প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাংলাদেশে প্রতি ৩ জনে একজন ক্যান্সারের ঝুঁকিতে

ডেস্ক রিপোর্ট: দেশে প্রতি ৩ জনের মধ্যে একজনই আছেন মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে। দীর্ঘ মেয়াদী ও ব্যয়বহুল হওয়ায় সবার পক্ষে সঠিক চিকিৎসা নেয়াও সম্ভব হয় না। আর্থিক টানাপড়েনে চিকিৎসা সম্পূর্ণ করতে না পেরে প্রতিবছর মারা যায় কমপক্ষে দেড়লাখ মানুষ। এমন অবস্থায় ক্যান্সার চিকিৎসাকে প্রাধান্য দিয়ে নাগরিকদের বীমার আওতায় আনার সুপারিশ করেছে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা কেন্দ্র ও হাসপাতাল। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, নিশ্চিত করতে হবে সেবা ও গ্রাহকের বীমা দাবি।

হাসপাতালের বিছানায় ক্যান্সারের জীবাণুর সাথে লড়ায়ে জীর্ণ-শীর্ণ শরীর। আর চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে সর্বস্বান্ত রোগীর পরিবার। এ যেন ক্যান্সার আক্রান্তদের নিত্য চিত্র।

রোগ সনাক্তের পর তাৎক্ষণিকভাবে অর্থ জোগাড় করতে না পারায় চিকিৎসা পেতে দেরি হওয়ায়, ঝরে বহু প্রাণ। জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউটের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি বছর নতুন করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় প্রায় আড়াই লাখ মানুষ। আর প্রতিনিয়ত ব্যয় বাড়ায়, চিকিৎসা চালাতে হিমশিম অবস্থা রোগীর স্বজনদের।

এমন অবস্থায় ক্যান্সার চিকিৎসাকে প্রাধান্য দিয়ে বীমা কার্যক্রমের সুপারিশ জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা কেন্দ্র ও হাসপাতালের।

বাংলাদেশ ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক ও অধ্যাপক মোয়াররফ হোসেন বলেন, ‘ক্যান্সার শনাক্ত হবার সঙ্গে সঙ্গেই রোগী চিকিৎসার আওতায় চলে আসে। যদি তার বীমা থাকে তাহলে রোগীর ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য চিন্তা করতে হয় না।’

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বীমার গ্রাহক যেন অধিকার বঞ্চিত না হন, সে ব্যাপারে তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হবে নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের পরিচালক মো. নুরুজ্জামান বলেন, ‘লাভযুক্ত কোম্পানীগুলো এসব ইন্সুরেন্সে করে থাকে। তাই সরকারও যদি এখানে অবদান রাখে তাহলে এটা ভালো ভাবে চালানো যাবে।’

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্স’র উপাচার্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী বলেন, ‘বীমাটা কিভাবে হবে এবং তাদের কাজের গুনাগুন এবং তাদের জবাবদিহিতা। এগুলো যদি না থাকে তাহলে বীমা আত্মঘাতী হয়ে যেতে পারে।’

বীমা প্রতিষ্ঠানের দাবি, এ খাতের প্রচলিত নানা অভিযোগ বিবেচনায় নিয়েই পলিসি সাজাচ্ছেন তারা।

প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. জে. আজিম বলেন, ‘আমরা নেওয়ার সময় বিচারটা করে নেবো। যাতে কোনো অভিযোগ না আসে। আমরা এমন একটা আইন করবো, যাতে বিলের জন্য ঘুরতে না হয়।’

বীমা খাতের ওপর মানুষের আস্থার সংকটের মধ্যেই ক্যান্সার চিকিৎসায় বীমার প্রচলনে যেমন ইতিবাচক আভাস আছে, তেমনি আছে শঙ্কাও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিৎসার মতো মৌলিক অধিকার ও স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে যেন প্রতারণা না হয়, সে ব্যাপার কঠোর হতে হবে কর্তৃপক্ষকে। সূত্র: সময় টিভি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত