প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভোট কি হবে ভোটারের?

তুষার আবদুল্লাহ : ভোট আসছে। ভোট আসবেই। ভোটের বাদ্য বাজতে শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলছেন সংবিধানের পথ অনুসরণ করে ডিসেম্বরে ভোট হবে। মাস-চারেক আগে ভোটের তফসিল ঘোষণা হলে, অবাক না হওয়ার কথাও বলছেন কেউ কেউ। এখন নাকি চলছে দরকষাকষি। কৌশল এবং পাল্টা কৌশল। ভোটের লড়াইর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ সবার জানা। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং সংসদের বাইরে থাকা বিএনপি। বাকি ছোটখাটো দল এদের পিছু নেবে। বড় দুই দলের করুণায় জাতীয় সংসদের এক বা একাধিক সিটে বসার সুযোগ পাবে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ভোট চাইতে শুরু করেছেন। মাঠের ছক আঁকা শেষ শোনা যায়। চলছে পরিবর্ধন-পরিমার্জন। বিএনপি’র সংকট হলো

তাদের চেয়ারপারসন কারাগারে। তিনি নির্বাচন করতে পারবেন কী পারবেন না এ নিয়ে সংশয় আছে। আইনের বিধি-বিধানের স্বরলিপি একেকজন একেকভাবে ব্যাখ্যা করছেন। আছে দল পরিচালনা নিয়েও দ্বি-পথ ও মত। চেয়ারপারসন কারাগারে থাকাকালীন সময়ে যিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন, তিনিও দণ্ডপ্রাপ্ত এবং দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। নির্বাচনে যদি খালেদা জিয়া অংশ নিতে না পারেন, তাহলে দল নির্বাচনে যাবে না অথবা যাবে এমন দু’রকমের বক্তব্যও পাওয়া যাচ্ছে দলটি থেকে।

যদি উচ্চকণ্ঠ শোনা যাচ্ছে– না যাওয়ার পক্ষে। তবে যারা দলটির কৌশল নির্ধারণ করেন বা অন্দরমহলের খবর হচ্ছে যে কোনোভাবে বিএনপি এবার নির্বাচনে অংশ নেবেই। তত্ত্বাবধায়ক সরকার, সহায়ক সরকারের দাবিও এখন তাদের তরফ থেকে ম্রিয়মাণ হয়ে গেছে। বিএনপির চেয়ে আওয়ামী লীগ বরং জোরেশোরে বলে যাচ্ছে–বিএনপি নির্বাচন করবেই। খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পরেও দলটির শান্তিপূর্ণ ও ধৈর্যশীল আচরণ-কর্মসূচিও ইঙ্গিত দেয় তারা নির্বাচনের ট্রেন এবার ‘মিস’করতে রাজি নয়।

দরকষাকষি শেষে, কৌশলের খেলা সাঙ্গ করে শরিকদের সঙ্গে নিয়ে দুই দলই ভোটের রেলগাড়িতে চড়ে বসবে। কথা হচ্ছে সেই যাত্রায় ভোটাররা যাত্রী হতে পারবে তো? সাধারণভাবে বলা হতে পারে ভোটাররা ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলেই তো তারা রেলগাড়িতে আসন পেয়ে গেলেন। পাঁচ বছরে একবার তারা রাজা সাজতে পারলেই হলো। বিষয়টিকে এই দৃষ্টিকোণ থেকে এখন আর ভাবার সুযোগ নেই। ভোটার ব্যালট পেপারে সিল দিয়ে এসে, তার অমোচনীয় কালি মুছে যাওয়া মাত্র তার অধিকারের কথা ভুলে যান না এক রত্তিও। ভোটার মিলিয়ে দেখেন ইশতিহারের সঙ্গে ক্ষমতায় যাওয়া রাজনৈতিক দলের আচরণ। নির্বাচনের আগে সব দলই আনুষ্ঠানিকভাবে ইশতেহার ঘোষণা করে থাকে। কোনও দল এ নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা করে ইশতেহার দেয়, আবার কোনও দল কেবল ঘোষণার স্বার্থেই একটি ইশতেহার ঘোষণা করে। দেখা গেছে যে প্রক্রিয়াতেই ইশতেহার তৈরি করা হোক না কেন, ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর রাজনৈতিক দলগুলো সেই ইশতেহার সিন্দুকেই আটকে রাখেন। আসলে তাদের মূল ইশতেহার হলো ক্ষমতা গ্রহণ।

ক্ষমতাসীন দল বরাবরই তাদের চলমান উন্নয়ন কর্মসূচির সঙ্গে স্বপ্নের দিগন্তটা অফুরানে টেনে নিয়ে যায়। ক্ষমতায় যাওয়ার স্বার্থে বিরোধী দল তাদের ইশতেহারে আকাশ-কুসুম অনেক স্বপ্ন যোগ করে দেয়। দৃশ্যমান অবকাঠামোর স্বপ্নগুলোই সাধারণভাবে যুক্ত হয়ে থাকে।

সঙ্গে শিক্ষা, কৃষি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা যুক্ত হয় ঐতিহ্যগতভাবে। অধুনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিও যোগ হচ্ছে। কিন্তু দেশের আমভোটারদের চাহিদাপত্র কিন্তু খুবই সাধারণ। তারা চান নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছতে এবং ঘরে ফিরতে। শিক্ষা ও পরীক্ষা পদ্ধতির নিয়ে কোনও গবেষণার গিনিপিগ হবে না তাদের সন্তানরা। নকল ও ফাঁসমুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা। ফুটপাতে স্বচ্ছন্দ্যে হেঁটে যেতে পারা। রাজধানীসহ সারাদেশে সুষম গণপরিবহন। স্থিতিশীল বাজার। কৃষক তার পণ্যের সঠিক দাম পাবেন।

নিশ্চিত স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা তো আছেই। এই সকল চাহিদা পূরণের জন্য সরকারের বিনিয়োগের প্রয়োজন নেই, একথা বলবো না। আর্থিক বিনিয়োগের প্রয়োজন আছে ঠিকই, তবে তার চেয়ে বড় প্রয়োজন ‘ইচ্ছে’র বিনিয়োগ। সুশাসন ও সু-তদারকি। এসব কিছুর কার্যকরী মুদ্রা- রাজনীতিকরণমুক্ত প্রশাসন ও সেবাখাত। ভোট আসছে, ভোটে কোনও দল জয়ী হবেই। তারা সরকার গঠনও করবে। কিন্তু এই মুদ্রা ব্যবহার করবে ক্ষমতায় যাওয়া রাজনৈতিক দল, এ বিষয়ে আমভোটাররা এখনও নিশ্চিত হতে পারছে না।

যতদিন রাজনীতিতে বা সরকার কাঠামোতে এই মুদ্রার ব্যবহার নিশ্চিত করা যাবে না,ততদিন আম ভোটাররা তাদের রাজত্ব উপভোগ এবং উদযাপনও করতে পারবেন না যথাযথভাবে।

লেখক: বার্তা প্রধান, সময় টিভি। বাংলাট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত