প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কোটা ব্যবস্থায় মেধাবীদের চাকরি পাওয়া অনিশ্চিত : আকবর আলি খান

জুয়াইরিয়া ফৌজিয়া : বাংলাদেশে বর্তমানে যে কোটা ব্যবস্থা আছে তাতে মেধাবীদের চাকরী পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আকবর আলি খান। বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি একথা বলেন।

প্রথম শ্রেণীর সরকারী চাকুরীতে সবচেয়ে বেশি রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা কোটা, যেটি ৩০ শতাংশ। ১৯৭১ সালে যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন তাদের সন্তানদের সুবিধা দেবার জন্য প্রথমে এ কোটা চালু করা হয়েছিল। কিন্তু এখন মুক্তিযোদ্ধাদের নাতী-নাতনীদের জন্য এ কোটা প্রযোজ্য হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্কও আছে।

আকবর আলি খান বলেন, বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির সরকারী চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্মূল্যায়ন করা উচিত। কোন পুরষ্কার হিসেবে কোটা ব্যবস্থা চালু করা হয়নি। দেশের অনগ্রসর মানুষকে সুবিধা দেবার জন্যই কোটা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। মুক্তিযোদ্ধাদের কোটায় যে চাকরি সেটা শুধুমাত্র যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং যারা সরকারের কাছ থেকে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাচ্ছেন তাদের সন্তানদের জন্য রাখা যেতে পারে। কিন্তু যারা সচ্ছল সেসব মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের যদি কোটা দেয়া তাহলে তো পুরষ্কার দেয়া হবে। সেটা তো অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর সহায়তা করা হবে না।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সরকারি চাকরিতে এখন ২৫৮ ধরনের কোটা আছে। এ কোটা ব্যবস্থার কারণে অনেক মেধাবী প্রার্থীরা চাকরির পরীক্ষা দিতে রাজী হয় না। ৬৪টি জেলার জন্য কোটা আছে। তারপর সে জেলার ভিত্তিতে মুক্তিযোদ্ধা ট্রাইবাল নানা ধরনের কোটা আছে। এটা আমার কোন আবিষ্কার না। বাংলাদেশ পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন রিফর্মস কমিশনের রিপোর্টে সুস্পষ্টভাবে ২৫৮ ধরনের কোটার বর্ণনা দেয়া আছে। আমাদের সংসদে মহিলাদের জন্য যে আসন, সেটা চিরস্থায়ী ভিত্তিতে করা হয়না। আগামী ১৫ বছর কিংবা ২০ বছর এ ব্যবস্থা থাকবে। তারপর সেটাকে পুনর্মূল্যায়ন করে সময় ঠিক করা হয়। বাংলাদেশে সেই যে ১৯৭২ সালে কোটা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, এরপর এটার কোন মূল্যায়ন করা হয়নি।

হঠাৎ করে কোটা ব্যবস্থা পুরোপুরি তুলে দিলে এটা নিয়ে সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে জানান আকবর আলি খান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার ৩টি পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন রিফর্মস কমিশন স্থাপন করেছিল। ৩টি কমিশনই সুস্পষ্টভাবে বলেছে যে কোটা একেবারে তুলে দেয়া উচিত। তবে হঠাৎ করে কোটা ব্যবস্থা পুরোপুরি তুলে দিলে এটা নিয়ে সমস্যা দেখা দিতে পারে। নারী এবং উপজাতি কোটা পুরোপুরি তুলে দেয়া ঠিক হবে না। তবে কোটা ব্যবস্থা প্রতি ৫ বছর পর মূল্যায়ন করা উচিত। কোটা ব্যবস্থা চাকুরীতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত