প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঢাকা মেডিকেল হচ্ছে ৫ হাজার শয্যার

ডেস্ক রিপোর্ট : বদলে যাচ্ছে শত বছরের পুরানো ঐতিহ্য ও কালের সাক্ষী ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের অবকাঠমো। আধুনিক দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যকৌশল ও নির্মাণশৈলীতে রূপান্তর করা হবে এ প্রতিষ্ঠানটিকে। শয্যা সংখ্যা হবে ৫ হাজার। সময় লাগবে ৭ বছর। এজন্য ব্যয় হবে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেশকিছু অনুশাসন দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব বাবলু কুমার সাহা আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঢামেক হাসপাতালের আধুনিকায়নের অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। তার ইচ্ছার প্রতিফলন হিসেবে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ কিছু কাজ করেছে। এখনও বলতে গেলে আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। তবে একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে বলা যাবে না। এরই মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে একটা ধারণা পাওয়া গেছে। বিষয়গুলো আমরা প্রধানমন্ত্রীর অবলোকনের জন্য পাঠিয়েছি। তিনি যে নির্দেশনা দেবেন, সে আলোকে কাজ এগোবে।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ সূত্র জানায়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার মানুষ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করছেন। বিপুলসংখ্যক রোগীর চাপ থাকলেও হাসপাতালটিতে রয়েছে সব ধরনের সেবার সীমাবদ্ধতা। বিশেষ করে মাত্র ২ হাজার ৬ শয্যার এ হাসপাতালে দ্বিগুণেরও বেশি রোগী প্রতিদিন ভর্তি হচ্ছেন। প্রতিদিন গড়ে দেড় থেকে দুই শতাধিক রোগীর জরুরি সেবা এবং সার্জারি করতে হয়। শত বছরে ঢাকা শহরের জনসংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পেলেও হাসপাতালের সেবার মান ও সক্ষমতা তেমন বাড়েনি। এতে প্রতিদিনই হাজার হাজার রোগীর চিকিৎসায় প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এছাড়া রয়েছে স্থান সংকুলানের সীমাবদ্ধতাও। অধিকাংশ ক্ষেত্রে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের ফ্লোরে শুয়ে হাসপাতালে অবস্থান করতে হচ্ছে। হাসপাতালটিতে বর্তমানে ৬১টি ছোট-বড় ভবন রয়েছে। ১৯০৫ সালে নির্মিত হলেও এর কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৪৬ সাল থেকে। ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনসহ স্বাধিকার আন্দোলনের সর্বস্তরে; বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের অসংখ্য স্মৃতি এ হাসপাতালের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাসপাতালটির আধুনিকায়নের নির্দেশ দিলে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ তৎপর হয়ে ওঠে। এরপর স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে স্থাপত্য অধিদপ্তরকে একটি আধুনিক নকশা প্রণয়নের জন্য অনুরোধ করা হয়। কিন্তু স্থাপত্য অধিদপ্তর যথাসময়ে নকশা প্রণয়নে ব্যর্থ হয়। পরবর্তী সময়ে ঢামেক হাসপাতালের সাবেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিজানুর রহমান বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রফেশনাল অ্যাসোসিয়েট লিমিটেডকে দিয়ে একটি নকশা তৈরি করান। প্রফেশনাল অ্যাসোয়িয়েটের তৈরি করা নকশায় ৫ হাজার শয্যার ৭ লাখ ৯০ হাজার বর্গমিটারের ২০ তলা ভবনের প্রস্তাব করা হয়েছে। নকশাটির আলোকে শুধু স্থাপনা নির্মাণ ব্যয় দেখানো হয় ৭ হাজার ৫৪৫ কোটি টাকা। আর ভারি যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্রসহ প্রাক্কলিত ব্যয় দেখানো হয়েছে ২৩ হাজার থেকে ২৪ হাজার কোটি টাকা। ওই প্রস্তাবের মধ্যে আধুনিক চিকিৎসার সব যন্ত্রপাতি ও চিকিৎসাসামগ্রী রয়েছে বলে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ সূত্র জানায়। প্রফেসনাল অ্যাসোসিয়েট লিমিটেডের প্রস্তাবে ২৭টি ভবন নির্মাণের কথা বলা হয়েছে।

অন্যদিকে নির্ধারিত সময়ের পর স্থাপত্য অধিদপ্তর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আধুনিকায়নে একটি অবকাঠামোগত নকশা প্রণয়ন করে। স্থাপত্য অধিদপ্তরের নকশায় ৪ হাজার ৭১০ শয্যায় ৭ লাখ ৫০ হাজার বর্গমিটারের ১৬ তলা ভবন নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রস্তাবে হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের জন্য যন্ত্রপাতি এবং আসবাবপত্রের কোনো প্রস্তাব করা হয়নি। শুধু স্থাপনা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের নকশা প্রণয়ন করা হয়। যদিও হাসপাতাল বা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মূল কাজ সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা। উল্লিখিত নকশা দুটি ২৫ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবলোকনের জন্য উপস্থাপন করা হলে দুটি নকশাকে সমন্বয় করে একটি নকশা প্রণয়নের অনুশাসন দেওয়া হয়। তবে দুটি নকশাকে সমন্বয় করে একটি নকশা প্রণয়ন করা অনেক ক্ষেত্রে দুরূহ ব্যাপার বলে কর্মকর্তারা জানান। কারণ দুটি নকশার মধ্যে প্রায় ৪০ হাজার বর্গমিটার কমবেশি রয়েছে। এছাড়া চিকিৎসাসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য উপায়-উপকরণ নেই সরকারি প্রতিষ্ঠান স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রস্তাবে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রফেশনাল অ্যাসোসিয়েট লিমিটেডের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, আধুনিকায়নের সম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে সময় লাগবে ৭ বছর। ঢামেক হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু রেখে পর্যায়ক্রমে স্থাপনা তৈরি করা হয়। সূত্র : আলোকিত বাংলাদেশ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত