প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জাপার মন্ত্রীদের বাদ দিয়ে দিন : প্রধানমন্ত্রীকে রওশন

আসাদুজ্জামান সম্রাট : মন্ত্রিসভা থেকে জাতীয় পার্টির মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের বাদ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন দলটির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ। তিনি বলেছেন, ‘মামনীয় প্রধানমন্ত্রী, দয়া করে আপনার মন্ত্রিসভা থেকে জাতীয় পার্টির মন্ত্রীদের বাদ দিন। আপনি চাইলেই এটা হয়। কেনো চাননা- বুঝিনা। আপনি আমার দলের মন্ত্রীদের বাদ দিলে জাতীয় পার্টি বেঁেচ যেতো। আর তা না হলে আপনি আমাদের দলের সবাইকে মন্ত্রী বানান’। রওশন এরশাদ এসময় আরও বলেন, ‘কোথাও গেলে কথা বলতে পারিনা। লজ্জা লাগে। সাংবাদিকদের সঙ্গেও লজ্জায় কথা বলি না। তাদের এড়িয়ে চলি। তাদের প্রশ্নের জবাব দিতে পারি না। আমরা সরকারি দল না বিরোধীদল পরিস্কার করে কিছু বলতে পারি না। আপনি বিদেশে যান, সেখানে গিয়ে কি বলতে পারেন যে দেশে বিরোধীদল আছে? আমিতো দেশে বিদেশে কোথাও জোর গলায় বলতে পারি না যে জাতীয় পার্টি বিরোধীদল।’

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে রওশন এরশাদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে এসব কথা বলেন। এসময় তিনি যানজট, খাদ্যে ভেজাল, প্রশ্নপত্র ফাঁস, নগরীতে মশার উপদ্রপ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়মসহ নানা ইস্যুতে কথা বলেন। বিরোধীদলীয় নেতার পর আলোচনায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে এই আলোচনায় অংশ নেন- আওয়ামী লীগ নেতা শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এবং জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আসম ফিরোজ। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্টিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো প্রধান বিরোধীদলের আসনে বসে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি। রওশন এরশাদ হন বিরোধীদলীয় নেতা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে জাতীয় পার্টির একজনকে মন্ত্রী এবং দু’জনকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়। বিষটি নিয়ে বরাবরই প্রশ্নের মধ্যে পড়ে বিরোধীদল জাতীয় পার্টি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে এ বিষয়টি তুলে ধরেন রওশন এরশাদ। আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘জাতীয় পার্টি সম্মানের সঙ্গে নেই। কোথাও গেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে পারি না। লজ্জা লাগে। আমরা কি সরকারি দলে নাকি বিরোধী দলে আছি?’ রওশন এরশাদ আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করেছিলাম মন্ত্রিসভা থেকে আমাদের পার্টির সদস্যদের প্রত্যাহার করুন। কিন্তু সেটা হয়নি। এভাবে টানাটানি করে বিরোধী দল হওয়া যায় না। এসময় সংসদে উপস্থিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমাদের নিয়ে বাইরে অনেক কথা হয়। আপনি বলেন বিরোধী দলের দরকার নেই। আমাদের সবাইকে মন্ত্রী বানাইয়া দেন। আমরা বাইরে গেলে নানা কথা হয়। বলে আপনারা কোথায় আছেন সরকারে, না বিরোধী দলে। আমরা বলতে পারি না। কাজেই এটা যদি করতেন তাহলে জাতীয় পার্টি বেঁচে যেত। জাতীয় পার্টি আজ সন্মানের সঙ্গে থাকতে পারতো। জাতীয় পার্টি এখন সন্মানের সঙ্গে নেই।’

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘আরো এক বছর আছে, দেখেন সেটা। আপনি নির্দেশ দিলে মানবে না কে? আপনি তো দিলেন না?’ এসময় প্রধানমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায় ‘আমি তো বলেছিলাম’। জবাবে রওশন এরশাদ বলেন, ‘না দেন নাই, দেন নাই, না. না.. না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কোথাও কথা বলতে পারি না। সাংবাদিকরা ধরলেই বলেন আপনারা কোথায় আছেন। কোথাও কথা বলতে পারি না। লজ্জা লাগে। আমরা সরকারি দল না বিরোধী দল।’ এসময় প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনি বলতে পারেন বিরোধী দল আছে? আমরাও বলতে পারি না।’

রওশন এরশাদ বলেন, পদ্মা সেতু শুরু হয়েছিলো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। এখনও কাজ চলছে। এখন সেখানে বালূ উত্তোলন চলছে। পদ্মা সেতুর আশপাশে অনেকে জায়গা দখল করে হোটেল-মোটেল তৈরি করা হয়েছে। এগুলো তৈরির আনুমতি কে দিয়েছে? কারা দিয়েছে?। এসব হলে পদ্মা সেতু রিস্কের মধ্যে পড়ে যাবে। এগুলো দেখা দরকার। তিনি বলেন, সোনার বাংলাদেশ গড়তে হলে সোনার ছেলে তৈরি করতে হবে। সেটা কোথায় তৈরি হচ্ছে। আজকাল বাচ্চাদের খেলার জন্য কোন মাঠ নেই। সব দখল হয়ে গেছে। খেলাধুলা করতে না পারলে বাচ্চাদের শরীর ভালো থাকে না। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনি সবকিছু মায়ের মমতায় সমাধান করে থাকেন। এখন চাকরি স্থায়ীকরনের জন্য স্বাস্থ্য কর্মীরা যে আন্দোলন করছেন তা সমাধান করে ফেলা উচিত।

খালেদার মামলাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তকমা লাগানোর ষড়যন্ত্র হচ্ছে

খালেদা জিয়ার মামলাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তকমা লাগানোর চেস্টা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। তিনি বলেছেন, বিশ্বে কোথাও নজির নেই একটা মামলায় ১০৯ বার মামলার তারিখ পরিবর্তন হয়। এটা তিনি করেছেন। শিল্পমন্ত্রী বলেন, যারা এই দেশের স্বাধীনতা চাননি, তারাই বিভিন্ন সময় বিভিন্ন আন্দোলন সৃষ্টি করার চেস্টা করে। তিনি বলেন, যখন সারা দেশবাসী দেখছে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে খালেদা জিয়ার কারাদান্ড হয়েছে। সেই মুহুর্তে তারা আন্দোলনের নামে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মত অবস্থা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

আমির হোসেন আমু বলেন, একটা মামলায় কেনো ১০৯ বার তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছিল। মামলার তারিখ পরিবর্তন করতে করতে এমন সময় এসে সাজা নিলেন যখন তার চুরির মামলা ধাঁমাচাপা দিয়ে এটাকে একটা রাজনৈতিক মামলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটানোর সুযোগ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। বিশ্বের কোথাও একটা মামলার এতো বার তারিখ পরিবর্তনের নজির নেই। তারিখ পরিবর্তনের আবেদন যদি কোর্ট নাকোচ করা হতো তাহলে বলা হতো তার প্রতি অবিচার করা হচ্ছে, আইনের শাসন মানা হচ্ছে না। আইনের ব্যতয় ঘটছে। ইত্যাদি অযুহাত দিত। তিনি বলেন, এমন একটা সময় সাজাটা নিলেন যখন মামলাটাকে রাজনৈতিক ‘রং’ মাখানোর চেষ্টা করছেন, সেটা এখন স্পষ্ট।

প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে হবে : জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আসম ফিরোজ আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে। এতে আমরা বিব্রত হচ্ছি। যেকোনও মূল্যে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, মন্ত্রী-এমপি বা যত বড়ই নেতা হোন না কেন কেহই আইনের উর্ধ্বে নই। দুর্নীতি যারা করবেন কেউই রেহাই পাবেন না তা ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় দুর্নীতির কারণে খালেদা জিয়অ আজ কারাগারে। কালো টাকা সাদা করে নিজেই তাঁর দুর্নীতির কথা স্বীকার করেছেন। নির্বাচন বানচালের নামে শত শত মানুষকে তাঁরা পুড়িয়ে হত্যা করেছে। এ কারণে দলটি এখন জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত