প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিদেশী প্রতিষ্ঠানের ৮৮ শতাংশই কর দেয় না

ডেস্ক রিপোর্ট : বাংলাদেশে ব্যবসা রয়েছে বিদেশী মালিকানাধীন এমন ৯০০-এর বেশি প্রতিষ্ঠানের তথ্য পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে মুনাফার অংশ বিদেশে নিয়ে গেলেও সরকারকে রাজস্ব পরিশোধ করছে মাত্র ১০০টির মতো প্রতিষ্ঠান। কিছু প্রতিষ্ঠান দ্বৈত কর পরিহার চুক্তির সুযোগ নিলেও প্রায় ৮৮ শতাংশই আয়কর রিটার্ন না দিয়ে কর পরিশোধ থেকে বিরত থাকছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাসহ তাদেরকে আয়করের আওতায় আনতে নতুন করে উদ্যোগ নিচ্ছে এনবিআর।

বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের অর্থ পাচার রোধে ট্রান্সফার প্রাইসিং সেলের মাধ্যমে এক বছর ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যবসা পরিচালনা করা বিদেশী প্রতিষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহ করছে এনবিআর। বিদেশী কোম্পানির বাংলাদেশে শাখা রয়েছে, এমন প্রতিষ্ঠান ও বিদেশী মালিকানায় দেশে ব্যবসা পরিচালনা করা প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য গত জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত এনবিআরের বোর্ডসভায় উপস্থাপন করা হয়। তাতে বলা হয়, সারা দেশের কর অঞ্চলগুলোর মাধ্যমে প্রাপ্ত ৯২১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮১৪টিই নিয়মিত আয়কর রিটার্ন জমা দেয় না।

কর ফাঁকি ঠেকাতে রিটার্ন জমা না দেয়া বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলোর অফিসে অভিযানের সিদ্ধান্ত হয় সভায়। যারা রিটার্ন জমা দেয়, তাদের লেনদেনও পর্যালোচনা করে দেখার সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী একটি শক্তিশালী টিমও গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিদেশী কোম্পানির অর্থ পাচার রোধে শিগগিরই দৃশ্যমান কার্যক্রম দেখা যাবে বলে জানিয়েছেন এনবিআরের কর্মকর্তারা।

এনবিআরের প্রথম সচিব ও ট্রান্সফার প্রাইসিং সেলের প্রধান সমন্বয়ক শব্বির আহমেদ এ প্রসঙ্গে বণিক বার্তাকে বলেন, দেশে ব্যবসা পরিচালনাকারী বড় বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য পর্যালোচনায় এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছেন সেলের কর্মকর্তারা। ঠিকমতো তথ্য দেয় না, এমন অনেক প্রতিষ্ঠানের নাম সেলের গবেষণায় এসেছে। প্রাথমিকভাবে এসব প্রতিষ্ঠানকে করের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। শিগগিরই এসব প্রতিষ্ঠানের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হবে।

সাধারণত বিদেশী কোম্পানিগুলোর শাখা প্রতিষ্ঠান সুদ, মুনাফা, সম্পদ ও পণ্যের মূল্য মূল কোম্পানিতে পাঠায়। তবে অনেক ক্ষেত্রেই বহুজাতিক কোম্পানির শাখাগুলো মূল কোম্পানির কাছ থেকে কোনো পণ্য নিলে তার দাম অনেক বেশি দেখিয়ে ওই অর্থ বিদেশে পাঠিয়ে দেয়। আবার আমদানির সময় দাম বেশি দেখিয়ে মুনাফা কম দেখানো হয়, যাতে কর কম দিতে হয়। আর কর ফাঁকি দিতে রফতানির ক্ষেত্রেও দাম কম দেখায় কোম্পানিগুলো। আবার শাখা কোম্পানির মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করলেও এনবিআরের কাছে রিটার্নই দিচ্ছে না অনেক প্রতিষ্ঠান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ট্রান্সফার প্রাইসিং সেলের একজন কর্মকর্তা বলেন, রিটার্ন জমা না দেয়া ৮১৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অধিকাংশ তৈরি পোশাক খাতসংশ্লিষ্ট। তথ্যপ্রযুক্তি ও পরামর্শ সেবা খাতের কিছু প্রতিষ্ঠানও রয়েছে এ তালিকায়। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বড় কোনো অভিযান পরিচালনা বা শাস্তি না দিয়ে তাদেরকে করের আওতায় আনাই এনবিআরের প্রধান লক্ষ্য। পরবর্তীতে তাদের লেনদেন পর্যালোচনা করে অর্থ পাচারের বিষয় দেখবে ট্রান্সফার প্রাইসিং সেল। এছাড়া বর্তমানে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, ইউনিলিভার, শেভরন, নেসলে, গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি, এইচএসবিসি, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডসহ নিয়মিত রিটার্ন দেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর লেনদেন তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) সদস্যভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো যেকোনো রেগুলেটরি প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত বলে জানান সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক জামিল ওসমান। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, বাংলাদেশে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে, এমন প্রায় সব বিদেশী প্রতিষ্ঠানই এফআইসিসিআইয়ের সদস্য। এদের প্রত্যেকেই স্থানীয় আইন-কানুনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও কমপ্লায়েন্স অনুসরণ করে এখানে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তথ্য-উপাত্ত চাওয়া হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির পক্ষ থেকে তা সরবরাহ করা হবে।

এফআইসিসিআইয়ের সদস্য নয়, এমন বিদেশী প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক ভিত্তি বা সাফল্য সম্পর্কে আমরা আত্মবিশ্বাসী নই। তাদের বিষয়ে আমাদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য দেয়ারও সুযোগ নেই। সূত্র : বণিক বার্তা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত