প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিচার ছাড়া সমাজ হচ্ছে উন্মাদের মেলা

রবিউল আলম : পৃথিবীর সমাজ সভ্যতা ও রাষ্ট্র পরিচালনার একটি দিক নির্দেশনার নাম আইন এবং আইনের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থা। বিচার ছাড়া সমাজ উন্মাদের আকার ধারন করে, মানুষের মনে ভয়-শংকা না থাকলে সমাজের ও রাষ্ট্রের নিরপত্তা নিশ্চিত হবে কি করে? ভয় যদি সকলের মনের অভ্যন্তরেই থাকে, তবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পেতে পারে না। সেই ছোটকাল থেকে শুনে আসছি রাষ্ট্র নাকি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় চলে, জনগণ নাকি সকল ক্ষমতার উৎস, আইনের শাসন সবার জন্য – কত না কথা শুনেছি এবং বিশ্বাস করেছি।

অবাধ্য পাগলের মতো দেশে সুসরকার প্রতিষ্ঠার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছি। বারবার আশা নিয়ে বেঁচে আছি জনগণের একটি সরকার আসবে, একটি সুসরকার আসবে। প্রতি মূহুর্ত মনের মাঝে কত আশা নিয়ে আছি – জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ যারা লুট করবে, করেছে তাদের বিচার একদিন এদেশের মাটিতে হবেই। বিচার হয়েছে, বিচার হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হবে। তবে এমনভাবে একজন মানুষের বিচার হবে এবং খালেদা জিয়াকে আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে এমনটি কখনো আশা করিনি। শত হোক তিনি ম্যাডাম খালেদা জিয়া, আমাদের দেশের তিনবার দাবীদার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। পাগল হোক আর যাই হোক কিছু মানুষ তাকে ভোট দিয়েছিল।

সেই সাধারন মানুষের ভোটের অধিকার নিয়ে বেগম খালেদা জিয়া এতিমের টাকা আত্মসাৎ করবে তা কখনো কল্পনাও করি নাই। এতিমতো তার ঘরেই ছিল। কি প্রয়োজন ছিল নিজে স্বাক্ষর করে টাকা উঠানো। বিচার কি আর খালেদা জিয়ার হয়েছে, বিচার হয়েছে আমাদের। আমরা যারা ভোটের মাধ্যমে তাকে ক্ষমতার অধিকারী করে এতিমের টাকা চুরি করার সুযোগ করে দিয়েছি। এ কারনে বিচার আমাদের হওয়া উচিত ছিল এবং বিচার আমাদের হয়েছে। প্রতিটি অন্যায়ের সাজা হওয়া দরকার। আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশী তাকে দেব।

তাই বলে কি চোর-ডাকাত-ছেচ্চড় সবাইকে ভোট দিতে হবে? একটি ভোট এদেশের সকল মানুষের আমানত, আমি ইচ্ছে হলেই যাকে খুশী তাকে দিতে পারি না। আমার একটি ভোটে এ দেশের উন্নয়ন হবে, এদেশের জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন হবে, আইনের শাসন বাস্তবায়িত হবে, জনগণের মৌলিক অধিকার সমূহ আদায় হবে, বহির্বিশ্বে দেশের নাম উজ্জ্বল হবে এবং বন্ধুত্ব সম্প্রসারিত হবে। আমার একটি ভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, ইতিহাস উঠে আসবে বিশ্বের দরবারে। কি ইতিহাস নিয়ে আমরা বহির্বিশ্বে যাবো, আমাদের প্রধানমন্ত্রী এতিমের টাকা আত্মসাৎ করেছে, হোক না সাবেক, তবুওতো আমার দেশের।

এ কথা কি আমরা কেউ অস্বীকার করতে পারবো? বাঙ্গালির ইতিহাস গর্বের, যে বাঙ্গালি জাতি একদিন স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়েছে, স্বাধীনতা অর্জণ করেছে, বিশ্বকবি হয়েছে, নোবেল পেয়েছে, অর্থনীতির দিক নির্দেশনা দিয়েছে সকল বিশ্ববাসীকে। তবে মীরজাফরের তালিকায়ও নাম লিখিয়েছে, জাতির জনককে হত্যার তালিকায় বাঙ্গালি ছিল। এবারের চোরের তালিকায় নাম উঠলো বাঙ্গালির, এ লজ্জা ইতিহাসে স্থান করে নিল খালেদা জিয়ার বদৌলতে। আমার মনে হাজারো প্রশ্ন – এটা কেন হল ? অর্থের জন্য রাজনীতি করতে হয় আমাদের মত দিন আনতে পান্তা ফুরোয় ব্যক্তিদের। ম্যাডাম খালদা জিয়া ও তারেক জিয়াদের কি আর টাকার প্রয়োজন হয়, যার স্বামী ছিলেন রাষ্ট্রপতি এবং যার পিতা রাষ্ট্রপতি ও মাতা প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। বাংলাদেশের যে কোন স্থানে দাঁড়ালেই অর্থের প্রয়োজন মিটিয়ে দেয়ার লোকের অভাব হবার কথা নয়। তবুও টাকার ক্ষুধা মিটলো না এবং শেষ পর্যন্ত এতিমের টাকারও প্রয়োজন হলো ডান্ডি ডাইং, কোকো সহ একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক হবার জন্য।

আমাদের দেশের ব্যবসায়িকরা রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়ার জন্য গুনগুন করে। রাজনৈতিক নেতারাও ব্যবসায়ীদের সাথে গুনগুনায়, এক্ষেত্রে ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক ব্যক্তি যদি এক হয়ে যায় তবে সর্বসাধারন যাবে কোথায় ? আমার বড় কষ্ট হয়, মনকে বুঝাতে পারি না, কেন যে রাজনীতি করি ? আমাদের মত ছোট খাট নেতাদের প্রয়োজন হয় বিরোধী দলের কোন কর্মসূচী থাকলে, শক্ত বিরোধী দল থাকলে জনগণের দাবীও আদায় হয়। সরকারের ভুলক্রটিগুলো সংশোধন করা যায়। আমার ব্যক্তিগত মতামত, সরকারের চেয়েও বিরোধী দল জনস্বার্থে বেশি ভূমিকা পালন করতে পারে, যে কারনে সরকারের চাইতে বিরোধী দলের জনপ্রিয়তা বেশী হয়। আওয়ামীলীগ একাধিকবার বিরোধী দলে থেকে পরীক্ষা দিয়েছে এবং পাশও করেছে। আওয়ামীলীগ জানে টাকা দিয়ে আর যা কিছু হোক, রাজনীতি হয়না। রাজনীতির জন্য জনগণের কল্যাণ করতে হয়। এতিমের টাকা দিয়ে কি আর রাজনীতি হয়। এতিমের টাকার জন্য পুরো জাতি আজ কাঠগড়ায়। প্রতিটি রাষ্ট্রে বাঙ্গালিকে আজ জবাবদিহি করতে হচ্ছে।

বাঙ্গালি জাতির অর্জণগুলো আজ ম্লান হয়ে যাচ্ছে। আমাদের দেশের কিছু মানুষ স্বার্থের জন্য অপকর্ম বেশী দিন মনে রাখেনা, টাকার প্রশ্নে তো আরো মনে থাকে না। এই একটি অতি সাধারন কথা আমার ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদককে বোঝাতে চেষ্টা করেছি এবং সফলও হয়েছি। টাকা জীবনের প্রয়োজনে প্রয়োজন। তবে তা কত টাকা, একটি সমাজ ব্যবস্থায় যতটুকু প্রয়োজন। একটা সময়ে দেখা যায় টাকা মানুষের জীবনে অচল হয়ে যায়। খালেদা জিয়ার মত শেখ হাসিনারও যদি টাকার ক্ষুধা উঠে তবে আর থাকলো কি। কার মাধ্যমে আমরা বাঙ্গালি জাতিকে আশার বাণী শোনাব।

বাংলাদেশের উন্নয়ন, জাতির কাছে নির্বাচনি ওয়াদা পূরণের ধরন দেখে বুঝতে কষ্ট হচ্ছে না – শেখ হাসিনার সরকার, বারবার দরকার বাঙ্গালির সম্মান রক্ষার্থে। পরিশেষে হলফ করে বলতে পারি, বিচার ছাড়া সমাজ উন্মাদের মেলা ছাড়া আর কিছুই নয়। খালেদা জিয়ার বিচারের রায়ে হয়তো বাঙ্গালি লজ্জিত হবে, তবে এ লজ্জার প্রয়োজন ছিল।

লেখক : ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব, বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতি
সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত