প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সাজানো হচ্ছে মাঠ প্রশাসন

ডেস্ক রিপোর্ট: একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঢেলে সাজানো হচ্ছে মাঠ প্রশাসন। রদবদল করা হচ্ছে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের। এ ছাড়া সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের আঞ্চলিক ও জেলা নির্বাচন অফিসার পদেও ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। আগামীতে জেলা-উপজেলা কর্মকর্তা পদেও ব্যাপক পরিবর্তন আসছে বলে জানা গেছে।

ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োজিত থাকেন জেলা প্রশাসকরাই। সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা থাকেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে। তবে কয়েকটি এলাকায় সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার ও উপজেলা নির্বাচন অফিসারকেও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব দেওয়ার নজির রয়েছে। আর ভোটকে সামনে রেখেই জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের বদলি করা হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা। নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলছেন, সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ‘বিতর্কিত’ কর্মকর্তাদের ভোট প্রক্রিয়া থেকে বিরত রাখতে মাঠ প্রশাসনের কার্যক্রম তদারকি করতে হবে ইসিকে। সংসদ নির্বাচনের ক্ষণগণনা শুরুর এখনো ৮ মাস বাকি। ইতিমধ্যে মাঠ প্রশাসনে রদবদল শুরু হয়েছে। তবে এটা সরকারের রুটিন ওয়ার্ক হলেও ব্যাপক পরিবর্তন অনেকের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করতে পারে। এদিকে সরকারের মেয়াদের শেষ বছরে রবিবার মাঠ প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল করা হয়। ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, রংপুর, সিলেট, ময়মনসিংহসহ ২২ জেলায় জেলা প্রশাসক (ডিসি) পরিবর্তন হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক আদেশে ১৯ জেলায় নতুন কর্মকর্তাদের ডিসি হিসেবে নিয়োগ এবং তিন ডিসিকে অন্য জেলায় বদলি করে আদেশ জারি করে। এ ছাড়া একই দিন পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ২৯ কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ অধিশাখা থেকে এই কর্মকর্তাদের দফতর পরিবর্তনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর আগে ২০১৭ সালের ২ মে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনাসহ ২৪ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ দেয় সরকার। এ ছাড়া গত জুলাইয়ে কমিশন সচিবালয়ের মাঠ পর্যায়ের ১০টি শীর্ষ পদে রদবদল আনা হয়। সারা দেশের এক-তৃতীয়াংশ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার দফতরও হয়েছে পরিবর্তন। সেই সঙ্গে একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ইসি সচিবালয়ের মাঠ কর্মকর্তাদের শীর্ষ পদে রদবদল করা হয়।

ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, ভোটের বছরে জেলা প্রশাসকদের যেভাবে রদবদল শুরু হয়েছে, এটা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ‘রুটিন ওয়ার্ক’ বললেও নির্বাচনে এসব কর্মকর্তাই ভোটের অন্যতম দায়িত্বে থাকবেন। উপ-সচিবদের মধ্য থেকে ডিসি নিয়োগ দিতে কর্মকর্তাদের সংক্ষিপ্ত তালিকা করে মন্ত্রণালয়। ওই ফিট লিস্ট ধরে কয়েক ধাপে এদের মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে ডিসি হিসেবে নিয়োগের জন্য কর্মকর্তাদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। চূড়ান্ত তালিকাভুক্তদের মধ্য থেকেই জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগ পাওয়ার পর সাধারণত কয়েক বছর জেলার সর্বোচ্চ প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকেন এসব কর্মকর্তা।

ডিসি-এসপিদের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ

ভোটের আগে ডিসি-এসপিদের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দিয়েছেন সাবেক এক নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেছেন, নির্বাচন কমিশন মাঠ প্রশাসনের কাজ পর্যবেক্ষণের সময় পাচ্ছে। ইসি দেখবে তারা নিরপেক্ষ আচরণ করছে কিনা। যদি নিরপেক্ষ না মনে হয়, তবে সংসদ নির্বাচনের আগেও তারা পরিবর্তন করতে পারবে। সেই সঙ্গে সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ‘বিতর্কিত’ কর্মকর্তাদের ভোট থেকে বিরত রাখতে মাঠ প্রশাসনের কার্যক্রম তদারকি করারও পরামর্শ এসেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন গতকাল বলেন, প্রশাসনে রদবদল স্বাভাবিক এবং সরকারের রুটিন কাজ। তবে একসঙ্গে বেশি রদবদলে অনেকের কাছে সন্দেহ হতে পারে। আর অপেক্ষা করতে হবে নতুনদের আচরণ কেমন হয়। তবে নির্বাচন কমিশন মাঠ প্রশাসনের কাজ পর্যবেক্ষণের সময়ে পাচ্ছে। তারা যদি কাউকে নিরপেক্ষ মনে না করেন তবে ভোটের তফসিল ঘোষণার পরও বদলি করতে পারবেন। এখন থেকে নির্বাচন কমিশন তাদের কাজ নজরে রাখতে পারে।

ডিসি-এসপি বদলি ভোটের আগে মাঠ প্রশাসন সাজানোর অংশ কিনা জানতে চাইলে সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন (অব.) বলেন, সরকার ইচ্ছা করলে করতে পারে। তবে ইসিকে দেখাতে হবে সরকার তাদের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে কিনা। যদি ইসি মনে করে তবে ভোটের তফসিলের পরও (ডিসি-এসপি) রদবদল করতে পারে। তিনি বলেন, ভারতে ভোটের এক বছর আগেই রদবদল করা হয়। কেননা নির্বাচন কমিশন সরকারকে বলে দেয় রদবদল করতে হলে এক বছর আগেই করতে হবে, এরপর নয়। কিন্তু আমাদের কমিশন তো আর তেমন নয়। তিনি বলেন, সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ডিসিদের করতে হবে এমন কথা কোথাও লেখা নেই। নির্বাচন কমিশন চাইলে তা নাও করতে পারে।

নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনী ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ হওয়ার পর ১৫ দিন পার না হওয়া পর্যন্ত ডিসি, এসপি, ইউএনওসহ কিছু কর্মকর্তাকে ইসির সঙ্গে পরামর্শ না করে বদলি করা যাবে না। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের অধীনে চলতি বছরের শেষে বা ২০১৯ সালের প্রথম দিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। ইতিমধ্যে তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদ ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারি শেষ হবে। তাই ডিসেম্বরের শেষের দিকে অথবা ২০১৯ সালের প্রথম দিকে যে কোনো দিন একাদশ সংসদ নির্বাচনের দিন নির্ধারণ করা হবে। এর অংশ হিসেবে আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে একাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত জুলাইয়ে রোডম্যাপ ঘোষণাকালে সিইসি কে এম নূরুল হুদা বলেন, আমরা তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে যথাযথ ব্যবস্থা নেব। এখন সরকারের কাছে কোনো অনুরোধ থাকবে না। তবে তফসিল ঘোষণার পর পরিস্থিতির প্রয়োজন হলে অনুরোধ করা হবে। তফসিল ঘোষণার পর থেকে ভোট পর্যন্ত (৪০-৪৫ দিন) নির্বাচনী আইন-বিধি অনুযায়ী ইসি কাজ করবে বলে জানান তিনি। বাংলাদেশ প্রতিদিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত