প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নির্বাচনমুখী প্রশাসন গড়ার তৎপরতা

মামুন : সরকারের মেয়াদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে জনপ্রশাসনে নির্বাচনমুখী তৎপরতা শুরু হয়েছে। এখনই মাঠ প্রশাসনসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে বদলি-পদায়ন এবং পদোন্নতি হচ্ছে নির্বাচনকে মাথায় রেখে। যার অংশ হিসেবে গত রোববার ১৯ জন কর্মকর্তাকে মাঠ প্রশাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ করা হয়েছে বলে আলোচনা রয়েছে।

ডিসি পদায়নে ছয় বিভাগীয় শহরের বাইরে যশোর, চাঁদপুর, কুমিল্লা, বান্দরবান, নেত্রকোনা, সাতক্ষীরা, শরীয়তপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, রাঙ্গামাটি, কক্সবাজার, ঝিনাইদহ, ভোলা, কুড়িগ্রাম, নরসিংদী ও হবিগঞ্জ জেলার মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় নতুন ডিসি নিয়োগ দেয়া হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, নতুন করে ডিসি পদে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০তম ব্যাচের।

এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মকর্তা ছাত্র জীবনে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এর আগে গত দুই মাসে ২০ ব্যাচের ছয় জন কর্মকর্তাকে ডিসি নিয়োগ করা হয়েছে। ডিসি পদে একই ব্যাচ থেকে আরো কর্মকর্তাদের নিয়োগ করা হতে পারে। তবে নির্বাচনের সময় ডিসি হিসেবে মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির একান্ত সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের প্রাধান্য দেয়া হবে। কারণ ডিসি পদে কর্মরতরা সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

অবশ্য সরকার চাইলে আরো আগেই বদলি করা হয়। প্রশাসনের কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে রাজনীতি করার সুযোগ না থাকলেও এক শ্রেণির কর্মকর্তার রাজনীতি করার বিষয়টি অনেকটা প্রকাশ্যেই হচ্ছে। এরাই মূলত প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণ করেন। একদল আওয়ামী লীগের সময়ে, আরেকদল বিএনপির সময়ে।

গত দুই দশক ধরে এ প্রক্রিয়া চরম আকার ধারণ করেছে। এদিকে সিভিল প্রশাসনের পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ের পুলিশ প্রশাসনেও রদবদল করা হয়েছে। গত ২৫শে ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা এক আদেশে ২৯ জন পুলিশ সুপার (এসপি) পদে রদবদল করা হয়েছে।

ওই রদবদলে নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নড়াইল, মাগুরা, বান্দরবান, বগুড়া, মানিকগঞ্জ, গাইবান্ধা, রাজশাহী, ফরিদপুর, রাঙ্গামাটি, শরীয়তপুর, রাজবাড়ী ও নীলফামারী জেলায় নতুন এসপি নিয়োগ করা হয়েছে। অন্য জেলার এসপি পদেও রদবদল আসতে পারে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারের অতি আস্থাভাজন সিনিয়র কর্মকর্তারা নির্বাচনমুখী প্রশাসন সাজানোর কাজ শুরু করেছেন। এদিকে ২২ জন ডিসি পদে রদবদল ও নিয়োগের পর অন্য ডিসিদের কর্মকাণ্ড নজরে রাখা হচ্ছে। এর বাইরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পদেও আস্থাভাজন কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হচ্ছে।

তাই ডিসি পদে নিয়োগের উপযুক্ত কর্মকর্তা বাছাই (ফিস্ট লিস্ট) করা হয়েছে। এদের মধ্যে বেশিরভাগ কর্মকর্তাই ২০তম ব্যাচের। ডিসিরাই আগামী নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন এমন চিন্তায়। এদিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) পদেও আস্থাভাজনদের বসানোর পরিকল্পনা চলছে। ইউএনও নিয়োগের জন্য উপযুক্ত কর্মকর্তা বাছাইয়ের লক্ষ্যে সাক্ষাৎকার নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমান সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাই ইউএনও পদে নিয়োগ পাবেন- এটা অনেকটা নিশ্চিত।

বর্তমানে বিভাগীয় কমিশনাররাও আস্থাভাজন। বিভাগীয় কমিশনাররাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদে পদায়ন করে থাকেন। ডিসিরাও তাদের অধীনে থেকে কাজ করেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ ও পদায়ন শাখাসহ গুরুত্বপূর্ণ শাখায় দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে সরকারের আস্থাভাজনদের। যারা নিয়োগ ও পদায়নের ভূমিকা রাখেন। এরই মধ্যে অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব ও উপ- সচিব পদে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। নির্বাচনমুখী প্রশাসনের বিষয়ে জানতে চাইলে সরকারের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসন সাজানোর অভিযোগ ঠিক নয়। প্রশাসন স্বাভাবিকভাবেই চলছে। মানবজমিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত