প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কথার রাজনীতি এবং রাজনীতির কথা এক নয়

রবিউল আলম : মাঝে মাঝে মনে হয়, দেশের জনসাধারণ রাজনীতিবিদদের অবিশ্বাস ও সন্দেহ করে। রাজনীতিতো মানুষের জন্য, দেশের জন্য নিঃস্বার্থভাবে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে করে থাকে। রাজনীতি নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে, থাকবে। রাজনীতি ছাড়া দেশের উন্নয়ন ও ধ্বংস কোন কিছুই করা যাবে না, একথাও সত্য। সমাজের জ্ঞানী-গুনী, অর্থ ও বিত্তশালী, পরোপকারীরা নিজের খেয়ে দেশের সেবায় রাজনীতি করতো। এখনো সেই পথ হারিয়ে যায়নি। অনেক সামরিক অফিসার, সচিব, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী, চিকিৎসক ও প্রকৌশলীগণ অবসর সময় কাটানোর জন্য রাজনীতিকে বেছে নেয়।

এখন দেখছি বাস টার্মিনালের কুলিও রাজনৈতিক নেতা হয়। রাজনীতি হয়েছে কথার মালা। বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেয়া হলে স্বেচ্ছায় কারাবরণ করা হবে, দেশ উলট পালট করা হবে, বিএনপি ছাড়া কি আর দেশ চলবে, বিএনপি ছাড়া কি আর নির্বাচন করতে পারবে, বিভিন্ন ধরনের কথা শোনা গেছে। বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ীর সামনে একজন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ ছাড়া আর কেহ ছিলেন না।

প্রশ্ন হচ্ছে বিএনপি এত নেতাকর্মীরা কোথায়, একজন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ বিএনপি’র সম্মান রক্ষা করেছে। খালেদা জিয়া বিশ্বাস করবেন কাকে ? এক রিজভী সাহেব হচ্ছেন পঙ্গু মানুষ, সারাদিন অফিসে বসে বসে বিভিন্ন কথামালা সাজিয়ে সাংবাদিকদের পড়ে শোনান। কথামালায় কোন মার্জিত ভাব না থাকায় মাশুল দিতে হয় বিএনপি’র সাধারণ নেতা-কর্মীদের। কোন কথা কখন বলতে হবে, রাজনীতির ভাষা জানতে হবে, কর্মীদের মনের অবস্থা বোঝার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। পাগলের মত কথা বললেই কি আর রাজনীতির ভাষা অর্জন করতে পারবে? কথার রাজনীতি এবং রাজনীতির কথা এক নয়। কথা বলতে অনেকেই জানেন, সব কথা সবখানে বলা উচিৎ নয়। আমি অনেক কথা বলতে ও লিখতে পারি, সভা সমাবেশে ঘন্টার পর ঘন্টাও কথা বলতে পারি। কথা কম বলেন ঢাকা মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. সাদেক খান, মিটিং মিছিল ছাড়া খুব কম কথাই বলতেন মেয়র হানিফ সহ অনেকেই। কিন্তু বেশি কথা বলার জন্য আমি বেশি বিতর্কিত হই। সাদেক খান, মেয়র হানিফ কাজ বেশি করেন।

যে কথা রাখতে পারবেন না, সাদেক খান সেই কথা বলেন না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কারাবরণ করা কালীন চার লক্ষ পঞ্চাশ হাজার স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছেন সাদেক খান। একবারও বলেন নাই আমরা স্বেচ্ছায় কারাগারে যাবো, দেশটাকে উল্টিয়ে দিবো। রাজনীতির জন্য কিছু ভাষা আছে তা সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। সময় বলে দিবে কি কথা বলতে হবে। বিএনপি নেতারা ঘোষণা দিয়ে বলেছিলেন কত শত, কত হাজার নেতাকর্মী সরকার কারাগারে ধারণ করতে পারবেন? খালেদা জিয়ার সাথে কারাগারে যাওয়া দুরে থাক, কারাগারের গেটের সামনে একজন কর্মীও আত্মাহুতি দিতে এলেন না। তবে কেন রাজনীতির জন্য এত কথা? কথার রাজনীতি যে স্থায়ী হয় না এবং এজন্য দেশে ও বহির্বিশ্বে খালেদা জিয়া সহ বিএনপি’র লজ্জা পেতে হলো।

তবুও হয়তো রিজভী সাহেবের কথার রাজনীতি চলতে থাকবে। রিজভীর কথায় বিএনপি’র রাজনীতি চলবে এতে আমাদের কিছুই বলার নাই। আমাদের কথা হলো, বিএনপি তো আমাদের দেশের বাইরে অবস্থান করে না, কিন্তু বিএনপির অপরাজনীতির মাসুলতো এদেশের জনগণকে দিতে হয়। বিএনপির এসকল মিথ্যা কথাগুলো এদেশের সহজ সরল মানুষদেরকে বিপথে পরিচালিত করতে বাধ্য করে। রাজনীতি হলো ত্যাগের।

বিএনপি যারা করে তারাতো একাধিক দল থেকে এসেছে স্বার্থের জন্য। খালেদা জিয়া কারাবরণ করেছে এতে স্বার্থবাজরা তাদের স্বার্থ ছাড়া নড়বে না এবং স্বেচ্ছায় কারাবরণও করবে না। ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা থাকলে না হয় কিছু স্বার্থত্যাগ করা যেত। রাজনৈতিক ত্যাগের জন্য জনসমর্থন চাইলে জনগণের সেবায় কিছু করতে হবে।

লেখক : ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতি
সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত