প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নতুন পরীক্ষাপদ্ধতি সম্পর্কে ড. মীজানুর রহমান
উন্মাদ হলে কখনো কখনো সেই মাথা কাটতে হয়

আশিক রহমান : ‘মাথাব্যথা হলে মাথা কাটা উচিত কিনা’, এসব আসলে মান্দাতা আমলের কথা। মাথা যদি উন্মাদ হয়ে অন্যের অনিষ্ট করার চেষ্টা করে সেই মাথা কখনো কখনো কাটতে হয়। কখনো কখনো মাথা সার্জারিও করতে হয়। কোনো গাছ যখন অসংলগ্নভাবে বাড়ে, ঝড়ে ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয় তখন সেই গাছও কাটতে হয়। প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের নতুন পরীক্ষাপদ্ধতির উদ্যোগ বিষয়ে জানতে চাইলে এসব কথা বলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান।

আমাদের অর্থনীতির সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, নতুন কোনো পদ্ধতিই শতভাগ সফল হয় না। যেকোনো নতুন পরীক্ষাপদ্ধতির বিপরীতে জালিয়াতি চক্র হয়তো আরেকটি বুদ্ধি বের করে। একটা-দুটো পরীক্ষায় হয়তো তারা (প্রশ্নফাঁসকারী) নতুন বুদ্ধিটা ধরতে পারবে না, কিন্তু এর পরেই হয়তো নতুন কোনো ফন্দি বের করে ফেলবে। চোরের বুদ্ধি যেহেতু বাড়ে, আমাদেরও (যারা প্রশাসনে রয়েছেন) প্রতি বছর নতুন নতুন ফন্দি-ফিকির বের করতে হবে, যাতে এই চোরদের অপকর্ম রোধ করা যায়। তিনি আরও বলেন, প্রশ্ন জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত হওয়ার অন্যতম কারণ অর্থ।

কিছু মানুষ প্রশ্ন ফাঁসকে ব্যবসা হিসেবে নিয়েছে। এটা দুই শ্রেণির মানুষ করে। কোচিং ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের একটা ফন্দি। শিক্ষার্থীদের ভালো ফল নিশ্চিত করতে পারলে একটা আর্থিক বেনিফিট তারা পায়। কিছু শিক্ষকও বর্তমানে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনার সঙ্গে জড়িত হচ্ছেন। যাদের হয়তো শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে নেওয়ার কথা ছিল না, ঘটনাক্রমে অথবা অন্য কোথাও লোভনীয় সুযোগ না পেয়ে এই পেশায় রয়েছেন। হতাশা থেকেই হয়তো তারা শিক্ষকতার এই মহান পেশাটাকে বাণিজ্যিক করে ফেলেছেন। অল্প সময়ে বেশি টাকা আয়ের চেষ্টা করছেন। প্রশাসন বা প্রেসের কিছু কর্মকর্তাও হয়তো বাইরের ফন্দিবাজদের সঙ্গে যোগসাজোসে এই কাজটা করে।

ড. মীজানুর রহমান বলেন, নতুন পরীক্ষা পদ্ধতির সঙ্গে শিক্ষার্থীদেরও খাপ খাওয়ানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে এসব পদ্ধতির কোনোটিই আমাদের সৃষ্টি নয়, এসেছে উন্নত দেশগুলো থেকে। সারাবিশ্বেই সৃজনশীল পরীক্ষাপদ্ধতি রয়েছে। সৃজনশীলে ফিরে যেতে হবে আমাদেরকেও। সৃজনশীল পরীক্ষাপদ্ধতি পড়ানোর মতো দক্ষ শিক্ষকের অভাব রয়েছে আমাদের।

সরকার যদি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেয়, যে সমস্যা রয়েছে তা দূর হবে। তিনি বলেন, স্কুল-কলেজগুলোতে সচেতনতামূলক কর্মকা- পরিচালিত করতে হবে। অভিভাবক, সমাজের সুধীজনদের সঙ্গে সভা-সেমিনারের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রত্যেক জেলা ও উপজেলায় অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র শিক্ষক, সম্মানিতজনদের নিয়ে সচেতনতামূলক কর্মকা- বাড়াতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রয়াস থাকলে জালিয়াতি চক্রের অপচেষ্টা বন্ধ সম্ভব।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত