প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ব্যালকনিতে রিজভীর অন্যরকম প্রতিবাদ

ডেস্ক রিপোর্ট  : গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে দুর্নীতির মামলায় কারাগারে আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এরপর থেকে তার মুক্তির দাবিতে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে বিএনপি। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার রাজধানীতে কালো পতাকা প্রদর্শনের কর্মসূচি ছিল দলটির।

নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি শুরু হতে না হতেই পুলিশি বাধায় তা পণ্ড হয়ে যায়। যদিও পুলিশ বলছে, বিনা অনুমতিতে কর্মসূচি করে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় বিএনপি কর্মীদের সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

কর্মসূচি পালন করতে এসে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা পুলিশের লাঠিপেটা ও রঙিন পানিতে ভিজেছেন। অনেকে আহত হয়েছেন। সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ অনেকে গ্রেপ্তারও হয়েছেন। শুরুর দিকে নিচে কার্যালয়ে মূল ফটকের কাছাকাছি এলেও রঙিন পানি ও গ্রেপ্তার থেকে অক্ষত ছিলেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। পরে অবশ্য তিন তলার ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে কালো পতাকা প্রদর্শন করে ভিন্নভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে আলোচনায় এসেছেন বিএনপির এই নেতা।

বেলা দেড়টার পর যখন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের কেন্দ্রীয় ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা দ্রুতগতিতে নয়াপল্টন ছেড়ে যাচ্ছিলেন তখন কার্যালয়ের তিন তলার ব্যালকনিতে দাঁড়িতে কালো পতাকা প্রদর্শন করেন রিজভী। কয়েক মিনিটের প্রতিবাদ শেষে তিনি আবার ভেতরে চলে যান।

এসময় নয়াপল্টনে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে হাসতে দেখা যায়। কেউ কেউ বলে উঠেন, নিচে না নামলেও ভালোই প্রতিবাদ করছেন রিজভী ভাই! রিজভীর সঙ্গে বিএনপি নেতা অধ্যাপক আমিনুল ইসলামসহ দপ্তরের লোকজনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। খালেদা জিয়া কারাগারে বন্দী হওয়ার আগে থেকেই দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নিয়েছেন রিজভীসহ আরও কয়েকজন নেতাকর্মী।

গত ২২ জানুয়ারি দলটি ঢাকায় সমাবেশ করতে চাইলেও পুলিশ অনুমতি না দেওয়ায় তার প্রতিবাদে শনিবার ঢাকায় দেওয়া হয়েছিল কালো পতাকা প্রদর্শনের কর্মসূচি। কর্মসূচি পালনে সকাল থেকে বিএনপি নেতাকর্মীরা নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হচ্ছিলেন। অন্যদিকে কার্যালয়টি ঘিরে পুলিশও জলকামান ও সাঁজোয়া যান নিয়ে অবস্থান নেয়।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কয়েকশ কর্মী কার্যালয়ের সামনে সড়কে কালো পতাকা নিয়ে বসে পড়েন। খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে স্লোগান শুরু করেন তারা। সঙ্গে সঙ্গে লাঠিপেটা শুরু করে পুলিশ; জলকামান থেকে রঙিন পানিও ছুড়তে থাকে। পুলিশের হামলায় আহত হন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আতাউর রহমান ঢালী, ফজলুল হক মিলন, সাবেক এমপি নিলোফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায়সহ বেশ কয়েকজন। পরে তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়। নারী সদস্যসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ।

এক পর্যায়ে রঙিন পানিতে আক্রান্ত বিএনপি মহাসচিবসহ অন্য নেতারা কার্যালয়ের ভেতরে অবস্থান নেন। ভেতর থেকে ফটক আটকে স্লোগান দেন নেতাকর্মীরা। পরে কার্যালয়ের বাইরে যে প্যান্ডেল করা হয়েছিল, তা পুলিশ ভেঙে দেয়। কার্যালয়ের সামনের সড়ক ও ভেতরের ফ্লোরে প্রদর্শনের জন্য নিয়ে আসা কালো পতাকাগুলো ছড়িয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

বেলা ১১টার দিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান কার্যালয়ে ঢোকার সময় আরেক দফা আক্রমণ চালায় পুলিশ। লাঠিপেটার পাশাপাশি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, কেন্দ্রীয় নেতা হালিমা নেওয়াজ আরলি ও রাশেদা বেগম হীরাকে আটক করা হয়।

এ সময় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আরও ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও আবদুল আউয়াল মিন্টু, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন প্রমুখ।

পরে পুলিশি হামলার নিন্দা এবং গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানিয়ে দুপুর ১২টার দিকে দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে সংবাদ সম্মেলন করেন ফখরুল। তিনি বলেন, তাদের ‘সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে’ পুলিশ বিনা উস্কানিতে হামলা চালিয়ে অনেককে আহত এবং অসংখ্যজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশি বিনা উস্কানিতে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ফখরুল।পুলিশ বলছে বিএনপি নেতা-কর্মীরা সড়ক দখল করে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোয় তারা ব্যবস্থা নিয়েছে। সকাল থেকে ঘটনাস্থলে থাকা ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার এ এস এম শিবলী নোমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘সড়ক দখল করে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি হতে পারে না। তাই আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি।’

অন্যদিকে বেলা তিনটার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী আহমদ দাবি করেছেন, বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে দেড় শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আহত হয়েছেন অন্তত ২৩০ জন। তিনি অবিলম্বে নেতাকর্মীদের মুক্তি দাবি করেন।

সুত্র: ঢাকা টাইমস

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ