প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শরীরের লোমের বিধান

সাইদুর রহমান : শরীরের লোমকে তিনভাগে বিভক্ত করা যায়। প্রথমত ঐ সমস্ত লোম বা চুল যেগুলো ফেলে দেয়া বা ছেঁটে ছোট রাখার জন্য । যেমন: নাভীর নিচের লোম চেঁছে ফেলা, গোঁফ ছেঁটে ছোট রাখা এবং বগলের লোম তুলে ফেলা। হজ্জ্ব কিংবা ওমরাহ্ পালনের সময় মাথার চুল কামিয়ে বা কেটে ফেলাও এর অন্তর্ভুক্ত।

এ বিষয়ে হাদীসে এসেছে, আয়েশাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত একটি হাদিস যাতে তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সা. বলেছেন: দশটি কাজ প্রকৃতির অন্তর্গত (অর্থাৎ, মানুষের স্বভাবগত আচরণ) গোঁফ ছেঁটে রাখা, দাড়ি লম্বা করা, মিসওয়াক করা, পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার করা, নখ কাটা, আঙ্গুলের গিরাগুলো ঘষে-মেজে ধৌত করা, বগলের লোম তুলে ফেলা, নাভীর নিচের লোম চেঁছে ফেলা এবং মলমুত্র ত্যাগের পর পানি ব্যবহার করে নিজেকে পরিষ্কার করা।” যাকারিয়্যা বলেন: মুস’আব বলেছেন: আর আমি দশ নম্বরটি ভুলে গেছি। তবে ওটা পানি দিয়ে কুলি (মুখ পরিষ্কার) করা হতে পারে। মুসলি হাদিস (২৬১)

দ্বিতীয়ত ঐ সমস্ত লোম যেগুলো ফেলে দেয়া নিষিদ্ধ। যার মধ্যে ভ্র-ও রয়েছে। একইভাবে দাড়ি কাটাও হারাম। এ বিষয়ে হাদীসে এসেছে,‘আবদুল্লাহ্ ইবন মাস‘ঊদ (রা) থেকে বর্ণিত , তিনি বলেন: আমি আল্লাহ্র রাসূল সা.কে বলতে শুনেছি: “আল্লাহ্ অভিসম্পাত করেছেন ঐ নারীর ওপর যে শরীরে উল্কি আঁকে ও যে আঁকিয়ে নেয়; যে ভ্রু তুলে ফেলে (আল-নামিসাহ্) এবং যে তুলে ফেলায় (আল-মুতানাম্মিসাহ্), এবং সে যে সৌন্দর্যের জন্য আল্লাহ্র সৃষ্টিকে পরিবর্তন করে তার দাঁত চিকন করে।” [আল-বুখারি (৫৯৩১); মুসলিম (২১২৫)]

অপর এক হাদীসে এসেছে, ‘আবদুল্লাহ্ ইবন ‘উমর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আমি আল্লাহ্র রাসূল সা.কে বলতে শুনেছি: “মুশরিকদের থেকে আলাদা হও – দাড়ি লম্বা করো ও গোঁফ ছেঁটে রাখো।” [আল-বুখারি (৫৮৯২); মুসলিম (২৫৯)]

তৃতীয়ত ঐ সমস্ত লোম বা চুল যেগুলো রাখা না রাখার বিষয়ে শরীয়তে কোন বিধি-নিষেধ নেই। যেমন: হাত-পা, গাল বা কপালের লোম। সেগুলো কাটা ও রাখা উভয়টি বৈধ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত