতঙ্গের ক্ষতি হবে। এর গন্ধে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে। তাই নগরীতে যাতে মশা জন্মাতে না পারে, সে জন্য সমাজের প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে।

মশক নিধন কার্যক্রমে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শেখ সালাহউদ্দীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। পরে মশা মারার ফগার মেশিন নিজে চালিয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সাঈদ খোকন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত