প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দিনরাত মশার জ্বালায় অতিষ্ঠ রাজশাহীবাসী

ডেস্ক রিপোর্ট : শীত শেষ হতে না হতেই রাজশাহীতে বেড়েছে মশার দাপট। বাড়ি, দোকানপাট, শিক্ষা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে মশা। শুধু রাতে নয়, দিনেও চলছে মশার আক্রমণ। কয়েল, স্প্রে ও ইলেকট্রিক ব্যাট চালিয়েও রেহাই পাচ্ছে না নগরবাসী। প্রায় ৬ মাস ধরে মশা নিধনের ওষুধ নেই রাজশাহী সিটি করপোরেশনে (রাসিক)। ফলে শুধু তেল ছিটিয়ে মশা নিধনের চেষ্টা করছে রাসিক। কিন্তু এতে খুব একটা কাজ হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন নগরবাসী। গেল বছরের এপ্রিলে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে ফগার মেশিন দিয়ে নগরীতে মশক নিধন কার্যক্রম শুরু করেন সিটি মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। তবে মাত্র ২১ দিন পরই বন্ধ হয়ে যায় মশা মারার সে অভিযান। সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, মশক নিধনে অন্য যেসব ওষুধ প্রয়োগ করা হতো সেগুলোও শেষ হয়েছে ৬ মাস আগে। এখন শুধু তেল ছিটিয়ে মশক নিধনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে এটিও খুব সীমিত আকারে। নগরীর কাদিরগঞ্জের বাসিন্দা সুমন আলী বলেন, শীত শেষ হতে না হতেই বেড়েছে মশার দাপট। কয়েল কিংবা অন্য কোনো উপায়েও মশার অত্যাচার থেকে রেহাই মিলছে না। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর মশার কামড়ে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া করতে সমস্যা হচ্ছে। মশার এমন দাপটে তিনি চিকুনগুনিয়া আর এনকেফেলাইটিস রোগের আতঙ্কে ভুগছেন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাহাবুবুর রহমান খান বাদশা জানান, মশার উপদ্রবে রাজশাহীতে জাপানি এনকেফেলাইটিস ও চিকনগুনিয়া রোগের ঝুঁকি বেড়েছে। কারণ চিকনগুনিয়া হয় এডিস মশা থেকে। আর এনকেফেলাইটিস হয় কিউলেক্স মশা থেকে। রাজশাহীতে এ দুটি মশা আছে। তিনি জানান, গেল বছর রাজশাহীতে ৮ থেকে ১০ জন চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায়। ২০০৮ সালে দেশে সর্বপ্রথম চিকুনগুনিয়া রোগ ধরা পড়ে রাজশাহীতেই। আর গেল বছরের আগের বছর রাজশাহীতে এনকেফেলাইটিসে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৫৪ জন। তাই এখনই মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা না হলে এ দুটি রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জানতে চাইলে রাসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগের মশক নিধন পরিদর্শক মোহাম্মদ সানাউল্লাহ বলেন, মশক নিধনের জন্য প্রায় দুই বছর আগে ওষুধ কেনা হয়েছিল। সে ওষুধ প্রায় ৬ মাস আগে শেষ হয়েছে। ফলে ওষুধ প্রয়োগ করে মশক নিধন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। গেল বছর ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশক নিধন শুরু করা হলেও ২১ দিন পর সেটিও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা এখন ড্রেনগুলোতে তেল ছিটিয়ে মশা নিধনের চেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি জানান, প্রতিটি ওয়ার্ডে ৫০০ লিটার করে নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে প্রতিদিন ১৫ লিটার তেল ছিটানো হচ্ছে। এছাড়া বড় বড় ড্রেনগুলোতে প্রতিদিন আরও ৮ থেকে ১০ লিটার তেল ছিটানো হচ্ছে। কেরোসিন, ডিজেল ও মবিলমিশ্রিত এ তেলে মশার ডিম ও লাভা নষ্ট হয়। কিন্তু উড়তে পারে এমন কোনো মশা এ প্রক্রিয়ায় মরে না। এসব মশা মারতে হলে ফগার মেশিন ও উন্নত ওষুধ প্রয়োজন।

মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, তেল ছিটিয়ে মশা মারলে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হয়। কারণ ড্রেনগুলো নদী ও পুকুরের সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে। আবার ফগার মেশিন স্প্রে করলেও মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়। বিশেষ করে এক থেকে ১১ বছর বয়সি শিশুরা এতে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ে। তাই এ দুই প্রক্রিয়া বাদ দিয়ে তারা ওষুধ প্রয়োগ করে মশক নিধনের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। তিনি জানান, মশক নিধনের ওষুধ কিনতে এরই মধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। সোমবার দরপত্র জমা পড়বে। ওষুধ কেনা হলে মশক নিধন কার্যক্রমে গতি আসবে বলেও জানান তিনি। সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত