প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিজ্ঞানে শিক্ষার্থী কমছে

ডেস্ক রিপোর্ট : ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন ছিল চিকিত্সক হবে। সে স্বপ্ন নিয়ে বেড়ে উঠেছে। কিন্তু নবম শ্রেণিতে উঠেই তার স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় স্কুল কর্তৃপক্ষ। বিজ্ঞান পড়ার সুযোগ দেওয়া হলো না তাকে। অপরাধ সে জিপিএ ৪ দশমিক ৭৯ পেয়েছে। স্কুলের নিয়ম ছেলেদের বিজ্ঞান পড়তে জিপিএ-৫ না লাগলেও মেয়েদের ক্ষেত্রে লাগবে। এই নিয়ম করেছে রাজধানীর মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল কর্তৃপক্ষ।

মেয়ের স্বপ্ন পূরণে নামি স্কুল থেকে সরিয়ে অন্য একটি স্কুলে ভর্তি করে দিলেন বাবা। কিন্তু সব বাবা তো এমনটি করেন না। স্কুলের চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্তে স্বপ্ন ভেঙে যায় অনেক শিক্ষার্থীর। চাপিয়ে দেওয়া বাণিজ্য বা মানবিক বিভাগে পড়তে হয় তাদের।

এই শিক্ষার্থীর বাবা সুমন ইসলামের বক্তব্য, এভাবে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর স্বপ্ন ভেঙে যায়। তিনি জানান, স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাকে জানিয়েছে; যারা বেশি ভালো করবে তারা বিজ্ঞান পড়বে। আর যাদের ফল তুলনামূলকভাবে খারাপ হবে তারা ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিকে পড়বে। তিনি বলেন, খারাপ ছাত্ররা কেন বাণিজ্য পড়বে? বাণিজ্য কি খুবই সহজ? আর বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য পড়ার সিদ্ধান্ত কেন স্কুল কর্তৃপক্ষ চাপিয়ে দেবে?

অর্থনৈতিক অসচ্ছলতার পাশাপাশি সামাজিক প্রতিকূলতা, বিজ্ঞান শিক্ষকের অপ্রতুলতা, ত্রুটিযুক্ত অসামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষাদান পদ্ধতি, ভারসাম্যহীন সিলেবাস, অবকাঠামোগত প্রতিবন্ধকতার কারণে বিজ্ঞানে আগ্রহী হয় না শিক্ষার্থীরা। আবার যারা আগ্রহী হয় তাদের সুযোগ দেয় না স্কুল কর্তৃপক্ষ।

মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুলের মতো নামি অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই শিক্ষার্থীদের স্বপ্নভঙ্গের কারণ। স্কুলে পাসের হার বা জিপিএ-৫ এর সংখ্যা ইত্যাদি যাতে ঠিক থাকে সে জন্য তারা নিজেদের মনগড়া নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগ চাপিয়ে দেয়। এতে কোনো কোনো স্কুলে জিপিএ-৫ পেয়েও অনেকে বিজ্ঞান পড়তে পারে না। আবার অনেক স্কুলে জিপিএ ৩ পেয়েও অনেকে বিজ্ঞান পড়ার সুযোগ পায়। অভিভাবকরা বলছেন, সরকারের পক্ষ থেকে বিজ্ঞানে পড়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়, অথচ বাস্তব চিত্র ভিন্ন। দেশে তুলনামূলকভাবে বিজ্ঞান শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে। মূলত স্কুলগুলোর উল্লেখিত আচরণের কারণেই বিজ্ঞানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে বলে অভিভাবকরা মনে করেন।

শিক্ষা পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০ সালে মাধ্যমিকে মোট এসএসসি পরীক্ষার্থীর মধ্যে বিজ্ঞানের পরীক্ষার্থী ছিল ৪২ দশমিক ৮১ শতাংশ। বেশকিছু উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে ২০১৬ সালে এই সংখ্যা ২৯ দশমিক ০৩ শতাংশে নেমে এসেছে। বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা চলে গেছে ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিকে।

একই বছর অর্থাত্ ১৯৯০ সালে এইচএসসিতে বিজ্ঞান শিক্ষার্থী ছিল ২৮ দশমিক ১৩ শতাংশ। ২০১৬ সালে এই সংখ্যা নেমে আসে ১৮ দশমিক ৯৫ শতাংশে। নবম শ্রেণিতে বিজ্ঞান কম পড়ার প্রভাব পড়েছে উচ্চ শিক্ষার স্তরেও। পরিসংখ্যান বলছে, বিজ্ঞান শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিনদিন হতাশাজনকভাবে কমছে। অন্যদিকে শিক্ষার্থী বাড়ছে ব্যবসায় শিক্ষায়।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, স্কুলের সামর্থ্য বিবেচনায় বিজ্ঞানে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের সুযোগ দেওয়া উচিত। তবে অনেক স্কুলের পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা না থাকায় তারা কম শিক্ষার্থীদের পড়ার সুযোগ দেয়। এ বিষয়ে স্কুলই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। বোর্ড ও শিক্ষা অধিদপ্তর এ বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করে না।ইত্তেফাক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ