প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আট দাবি বাস্তবায়নের দাবি
আবারও আন্দোলনের প্রস্তুতি সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিকদের

রিকু আমির : মেয়াদোত্তীর্ণের পর তিন মাসের অনুমতি পাওয়া ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশা একেবারে উচ্ছেদসহ আট দফা দাবি লিখিতভাবে আদায় হলেও এবার তা দৃশ্যমান করতে আবারও আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন শ্রমিকরা।

ঢাকা মহানগর সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ফেডারেশনের সদস্য সচিব সাখাওয়াত হোসেন দুলাল সোমবার আমাদের সময় ডটকমকে বলেন, বিআরটিএ’র চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে হয়ে যাওয়া বৈঠকে আমাদের দাবিগুলো মেনে তা বাস্তবায়ন পদ্ধতি অফিসিয়ালি লেখা হয়েছে। দাবি বাস্তবায়নে আমাদের সহযোগিতা চাওয়া হয়, যাতে আমরা সম্মতি দিই। কিন্তু বৈঠকের প্রায় দেড় মাসের মধ্যেও দাবিগুলো বাস্তবায়নে কোনো অগ্রগতি নেই। সুতরাং কড়া আন্দোলন ছাড়া আর পথ নেই।

গত ১৪ জানুয়ারির বিআরটিএ কার্যালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমানের সভাপতিত্বে। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ফেডারেশনের আহ্বায়ক, সদস্য সচিবসহ বিআরটিএ’র সংশ্লিষ্ট বিভাগের পদস্থ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

শ্রমিকদের দাবিগুলো হচ্ছে- মেয়াদোত্তীর্ণ অটোরিকশা অপসারণ করে নতুন অটোরিকশা প্রতিস্থাপন, ঢাকায় চালকদের নামে পাঁচ হাজার এবং চট্টগ্রামে চার হাজার অটোরিকশা বিতরণ, উবার, পাঠাওয়ের মতো অ্যাপনির্ভর পরিবহন সেবা বন্ধ করা, খসড়া পরিবহন আইন থেকে শ্রমিক স্বার্থবিরোধী ধারা বাতিল, ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নে ব্যবহারিক পরীক্ষা বন্ধ, অননুমোদিত পার্কিংয়ের জন্য মামলা না করা, চালকদের হয়রানি বন্ধ, নিবন্ধিত অটোরিকশা চালকদের ঢাকা জেলার সব জায়গায় চলাচলের অনুমতি দেয়া।

ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী ৮ হাজার ৪২১টি সিএনজিচালিত অটোরিকশার মেয়াদ গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে শেষ হয়। ২০০২ মডেলের এসব অটোরিকশার নিবন্ধন দেওয়ার সময় মেয়াদ ধরা হয়েছিল ৯ বছর। পরে মালিকদের দাবির প্রেক্ষিতে অটোরিকশাগুলোর মেয়াদ দুই দফায় ৬ বছর বাড়িয়ে ১৫ বছর করা হয়। এবার মেয়াদ শেষ হবার পূর্বেও মালিকরা ফের মেয়াদ বাড়াতে সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে বলে- গ্যাস সিলিন্ডার, ইঞ্জিন রিপ্লেস করতে। এ সম্পর্কে পরীক্ষা-নীরিক্ষা করতে সরকার বুয়েটকে চিঠি দিয়েছে, যে পরীক্ষা-নীরিক্ষা এখনও চলমান। এর মধ্য দিয়েই এ বছরের জানুয়ারিতে সরকার এসব সিএনজি অটোরিকশার মেয়াদ আরও তিনমাস বৃদ্ধি করে।

শাখাওয়াত হোসেন দুলাল বেশ দৃঢ়তার সাথে আমাদের সময় ডটকমকে বলেন, বুয়েট যদি মালিকদের দাবি অনুযায়ী কাজ করে, তখন আমরা বুয়েটের বিরুদ্ধেও আন্দোলন শুরু করব। নতুন ইঞ্জিন, সিলিন্ডার কেন রিপ্লেস করা হবে? ক্ষয় হয়ে যাওয়া বডিতে এসব বসালে গাড়ির ঝুঁকি বাড়বে ছাড়া কমবে না।

জানার জন্য বুয়েটে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু এ বিষয়ে বুয়েট এখনই কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি নয়।

এরপর যোগাযোগ করা হয় বিআরটিএ’র সঙ্গে। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় শ্রমিকরা আন্দোলনে যাবার কথা ভাবছে- এ প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বিআরটিএ’র ইঞ্জিনিয়ারিং শাখার পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) নুরুল ইসলামকে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ শাখার অন্য একজন কর্মকর্তা আমাদের সময় ডটকমকে নাম না প্রকাশের শর্তে জানান, দাবি বাস্তবায়নে কাজ যে একেবারেই হচ্ছে না, সেটা ভাবা ভুল। মেয়াদোত্তীর্ণ সিএনজি অটোরিকশার মেয়াদ আরও বাড়ানো যায় কি-না, এ সিদ্ধান্ত আসবে বুয়েট থেকে। এ কাজ তো চলছে। অন্য কাজগুলোও চলছে। বাস্তবায়ন চোখে পড়তে একটু সময় লাগবে।

আরেকটি প্রশ্নে এ কর্মকর্তা বলেন, বুয়েট পজিটিভ সিদ্ধান্ত দিলেই এক বাক্যে বিআরটিএ যে মেনে নেবে, তা নয়। বরং বিআরটিএ তা বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করবে, কোনো পক্ষ দ্বারা বিআরটিএ’কে প্রভাবিত করার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য তার।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত