প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিমানবন্দরে মশার ঝাঁক বন্ধে কর্তৃপক্ষ উদাসীন

ডেস্ক রিপোর্ট : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সবখানেই মশার উৎপাত অব্যাহত থাকলেও রহস্যজনক কারণে এ সমস্যার সমাধানে সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটি কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে বারবার ব্যর্থ হচ্ছেন। যার কারণে বিমানবন্দর দিয়ে যাতায়াতকারী দেশী-বিদেশী যাত্রীসহ বিভিন্ন সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মশার কামড়ে এখন অনেকটা অতিষ্ঠ।
তবে বিমানবন্দর টার্মিনাল কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা মশাসহ বিমানবন্দর টার্মিনালে যাত্রীসেবায় মোটেও উদাসীনতা দেখাচ্ছে না। ইতোমধ্যে মশার উৎপাত কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সেটি নিয়ে আগামী সপ্তাহে ঢাকা সিটি করপোরেশন এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকে বসার ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

সর্বশেষ মশার উৎপাতের কারণে বৃহস্পতিবার রাতে মালয়েশিয়াগামী একটি ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই ঘণ্টা বিলম্বে গন্তব্যের উদ্দেশে উড়ে যায়। আর উড়োজাহাজের ভেতরে ‘মশার ঝাঁক’ ঢুকে পড়ার ঘটনায় বিমানবন্দরজুড়ে শুরু হয় হুলস্থুল কাণ্ড।

গতকাল সন্ধ্যার আগে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ডেপুটি ডাইরেক্টর মোশাররফ হোসেন নয়া দিগন্তকে বিমানবন্দর রানওয়ে এলাকায় মশার ব্যাপক উৎপাত থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, আসলে আমরা প্রতিদিন সন্ধ্যার আগেই তিন হাজার মিটারেরও বেশি লম্বা রানওয়ে এলাকা ও তার আশপাশের জঙ্গল, জলাশয়, ড্রেনেজ এলাকায় নিয়মিত ফগিং করছি। টার্মিনাল ভবনে অ্যারোসোল দিয়ে স্প্রে করছি। কিন্তু মশার উৎপাত কমাতে পারছি না। তিনি বলেন, রানওয়ে এলাকায় যেসব উড়োজাহাজে যাত্রী উঠছে তখনই গেট খোলার সাথে সাথে মশা ঢুকে পড়ছে। ওষুধ ছিটানোর পরও সমাধান হচ্ছে না কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওষুধ তো আমরা ঠিকই ছিটাচ্ছি। মশা না কমার কারণ অনুসন্ধান করে জানতে পেরেছি বিমানবন্দরের রানওয়ে এলাকার বাইরে থেকেও ভেতরে মশা প্রবেশ করছে। সেটি বন্ধে ইতোমধ্যে সিটি করপোরেশন এবং হেলথ বিভাগের (স্বাস্থ্য অধিদফতর) কর্মকর্তাদের সাহায্য চেয়েছি। আশা করছি আগামী সপ্তাহে করণীয় নিয়ে তাদের সাথে আমাদের বৈঠক হবে। তিনি দাবি করে নয়া দিগন্তকে বলেন, আমাদের জনবল যা আছে তা দিয়েই কিন্তু মশা নিয়ন্ত্রণে আমরা সচেষ্ট। এখানে উদাসীনতা বা গাফলতি করার কোনো সুযোগ নেই। কারণ এটা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ও প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। কী ধরনের মেডিসিন ও অ্যারোসল স্প্রে করা হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রানওয়ে এলাকায় আমরা ‘লারবি সাইড’ নামের ওষুধ ফগিং করছি। আর ভেতরে ও যাত্রী টার্মিনাল এলাকায় অ্যারোসল স্প্রে করা হচ্ছে। আগে প্রতিদিন এক বেলা ওষুধ দেয়া হতো। এখন বিমানবন্দরের ভেতরে বাইরে দুইবার করে ওষুধ দেয়া হচ্ছে। তারপরও মশার উৎপাত কমছে না। তার মতে, আলোর তীব্রতা মশককূলকে আকৃষ্ট করে। আর বিমানবন্দরে লাইটের সংখ্যা অধিক হওয়ায় মশার উপদ্রব অত্যধিক বলে তার ধারণা।

বিমানবন্দর টার্মিনাল এলাকায় সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন এমন একাধিক ব্যক্তি নাম না প্রকাশের শর্তে গত রাতে নয়া দিগন্তকে বলেন, মশার কারণে বসা যায় না। ভিআইপি, কনকর্স হল এলাকাসহ এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে মশার উপদ্রব নেই। মশার কারণে দেশী-বিদেশী যাত্রী ও বিমানবন্দরে আসা যাত্রীর স্বজনেরা খুবই ক্ষুব্ধ।

সম্প্রতি বিমানবন্দর রানওয়ের পূর্ব দিকের (নিকুঞ্জ) এলাকায় সরেজমিন খোঁজ নিয়ে দেখা গেল সেখানকার এলাকাবাসী জানান, রানওয়ের পূর্ব পাশের জঙ্গল পরিষ্কার না করায় এখানে মশার উপদ্রব। এক মুহূর্তও দাঁড়ানো যায় না। তবে বিমানবন্দরের সেবায় নিয়োজিত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর টার্মিনালের ডেপুটি ডাইরেক্টর মোশাররফ হোসেন বলেন, আমরা রানওয়ে এলাকার পাশে গড়ে ওঠা যেসব জঙ্গল ছিল তার বেশির ভাগই পরিষ্কার করে ফেলেছি। বর্তমানে তার জানা মতে, বিমানবন্দরে যাত্রীসেবায় কোনো ধরনের ত্রুটি নেই।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টায় মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের বোয়িং-৭৩৭ আকাশে ওড়ার জন্য রানওয়ে এলাকায় চলে যায়। তার আগেই ওই এয়ারক্রাফটের ভেতরে ঝাঁকে ঝাঁকে মশা ঢুকে পড়ে। যাত্রীদের অভিযোগে কেবিন ক্রু বিষয়টি পাইলটকে অবহিত করেন। পরে পাইলট ওই ফ্লাইটটি উড্ডয়ন না করে বে-২ এলাকায় ফিরিয়ে আনেন। সেখানে পরিচ্ছন্নকর্মীরা মশক নিধনের পর প্রায় দুই ঘণ্টা পর মালয়েশিয়ার উদ্দেশে উড়োজাহাজটি ঢাকা ত্যাগ করে। তথ্যসূত্র :  নয়া দিগন্ত

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত