প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মহাটেনশনে এরশাদ

রাশিদ রিয়াজ : ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অবদান কম নয়। কিন্তু তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো এখনো সচল। কিভাবে এধরনের রাজনৈতিক শৃঙ্খলের দড়ি ছিড়ে আগামী নির্বাচনে আরো শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাতে পারবেন এ নিয়ে মহাটেনশনে রয়েছেন এরশাদ। তিনি স্বৈরাচার ছিলেন না এমন ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপি কেউ তার ওপর আস্থা রাখতে পারছে না।

জাতীয় পার্টি মোটামুটি এক আজব বিরোধী দল হিসেবে সংসদের মেয়াদে শেষ বছর পার করে দিচ্ছে। শুরুতে রওশন এরশাদ বলেছিলেন, এক নতুন ধরনের বিরোধী দল হিসেবে তারা ভূমিকা পালন করবেন। সংসদ কার্যকর করতে জাপার কোনো ভূমিকা দেখা যায়নি। নিয়ন্ত্রিতভাবে সরকারের সমালোচনার মধ্যে থেকেছে রওশন ও এরশাদের জাতীয় পার্টি। বরং মন্ত্রীত্ব চুটিয়ে উপভোগ করছেন জাপার তিন নেতা। মন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে দেশের জন্যে কি সফলতা বয়ে এনেছেন এরশাদ তার হিসেবে নেয়া ও দেয়ার গরজও কারো নেই। ভরসা সরকারি দলের সুতোয় বাঁধা রয়েছে জাপা।

গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে ভোটারদের মুখোমুখি কি নিয়ে দাঁড়াবেন জাপার নেতারা। কিভাবে দাঁড়াবেন এরশাদ। রওশন এরশাদ বিরোধীদলীয় নেত্রী হিসেবে জাতীয় ইস্যুতে কি ভূমিকা পালন করেছেন? রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকারের পাশেও তো কার্যকর কোনো অবদান রাখতে পারেননি রওশন এরশাদ। এসব নিয়ে টেনশনে আছেন এরশাদ। রয়েছে দল নিয়ে ঘরোয়া দ্বন্দ্ব।

এরশাদ ’৮৬ ও ’৮৮ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে গৃহপালিত বিরোধী দল তৈরি করে ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার কৌশল নিয়েছিলেন। আজ তার দল একই নিয়তি বরণ করেছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের গৃহপালিত বিরোধী দলের নেতা এরশাদ না রওশন হবেন, এ নিয়েও গৃহদাহ রয়েছে। রাজনৈতিক সমর্থন, ভোটারদের আস্থা যে অবশিষ্ট নেই তা অনেক আগেই বুঝে গেছেন দলটির নেতারা। তো সরকারি দলের কাছ থেকে যতটা সুবিধা আদায় করা যায় এ নিয়েই নিজেদের মধ্যে বিভেদ বাড়ছে।

এরফলে রংপুরে যে ভোট ব্যাংক ছিল এরশাদের তাতেও ধস সৃষ্টি হয়েছে। গত উপজেলা নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, রংপুর অঞ্চলেও জাতীয় পার্টির ভিত ধসে পড়েছে। বৃহত্তর রংপুরে মাত্র দুটি উপজেলায় জাতীয় পার্টির প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে একজন কাজী জাফর আহমদের সমর্থক। রংপুর অঞ্চলে বেশির ভাগ উপজেলায় জামায়াতের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। কিছু কিছু স্থানে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থীও বিজয়ী হয়েছেন। বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলে বিএনপি ও জামায়াতের রাজনৈতিক শক্তি বেড়েছে যা এরশাদের আরেক টেনশনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আগামী নির্বাচন নিয়ে এরশাদ আরেক কারণে চিন্তিত কারণ তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো এখনো সচল রয়েছে। চাইলেই এরশাদ স্বাধীনভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত