প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খালেদা জেলে থাকলেই দৈনিক ১০ লাখ ভোট বাড়ে : জামিনের দরকার কী?

দীপক চৌধুরী : মারাত্মক অস্থিরতা চলছে বিএনপির ভেতর। সিদ্ধান্তহীনতার সাগরে উপনীত দলটি। কিছুটা জনসমর্থন থাকার পরও দলটির অস্থিরতা তৃণমূল পর্যায়েও। গ্রাম পর্যায়ে দলের অবস্থা তথৈবচঃ। কারণ, ‘লিডারশিপ’ অনুপস্থিত। বিএনপির এক নেতা বলেন, খালেদা জেলে থাকা বিএনপির জন্য প্লাস পয়েন্ট। এই দলের আরেক নেতা বলেন, আজ খালেদা জিয়া কারাগারে। আমরা যারা বাইরে আছি, আমাদের একমাত্র লক্ষ্যÑ খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতেই হবে।

২৩ ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার অর্থাৎ একইদিন একই এলাকায় এমন আলোচনা। জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেছেন, দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জেলে থাকার বিষয়টি বিএনপির জন্য প্লাস পয়েন্ট, আর আওয়ামী লীগের জন্য মাইনাস পয়েন্ট। খালেদা জিয়া এক দিন জেলে থাকলে বিএনপির ১০ লাখ করে ভোট বাড়ছে বলেও মন্তব্য করেছেন মওদুদ আহমদ।
অন্যদিকে রাজধানীতে আরেক আলোচনায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করব।’ প্রশ্ন উঠতেই পারে, তবে কী বিএনপির একাংশ চাইছেই না যে, খালেদা জিয়া মুক্ত থাকুন? মওদুদের কথার বিশেষ অর্থ থাকতে পারে!

কারণ, তিনি শিশুও না, পাগলও না, তিনি একজন ব্যারিস্টার, সিনিয়র নেতা ও প্রবীণ রাজনীতিক। খালেদা জিয়ার শাসনামলের শেষ পাঁচবছর আইনমন্ত্রী ছিলেন। শুধু তাই নয়, বিএনপির বহু ভুল একের পর এক প্রমাণিত। মওদুদের বক্তব্যের হিসেব অনুযায়ী খালেদা জিয়া ১০০ দিন জেলে থাকলেই ভোট বাড়বে ১০ কোটি। বর্তমানে বাংলাদেশে মোট ভোট ১০ কোটি ৪০ লাখ ৫১ হাজার ৮৮৩। সুতরাং খালেদা ১০০দিন জেলে কাটালে অনেক বড় লাভ।

খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে তারেক রহমান দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তিনিও মামলায় দ-িত ও নির্বাসিত। বিদেশে থেকে বাংলাদেশে প্রতি মুহূর্তে কী ঘটছে, সে বিষয়ে নজর রাখা তার পক্ষে তো মোটেই সম্ভব নয়। সর্বত্র সমালোচিত, সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি যদি দলের প্রধান হয় তাহলে প্রশ্ন উঠবেই Ñ বিএনপি কী পারিবারিক দল? জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার কারাদ- স্থগিত হয়েছে। শুনানীর পর বিচারক কী রায় দেবেন তা কারো জানবার কথা নয়।

তার বিরুদ্ধে আরো ৩৪টির মতো মামলা আছে। কে না বুঝতে পারেÑ একটি মামলায় যদি উচ্চ আদালতে সাজা স্থগিতও থাকে, তাহলে অন্য মামলায় তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টসহ বাকি মামলাগুলোও দ্রুত এগোতে পারে। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করলে জনগণের কাছে তার ফিরে যাওয়া কঠিন হবে। মামলার বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহল কীভাবে গ্রহণ করেছে, বিশ^ গণমাধ্যম কী আদৌ বড় কোনো প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে? সম্প্রতি বিদেশ ঘুরে এসে শেখ হাসিনা গণভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে খোলাসা করেছেন এই বলে যে, ‘খালেদা জিয়ার রায় নিয়ে কেউ কোনো প্রশ্নও তুলেনি, কথাও বলেনি।’ এর মানে কী?

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক, কলামিস্ট ও ঔপন্যাসিক
সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত