প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘আমিই ভ্যানিটি ব্যাগ ধরে টান মারি’

ডেস্ক রিপোর্ট : ছিনতাইকারীদের হাতে নৃশংসভাবে খুন হওয়ার এক মাসের মাথায় হেলেনা বেগম হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার ঢাকার আদালতে ওই ছিনতাইকারী খুনের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। ওই ছিনতাইকারী বলেছে, ‘আমি ওই নারীর ভ্যানিটি ব্যাগ ধরে টান মারি। পরে তিনি চাকার নিচে পড়ে যান।’

এই ছিনতাইকারীর নাম জাকারিয়া হাওলাদার ওরফে জাকির (৩৫)। তাঁর বাড়ি পিরোজপুরে। গত মাসে ছিনতাইকারীরা নৃশংসভাবে খুন করেন হেলেনা বেগম নামের এক নারীকে। তিনি এ মামলার প্রধান আসামি। শনিবার পুলিশ রাজধানীর কাফরুল থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করার পর রোববার তিনি খুনের দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

জাতীয় পরিচয়পত্র আনার জন্য বরিশালে যান হেলেনা বেগম ও মনিরুল ইসলাম দম্পতি। গ্রাম থেকে তা সংগ্রহ করার পর ২৬ জানুয়ারি ভোর চারটায় লঞ্চে করে আসেন সদরঘাট। এরপর সেখান থেকে লোকাল বাসে করে ধানমন্ডির ৭ নম্বর সড়কে নামেন তাঁরা। হেঁটে কলাবাগানের বাসায় যাওয়ার সময় হঠাৎ একটি প্রাইভেট কার থেকে কেউ একজন হেলেনার ভ্যানিটি ব্যাগ ধরে হ্যাঁচকা টান দেয়। আচমকা টানে তাল সামলাতে না পেরে ওই প্রাইভেট কারের নিচে পড়েন হেলেনা। চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।

হেলেনা বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর স্বামী মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে ধানমন্ডি থানায় হত্যা মামলা করেন।

চার সন্তানের জননী হেলেনা বেগম আয়া পদে চাকরি করতেন রাজধানীর গ্রিন লাইফ হাসপাতালে। তাঁর স্বামী মনিরুল একটি বেসরকারি লিফটের কোম্পানিতে চাকরি করেন। তাঁদের চার সন্তান।

গাড়ির সূত্র ধরে ছিনতাইকারী চিহ্নিত

এমন নৃশংস ঘটনার পর খুনি ছিনতাইকারীদের ধরতে তদন্তে নামে ধানমন্ডি থানা-পুলিশ। প্রথমে পুলিশ ধানমন্ডির ৭ নম্বরের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নয়ন কুমার চক্রবর্তী প্রথম আলোকে বলেন, সেদিনকার রাস্তার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করার পর সেখান থেকে প্রথমে গাড়ি শনাক্ত করা হয়। গাড়িটি ছিল সাদা রঙের। সেখান থেকে নম্বর সংগ্রহ করার পর বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথোরিটির কাছ থেকে গাড়ির মালিকের নাম বেরিয়ে আসে।

এসআই নয়ন আরও বলেন, গাড়িটির খোঁজ মেলে আশুলিয়ায়। ১২ ফেব্রুয়ারি সকালে গাড়িটি আশুলিয়ার ইস্টার্ন ব্যাংকের সামনে থেকে জব্দ করা হয়। তখন গ্রেপ্তার করা হয় গাড়ির চালক আবদুল্লাহ আল মামুনকে (৩০)। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন, ২৬ জানুয়ারি ধানমন্ডির ছিনতাইয়ের ঘটনায় তিনিও ছিলেন।

২০ বছর ধরে ছিনতাই করেন জাকির

আসামি মামুন পুলিশের কাছে সেদিন ছিনতাইয়ে জড়িত ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করেন। তাঁর জবানবন্দিতে উঠে এসেছে জাকারিয়া হাওলাদার ওরফে জাকিরের নাম। এরপর জাকিরকে গ্রেপ্তার করতে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায় ধানমন্ডি থানার পুলিশ। বারবারই তিনি তাঁর অবস্থান পরিবর্তন করছিলেন। শেষে শেওড়াপাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে জাকির বলেছেন, ছিনতাই করার উদ্দেশ্যে সেদিন রাতে তাঁরা প্রাইভেট কার নিয়ে বের হন। ওই গাড়িতে ছিলেন জাকির, মিজান, আবদুল্লাহ ও শিমুল। সেদিন আজানের পর প্রথমে তাঁরা গুলিস্তান এলাকায় ছিনতাই করার চেষ্টা করেন। কিন্তু সফল হননি। এরপর চলে আসেন ধানমন্ডি এলাকায়। দেখেন একজন নারীর হাতে ভ্যানিটি ব্যাগ। তখন গাড়ি নিয়ে সোজা গিয়ে ব্যাগ ধরে টান দেন জাকির। সে হ্যাঁচকা টান দিলে ওই নারী গাড়ির নিচে পড়ে যান। তখন তিনি গাড়ি চালিয়ে সোজা খিলগাঁও ফ্লাইওভারের দিকে যান। এর মধ্যে দেখেন, ওই ব্যাগের ভেতর ৩০০ টাকা। টাকা রেখে ব্যাগ ফেলে দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নয়ন কুমার বলেন, ২০ বছর ধরে জাকির ঢাকায় ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত। এর আগে একাধিক ছিনতাইয়ের সঙ্গে তিনি জড়িত। তিনি জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত শিমুল ও মিজানকে যেকোনো সময় গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী নিহত হেলেনা বেগমের স্বামী মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘এক মিনিটের মধ্যে আমার জীবনের সব সুখ কেড়ে নিয়েছে ছিনতাইকারীরা। আমার চোখের সামনে ওরা খুন করেছে। ওরা মানুষ না। ওরা চাইলে আমার স্ত্রীকে না মেরে ব্যাগ নিয়ে চলে যেতে পারত। আমার স্ত্রীকে যেভাবে হত্যা করেছে, ওদেরও তেমনভাবে ফাঁসি দেওয়া হোক।’ তথ্যসূত্র : প্রথম আলো

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত