প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নির্বাচনী ফল নিয়ে বিপাকে ইসি

ডেস্ক রিপোর্ট : অভিযোগ যথাযথভাবে নিষ্পত্তি না করে বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনী ফলের গেজেট প্রকাশ করায় বিপাকে পড়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিশেষ করে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত তিনটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে আইনি জটিলতা। এ নিয়ে আদালত অবমাননার ঝুঁকিতে রয়েছে কমিশন। এর আগে একই কারণে আদালত অবমাননার দায়ে ক্ষমাও চাইতে হয়েছিল রকিব কমিশনকে।

প্রার্থীদের অভিযোগ ইসি আমলে না নেয়ায় বাধ্য হয়েই ট্রাইব্যুনালের শরণাপন্ন হচ্ছেন সংক্ষুব্ধরা। এতে ঝুলে যাচ্ছে অভিযোগের নিষ্পত্তি। এমনও ঘটনা ঘটেছে নির্বাচনের প্রায় দুই বছর পর ট্রাইব্যুনালের রায়ে পরিবর্তন হয়ে গেছে ইউপি চেয়ারম্যান। গেজেট প্রকাশের আগে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রার্থীদের অভিযোগ নিষ্পত্তি করলে এসব ঘটনা এড়ানো সম্ভব ছিল বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইসির কয়েকজন কর্মকর্তার দাবি, প্রভাবশালীদের চাপে কখনও কখনও আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করে গেজেট প্রকাশ করা সম্ভব হয় না। এসব ক্ষেত্রেই মূলত নানা জটিলতায় পড়তে হয় ইসিকে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, এ মুহূর্তে যে তিনটি ইউপি নির্বাচন নিয়ে আইনি জটিলতা চলছে, সেগুলো হচ্ছে- কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বারপাড়া ও লাকসাম উপজেলার মুদাফফরগঞ্জ উত্তর এবং মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ইউনিয়ন পরিষদ। অভিযোগ নিষ্পত্তি না করেই মুদাফফরগঞ্জ উত্তর ও ফুলতলা ইউপির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান-মেম্বারদের নির্বাচনী ফলের গেজেট প্রকাশ করে কমিশন। কিন্তু আদালত অবমাননার ভয়ে মুদাফফরগঞ্জ উত্তর ইউপির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের শপথ না পড়াতে কুমিল্লার জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়েছে ইসি। কারণ এ গেজেট প্রকাশ করায় ইসির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি হয়েছে। আর ফুলতলা ইউপি নির্বাচনের ফলের গেজেটের কার্যকারিতা ইসি নিজেই স্থগিত রেখেছে। এ নির্বাচনে অংশ নেয়া একজন প্রার্থী আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে উচ্চ আদালতে আবেদন করায় এ পদক্ষেপ নেয়া হয়।

এছাড়া ইসির আইন শাখার মতামত উপেক্ষা করে বারপাড়া ইউপি নির্বাচনী ফলের গেজেট প্রকাশের জন্য বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। পরবর্তীকালে ওই গেজেট প্রকাশ না করে বিজি প্রেস থেকে প্রত্যাহার করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গেজেট প্রকাশ করা হলে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করা হবে- এ মর্মে একজন সংক্ষুব্ধ প্রার্থী ইসিকে লিখিতভাবে চিঠি দেন। এরপরই গেজেট প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসির একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সাধারণত আইনি সমস্যার সমাধান করে নির্বাচন আয়োজন ও জয়ীদের গেজেট প্রকাশ করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে রহস্যজনক কারণে সব প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ না করেই তড়িঘড়ি করে নির্বাচনের আয়োজন ও গেজেট প্রকাশে তৎপরতা দেখাচ্ছেন ঊর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তা। এর খেসারতও দিতে হচ্ছে ইসিকে। আটকে যাচ্ছে বিভিন্ন নির্বাচন ও ফলাফলের গেজেটের কার্যকারিতা। তারা আরও জানান, এর আগে কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন কমিশন চাঁদপুরের একটি ইউপি নির্বাচন সংক্রান্ত অভিযোগ নিষ্পত্তি না করে সংক্ষুব্ধ প্রার্থীকে ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল। ওই ঘটনায় তৎকালীন সিইসিসহ পাঁচ কমিশনার উচ্চ আদালতে গিয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে আদালত অবমাননা থেকে পার পেয়েছিলেন।

প্রসঙ্গত, উল্লিখিত তিন ইউনিয়ন পরিষদে ২৮ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। তিনটিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন। আর নির্বাচন নিয়ে অভিযোগকারীদের মধ্যে দু’জন বিএনপি প্রার্থী ও অপরজন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী।

অভিযোগ যথাযথভাবে নিষ্পত্তির বিষয়ে ইসির সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচনে যারা হেরে যান, তারা নানা ধরনের অভিযোগ করে। আমরা সব অভিযোগ আমলে নেই না। তবে যেগুলো আমলে নেয়ার মতো সেগুলো তদন্ত করি। এমনকি নির্বাচন নিয়ে অনিয়মের খবর পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পর তা তদন্ত করে দেখেছি। তিন ইউপির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে এ ব্যাপারে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে সচিব বলেন, আদালত অভিযোগ তদন্ত করে তা নিষ্পত্তি করার আদেশ দিলে, আমরা তখন গেজেট স্থগিত বা গেজেট হওয়ার পরও শপথ অনুষ্ঠান না করতে সংশ্লিষ্টদের বলি। সবকিছুই নিয়ম অনুযায়ী হয়ে থাকে।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে গেজেট প্রকাশ করা পর্যন্ত সব অভিযোগ নিষ্পত্তি করা ইসির আইনি দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ ছহুল হোসাইন। যুগান্তরকে তিনি বলেন, ইসির স্বচ্ছতার জন্যই অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করা দরকার। যেসব অভিযোগ মঞ্জুর করা হবে, আর যেগুলো মঞ্জুর করা হবে না- দুই ক্ষেত্রেই যুক্তিসঙ্গত কারণ উল্লেখ করে অভিযোগকারীকে জানাতে হবে। নইলে কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠার সুযোগ তৈরি হয়।

ইসির সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, নির্বাচনের আয়োজন ও নির্বাচিতদের গেজেট প্রকাশের বিষয়ে প্রভাবশালী মহল ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে তদবির করে। এ কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে তড়িঘড়ি করে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিতে হয়। তারা আরও জানান, এবার ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন নিয়ে বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতে, একের পর এক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে আদালত অবমাননার নোটিশ আসছে। বিষয়টি নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে রয়েছেন নির্বাচন কর্মকর্তারা। এসব ঘটনায় ইসির সার্বিক কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তারা।

বারপাড়া ইউপির গেজেট প্রত্যাহার : ইসির নথিপত্র ঘেঁটে ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, বারপাড়া ইউপি নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ আনেন বিএনপি প্রার্থী মো. আলাউদ্দীন। তদন্ত সাপেক্ষে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করতে সিইসি ও ইসির সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। ওই অভিযোগের পক্ষে বেশকিছু তথ্য-উপাত্তও জমা দেন আলাউদ্দীন। কিন্তু ওই অভিযোগের নিষ্পত্তি না হওয়ায় হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করলে আদালত অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে ইসিকে নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ইসির আইন শাখা এক মতামতে কমিশনকে জানায়, সিইসির কাছে জমা হওয়া আবেদনটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বারপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান পদের ফল গেজেট আকারে প্রকাশ করা আইনগত সমীচীন হবে না। ওই নথি ইসির অনুমোদনের জন্য তোলা হলে একজন পদস্থ কর্মকর্তা সেখানে নিজ হাতে নোট লেখেন- ‘নির্বাচন সুসম্পন্ন হয়েছে। এমতাবস্থায় আবেদনকারীর আবেদন নাকচ করে পত্র দিয়ে জানিয়ে দেয়া যায়। একই সঙ্গে বারপাড়াসহ ওই উপজেলার তিন ইউপির গেজেট প্রকাশ করা যায়।’ এরপর ওই অভিযোগের তদন্ত না করে গেজেট প্রকাশের অনুমোদন দেয় কমিশন।

আরও জানা গেছে, ওই নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. মনির হোসেন তালুকদার হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে সিপিএল (নং ১৯৯/২০১৮) দাখিল করেন। পরবর্তীকালে হাইকোর্টের ওই আদেশ স্থগিত করেন চেম্বার জজ আদালত। স্থগিতাদেশের পর দ্রুত গেজেট প্রকাশের জন্য ইসিতে আবেদনও করেন মনির হোসেন। এরপরই প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ না করেই একই উপজেলার বারপাড়া, ইলিয়টগঞ্জ (দক্ষিণ) ও দৌলতপুর ইউপির নির্বাচনের ফলে গেজেট প্রকাশের জন্য বিজি প্রেস পাঠিয়ে দেয় ইসি। কিন্তু এক সপ্তাহ পরই আপিল বিভাগ ওই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেন এবং হাইকোর্ট বিভাগকে ওই রিট আবেদন পুনরায় শুনানি করে নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেন। এরপরই গেজেট প্রকাশ না করে বিজি প্রেসকে চিঠি দিয়ে তা প্রত্যাহার করে নেয় কমিশন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অভিযোগকারী মো. আলাউদ্দীনের আইনজীবী মো. রুহুল কুদ্দুস যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ রিটার্নিং ও নির্বাচন কমিশন তদন্ত করে নিষ্পত্তি না করায় আমরা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। বর্তমানে বিষয়টি হাইকোর্টে বিচারাধীন। এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নিয়েছে তা জানাতে ইসির আইনজীবীকে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লার বারপাড়া ইউনিয়নের গেজেট প্রকাশ করতে গিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় একই উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ (দক্ষিণ) ও দৌলতপুরের নির্বাচনী ফলের গেজেট প্রকাশে দেরি হয়। এ দুই ইউপিতে ২৮ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণ হলেও নির্বাচিতদের গেজেট প্রকাশ করা হয় গত পহেলা ফেব্র“য়ারি। ৮ ফেব্র“য়ারি ওই গেজেটের কপি কুমিল্লার জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে পাঠানো হয়।

মুদাফফরগঞ্জ উত্তর ইউপির শপথ না পড়াতে চিঠি : আরও জানা গেছে, কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার মুদাফফরগঞ্জ উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ করেন বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহ আলম। ওই অভিযোগ রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইসি নিষ্পত্তি না করেই এ ইউপির নির্বাচিতদের নামের গেজেট প্রকাশের জন্য ১৮ জানুয়ারি বিজি প্রেস পাঠায়। ২৩ জানুয়ারি ওই গেজেট প্রকাশিত হয় এবং ২৫ জানুয়ারি গেজেটের ওপর পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে কুমিল্লার জেলা প্রশাসকের কাছে গেজেটের কপি পাঠিয়েছে ইসি। এর আগেই ১৭ জানুয়ারি ওই অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গেজেট প্রকাশ না করার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এরই মধ্যে নির্বাচিতদের গেজেট প্রকাশ করায় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করেন বিএনপি প্রার্থী। এ ঘটনায় আদালত অবমাননার রুল জারি হয়েছে বলে জানান ইসির কর্মকর্তারা। এমন পরিস্থিতিতে নবনির্বাচিতদের শপথ না পড়াতে কুমিল্লার জেলা প্রশাসককে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে ইসি। তবে ইসির একজন কর্মকর্তা দাবি করেন, গেজেট প্রকাশের আগে আদালতের ওই আদেশ তারা পাননি। বিষয়টি না জানার কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

ফুলতলা ইউপির গেজেটের কার্যকারিতা স্থগিত : আরও জানা গেছে, মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠান ও ফলের গেজেট প্রকাশ করায় উচ্চ আদালতে ইসির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ দায়ের করেছেন বর্তমান চেয়ারম্যান মো. ফয়াজ আলী। আর এ কারণেই ওই নির্বাচনের গেজেট প্রকাশ করা হলেও তা কার্যকর করতে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও মৌলভীবাজারের ডিসিসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে ওই গেজেটের কপি পাঠায়নি ইসি। তবে ফয়াজ আলীর দায়ের করা আদালত অবমাননার আবেদনের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার ইসির প্যানেল আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযোগকারী মো. ফায়াজ আলী বলেন, ‘ভোটার তালিকা থেকে ৩২২ জন মৃত ভোটারের নাম বাদ দেয়া, সীমানা পুনর্নির্ধারণ এবং ওয়ার্ডভিত্তিক ভোটার সংখ্যার সমতার দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু ইসি আমার অভিযোগ আংশিক পালন করেছে। আর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সীমানার পুনর্নির্ধারণ না করা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন এ ইউনিয়নে নির্বাচন করেছে। এখন শুনছি ভোটের আগের দিন ২৭ ডিসেম্বর নাকি এসব সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। আমার প্রশ্ন এসব সমস্যার সমাধান না করে তফসিল ঘোষণা করল কীভাবে? এসব কারণেই আমি আদালত অবমাননার অভিযোগ দাখিল করেছি।’

জানা গেছে, ওই নির্বাচনে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মাসুক আহমদ মাসুকের কাছে হেরে যান স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ফায়াজ আলী। এরপরই আদালত অবমাননার পিটিশন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গেজেট প্রকাশ স্থগিতের জন্য আবেদন করেন তিনি। স্থানীয়রা জানান, অনেক বছর ধরেই চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন মো. ফায়াজ আলী। নতুন নির্বাচিতরা শপথ না নেয়া পর্যন্ত দায়িত্বে থাকছেন এ চেয়ারম্যান।

দুই বছর পর চেয়ারম্যান পরিবর্তন : ইসি সূত্রে আরও জানা গেছে, কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের কমিশনের আমলে ২০১৬ সালে বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার চালুয়াবাড়ী ইউপি নির্বাচনের অভিযোগ নিষ্পন্ন না করে গেজেট প্রকাশ করেছিল ইসি। বিষয়টি নিয়ে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়। সম্প্রতি ওই মামলার চূড়ান্ত রায়ে ইউপি চেয়ারম্যান পরিবর্তন হয়ে যায়। রায় অনুযায়ী, বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান আবদুল কুদ্দুস সরকারের পরিবর্তে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শওকত আলীকে চেয়ারম্যান হিসেবে সম্প্রতি সংশোধিত গেজেট প্রকাশ করেছে ইসি। সূত্র : যুগান্তর

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত