প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অভিজিৎ হত্যার তিন বছর : তদন্তে হতাশ পরিবার

ডেস্ক রিপোর্ট : বিজ্ঞান মনস্ক লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের তিন বছর পূর্ণ হলো ২৬ ফেব্রুয়ারি (সোমবার)। এর মধ্যে ১০ জন আসামিকে গ্রেফতার করলেও মামলার তদন্ত শেষ করতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা। এর ফলে দীর্ঘ এই সময়ে বিচার প্রক্রিয়া শুরু না হওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেছেন নিহতের পরিবার।

মামলার তদন্তকারী সংস্থা কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) বলছে, মামলার তদন্তভার পাওয়ার তিন মাসের মধ্যে সিটিটিসি’র হাতে গ্রেফতার তিনজনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এর আগে গ্রেফতার বাকি ৭ জনের এখনো কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। তিনজনের স্বীকারোক্তি এবং তদন্তে আরো ৫ জনের নাম পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে দু-একজনকে গ্রেফতার করা গেলে তদন্তকাজ শেষ হবে।

অভিজিৎ রায়ের বাবা শিক্ষাবিদ ড. অজয় রায় বলেন, আমার ছেলে খুন হওয়ার পর তিনটি বছর কেটে গেলো। এখনো তদন্তকাজই শেষ হলো না। হতাশা ব্যক্ত করা ছাড়া আর কি বলার আছে আমার?

তিনি বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা শুধু আশ্বাসই দিয়ে যাচ্ছেন। তারা বলছে, খুনিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তাদের গ্রেফতারের পরই চার্জশিট দেওয়া হবে। তারা বার বার একই কথা রিপিট করছেন যে, ‘শিগগিরই চার্জশিট দেওয়া হবে’। আমি এখন বিরক্ত হয়ে তাদের কাছে যাওয়াই বন্ধ করে দিয়েছি।

সব খুনিদের গ্রেফতারের পর মামলার চার্জশিট দিতে হবে এটা কেমন কথা? তাদের অনুপস্থিতিতেও চার্জশিট দেওয়া যেতে পারে। এতে অন্তত বিচার কাজটা শুরু হবে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই অধ্যাপক।

‘তদন্ত কাজ শেষে যতদ্রুত সম্ভব অপরাধীদের আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে বিচারের ব্যবস্থা করলেই আমি সন্তুষ্ট হবো। শুধু অভিজিতের বাবা হিসেবে নয়, একজন বিচারপ্রার্থী হিসেবে আমার এই একটাই চাওয়া’ যোগ করেন তিনি।

মামলার অগ্রগতির বিষয়ে সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, প্রায় তিনমাস আগে মামলার তদন্তভার পেয়েছে সিটিটিসি। এরপর মোজাম্মেল হোসেন সায়মন, আরাফাত ওরফে শামস ওরফে সাজ্জাদ ও আবু সিদ্দিক ওরফে সোহেল নামে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়, যাদের প্রত্যেকেই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের জবানবন্দি অনুযায়ী এবং এ পর্যন্ত তদন্তে ইতোপূর্বে গ্রেফতার বাকি সাতজনের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। মুকুল রানা নামে আরেকজন আসামি ডিবির সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।

‘এছাড়া তদন্তে আনসার আল ইসলামের প্রধান এবং সেনাবাহিনী থেকে বহিস্কৃত মেজর জিয়াসহ আরো ৫ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। বাকি চারজনকে শনাক্ত এবং সাংগঠনিক নাম পাওয়া গেলেও বিস্তারিত পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এদের মধ্যে ২-১ জনকে গ্রেফতার করা গেলে তদন্ত শেষ হবে এবং আদালতে চার্জশিট দিতে পারবো’।

তিনি বলেন, স্বীকারোক্তি দেওয়া তিনজনকে গ্রেফতারের মাধ্যমে এ মামলার তদন্ত কাজ শেষ করে এনেছি। এখন পর্যন্ত মামলার বিচার কাজ চালিয়ে নেওয়ার মতো যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ পেয়েছি। শনাক্ত হওয়া বাকি ৫ জনের মধ্যে কাউকে গ্রেফতার করা না গেলেও বেশিদিন আর মামলাটি ধরে রাখবো না, শিগগিরই চার্জশিট দিয়ে দেবো।

২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে অমর একুশে বইমেলা থেকে বের হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অভিজিৎ রায় ও তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যাকে কুপিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন অভিজিৎ। ওই ঘটনায় শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন অভিজিতের বাবা অজয় রায়। শুরু থেকেই মামলাটি তদন্ত করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এরপর গত বছরের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মামলার তদন্তভার পায় সিটিটিসি। তথ্যসূত্র : বাংলানিউজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত