প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিএনপিকে ছাড় দেবে না সরকার

তারেক :  খালেদা জিয়ার মামলায় রায়ের পর পরিস্থিতি কী হয় তা নিয়ে সরকারে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছিল। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ছিল রায়ের দিন বিএনপিকে কোনো অবস্থাতেই রাস্তায় নামতে না দেয়া। যে কারণে অবস্থান-মিছিল-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। যদিও শেষ পর্যন্ত কয়েক হাজার বিএনপি নেতাকর্মী সেদিন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে যোগ দিয়েছিলো।

রায়ের পর পরিস্থিতি কোন্‌ দিকে মোড় নেয় তা নিয়েই ছিল সবচেয়ে বেশি হিসাবনিকাশ। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, খালেদা জিয়া কারাগারে গেলে বিএনপি হরতাল-অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি দেবে। সরকারি দলের নীতিনির্ধারকদের কাছেও খবর ছিল তাই।

সাংগঠনিক দুর্বলতা অথবা দলীয় কৌশল যে কারণেই হোক না কেন বিএনপি আর সে পথে হাঁটেনি। দলটি বিক্ষোভ মিছিল, অবস্থান, অনশনের মতো মামুলি কর্মসূচি দেয়। কারাগারে যাওয়ার আগে খালেদা জিয়া দলকে এই নির্দেশনা দিয়ে যান। কারাগার থেকেও তিনি একই ধরনের নির্দেশনাই দেন।

এ অবস্থায় বিএনপির সাধারণ কর্মসূচিতে বাধা দেয়া হবে কি-না এ নিয়ে শুরুর দিকে সরকারি দলের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ছিল। বিএনপি নেতারাও ঠিক বুঝতে পারছিলেন না তাদের রাজপথের কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দেয় কি-না? খালেদা জিয়ার গ্রেপ্তারের পরদিন বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে বিপুল সংখ্যক কর্মী উপস্থিত থাকলেও কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতি ছিল একেবারেই কম। হেভিওয়েট নেতাদের মধ্যে শুধু মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন। ওই দিন পুলিশ মিছিলে তেমন কোনো বাধা দেয়নি। এরপর বিএনপির কর্মসূচিগুলোতে নেতা এবং কর্মীদের সংখ্যা বাড়তে থাকে।

অনুমতিগত কারণে বারবার স্থান পরিবর্তনের পরও নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল বিপুল। ধরপাকড় অব্যাহত থাকলেও এসব কর্মসূচিতে বড় কোনো বাধা দেয়নি পুলিশ। বিএনপির সাম্প্রতিক কর্মসূচিতে পুলিশ প্রথম বড় ধরনের বাধা দেয় গত মঙ্গলবার। এদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির কর্মসূচিতে পুলিশ হামলা চালায়। গুলি, টিয়ারশেল নিক্ষেপ এবং লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটে। শুধু হবিগঞ্জেই ২০ জনের মতো বিএনপির নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হন। মেয়র জি কে গউছও আহত হন। ধরপাকড় চলে নির্বিচারে। এরপর গতকাল ঢাকায় বিএনপির কালো পতাকা প্রদর্শনের কর্মসূচিও পুলিশি অ্যাকশনে পণ্ড হয়ে গেল। এসময় বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হওয়ার পাশাপাশি অনেককে গ্রেপ্তারও করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অনুমতি না থাকার কারণে জলকামান দিয়ে পুলিশ বিএনপি কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করেছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বকশীবাজার অধ্যায়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তীব্র স্নায়ু যুদ্ধ চলছে। অবস্থাদৃষ্টে দুই শিবির এখন রয়েছে বিপরীত অবস্থানে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে ময়দানে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এরইমধ্যে একাধিক নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য রেখেছেন। অন্যদিকে, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বন্দি রয়েছেন নাজিম উদ্দিন রোডের কারাগারে। রোববার তার জামিন আবেদনের শুনানি রয়েছে। তবে এ মামলা ছাড়াও তার বিরুদ্ধে আরো তিন ডজনের মতো মামলা রয়েছে। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাটি রয়েছে নিষ্পত্তির শেষ পর্যায়ে। বিএনপির আরো বেশ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে মামলা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বিএনপির ভেতর এখন আলোচিত হচ্ছে, দলটির কত জন নেতা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের যোগ্য থাকেন। কারণ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায়ের পর সিইসি কেএম নূরুল হুদা বলেছেন, ‘বর্তমান অবস্থায় খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।’ যদিও পর্যবেক্ষকরা খেয়াল করছেন, বর্তমান সংসদেই দুই জন এমপি রয়েছেন, যারা দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এবং তাদের কারাদণ্ডের ওপর কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তাদের সংসদ সদস্যপদ বাতিলে নির্বাচন কমিশন কোনো ধরনের উদ্যোগ নেয়নি।

সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরো বেশি হার্ডলাইনের পথই বেছে নিয়েছে সরকার। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিএনপি কী কৌশল নেয় তাই হবে দেখার। ঢাকার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ৩-৪ মাসের মধ্যেই অনেক কিছু খোলাসা হয়ে যাবে।

উৎসঃ মানবজমিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ