প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
আস্থা বাড়ছে রোগীদের

ডেস্ক রিপোর্ট : লাল ইটের তিনতলা ভবন। ভেতরে ঢুকতেই ওয়ান স্টপ সার্ভিস ক্যাশ কাউন্টার। নারী, পুরুষ, মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী ও শিক্ষার্থীর জন্য আলাদা কাউন্টারে চিকিৎসক নির্দেশিত সব ধরনের পরীক্ষার ফি জমা দিচ্ছেন চিকিৎসাপ্রার্থীরা। টাকা জমার কম্পিউটারাইজড রসিদ নিয়ে নির্ধারিত পরীক্ষা শেষে চিকিৎসককে দেখাচ্ছেন। ভিন্ন ভিন্ন পরীক্ষার জন্য ভিন্ন ভিন্ন স্থানে টাকা জমা দেয়ার ভোগান্তি ছাড়াই সেবা পাচ্ছেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা।

হাসপাতালের আন্তঃবিভাগে ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের পাশেই অত্যাধুনিক তিন নম্বর ওয়ার্ড। সেন্সরযুক্ত দরজা দিয়ে প্রবেশের পরই সরকারি হাসপাতালের ওয়ার্ড সম্পর্কে চিরাচরিত ধারণা বদলে যায়। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিচ্ছন্ন ওয়ার্ড, উন্নতমানের শয্যা নিয়ে গত মাসে যাত্রা করেছে ক্যান্সার রোগীদের জন্য সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের তিন নম্বর পেইন ওয়ার্ডটি।

আধুনিক এসব পদক্ষেপে হাসপাতালটির প্রতি আস্থা বাড়ছে রোগীদের। সে কথাই বললেন খাদ্যনালির ক্যান্সারে আক্রান্ত বরিশালের বাবুগঞ্জের নাজনীন নাহারের মেয়ে রিমা। তার ভাষায়, এখানে উন্নতমানের বেড, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও চিকিৎসক-নার্সদের আচরণে মনে হচ্ছে ঘরের মতো সেবা পাচ্ছি। সরকারি হাসপাতালে এত ভালো সেবা দেয়া হয় এখানে না আসলে জানতাম না।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, আগে হাসপাতালটিতে ক্যান্সারের চিকিৎসা করা হলেও আলাদা কোনো ইউনিট ছিল না। গত মাসে চালু হওয়া ক্যান্সার ওয়ার্ডে দশজন রোগী ভর্তি আছেন। তবে ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতা ধরে রাখতে রোগীর স্বজনদের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন ওই ওয়ার্ডের নার্স ইনচার্জ মেরিনা পারভীন।

তিনি বলেন, ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে আমাদের কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। সরকারি হাসপাতাল সম্পর্কে মানুষের ধারণা একটু অন্য রকম। এখানে সবাই জুতা পায়ে চলে আসেন, যেখানে-সেখানে থুথু ফেলেন। হাসপাতাল পরিচ্ছন্ন রাখতে কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি রোগীর স্বজনদের সচেতন হতে হবে। তবে ক্যান্সার ওয়ার্ডের মতো হাসপাতালের অন্যান্য ওয়ার্ড অত্যাধুনিক না হলেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন।

হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে ও চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়নে কোয়ালিটি ইমপ্রুভমেন্ট কেয়ার নামে প্রকল্পও রয়েছে। এ কার্যক্রমে চিকিৎসক, নার্স ও ক্লিনার নিয়ে ওয়ার্ড, ইউনিট বিভাগ ও কেবিন সমন্বয়ে ৪৩টি কমিটি রয়েছে। হাসপাতালকে পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব এই কমিটির। প্রতি মাসে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কমিটির সভা করে থাকে। সেরা সেবাদাতাকে উৎসাহিত করতে সনদ ও আর্থিক অনুদানের ব্যবস্থা রয়েছে। দুই মাস পরপর ‘বেস্ট ক্লিনার অ্যাওয়ার্ড’ দেয়া হয়। নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে দেখা হয় সবাই দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করছে কিনা।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ৮৫০ বেডের হাসপাতালে প্রায় এক হাজার ছয়শ রোগী ভর্তি থাকে। এছাড়া প্রতিদিন বহির্বিভাগে তিন হাজারের মতো রোগী সেবা নেয়। হাসপাতালটিতে তিন শতাধিক চিকিৎসক, সাড়ে চারশ নার্স, আড়াইশ কর্মচারী নিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হয়। গত বছর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে সেবা নিয়েছে ৮০ হাজার ৮৩৭ জন রোগী। এছাড়া বহির্বিভাগে সেবা নিয়েছেন ১ লাখ ৮০ হাজার ৫৪১ জন রোগী।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ছয়টি মানদণ্ডে ২০১৭ সালে ঢাকার সেরা হাসপাতালের স্বীকৃতি পেয়েছে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। হাসপাতালটির স্কোর ৩০০-এর মধ্যে ২২০ দশমিক ৯৪।

সরকারি হাসপাতালের ওপর সব শ্রেণীর মানুষের আস্থা ফেরাতে বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। নানামুখী এসব পদক্ষেপের কারণে হাসপাতালটির প্রতি মানুষের আস্থা বেড়েছে বলে মনে করেন হাসপাতালটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া। তিনি বলেন, সব শ্রেণীর মানুষের আস্থা ফেরাতে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা করেছি আমরা। হাসপাতাল পরিচ্ছন্ন রাখা, দালালের দৌরাত্ম্য বন্ধ ও চিকিৎসক-নার্স সবার আচরণ উন্নত করতে পদক্ষেপ নিয়েছি। আমার হাসপাতাল এখন তিনবেলা পরিষ্কার করা হয়। এটি শতভাগ দালালমুক্ত হাসপাতাল। এছাড়া চিকিৎসক-নার্সদের আচরণও উন্নত হয়েছে।

২০১৫ সালে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মধ্যে সেরা হাসপাতালের স্বীকৃতি পেয়েছিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ২০৮ দশমিক ৩৫ স্কোর নিয়ে এবার তৃতীয় স্থানে নেমে এসেছে দেশের সবচেয়ে বড় এ হাসপাতালটি।

এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দীন বলেন, টারশিয়ারি মেডিকেলের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ সেরা তিনে রয়েছে। স্কোরের দিক থেকে দেখলে চলবে না। ক্যাপাসিটি, জটিল রোগী সামলানোর হার, রোগীর সংখ্যার দিক থেকে তুলনা করলে ঢাকা মেডিকেলের সঙ্গে দাঁড়ানোর ক্ষমতা কারো নেই। এটি একটি অসম প্রতিযোগিতা। ৪০০ শয্যার হাসপাতালের সঙ্গে আমাদের তুলনা করলে চলবে না।

তিনি আরো বলেন, সারা দেশের যেকোনো হাসপাতাল কোনো রোগীকে চিকিৎসা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে সে রোগী ঢাকা মেডিকেলে আসছে। এখানে কোনো রোগীকে না বলা হয় না। ঢাকা মেডিকেলের প্রতিপক্ষ শুধু ঢাকা মেডিকেল। আমরা আমাদের সক্ষমতা অনুযায়ী কাজ করছি। আমাদের উন্নতির জন্য বিভিন্ন রকম কার্যক্রম গ্রহণ করেছি। তথ্যসূত্র : বণিক বার্তা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত