প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘ইনফ্লাক্স অব পিপল ফ্রম বাংলাদেশ’, ভারতীয় সেনাপ্রধানের এ মন্তব্যের অর্থ কী?

মোহাম্মদ আলী বোখারী : নিজ দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যে মুসলিমদের স্বার্থরক্ষায় ব্যাপক রাজনৈতিক উত্থানে ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াতের মন্তব্যে ভারতের গণমাধ্যম সরগরম হয়ে উঠেছে। কেননা গত বুধবার এক সেমিনারে তিনি জাতিকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, চীনের সহযোগিতায় পাকিস্তানের ‘প্রোক্সি ওয়ার’ বা প্রতিনিধিত্বমূলক যুদ্ধের পাঁয়তারা হিসেবে বাংলাদেশের মানুষের অন্তঃপ্রবাহ শুরু হয়েছে। তা সত্ত্বেও সেনা সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে ভারতের ‘এনডিটিভি’ বলেছে, জেনারেল রাওয়াতের বক্তব্যটি ‘রাজনৈতিক কিংবা ধর্মীয় নয়’।

এতে প্রশ্ন উঠেছে, আসলেই কি সেনাপ্রধানের সেটি কোনো নিছক বক্তব্য, যেখানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত হর্ষবর্ধন শ্রিংলা দুই দেশের সম্পর্ককে ‘গোল্ডেন এইজ’ বা সোনালী সময় হিসেবে বারংবার অভিহিত করে যাচ্ছেন। এক্ষেত্রে জেনারেল রাওয়াতের মন্তব্যে চারটি বিষয় সুষ্পষ্ট। প্রথমত, জেনারেল রাওয়াত বাংলাদেশের মানুষের অন্তঃপ্রবাহ বা অনুপ্রবেশ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। দ্বিতীয়ত, সেই অনুপ্রবেশ তার দৃষ্টিতে চীনের সহযোগিতায় পাকিস্তানের ‘প্রোক্সি ওয়ার’ বা প্রতিনিধিত্বমূলক যুদ্ধের পাঁয়তারা হিসেবে গণ্য করেছেন। তৃতীয়ত, সেনা সূত্র সেটিকে ‘রাজনৈতিক কিংবা ধর্মীয় নয়’ বললেও ‘প্রোক্সি ওয়ার’ বিষয়টি উড়িয়ে দেয়নি। চতুর্থত, সম্প্রতি আসাম সরকার রাজ্যের নাগরিকদের যথাযথভাবে চিহ্নিতকরণে ‘ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেনস’ পদ্ধতি চালু করেছে, সেক্ষেত্রে রাজনৈতিক হট্টগোলে রোহিঙ্গা সমস্যার মতো একটি ‘পুশ-ব্যাক’ আশঙ্কা সম্পৃক্ত। তাতে ভারতীয় গণমাধ্যমে জেনারেল বিপিন রাওয়াতের প্রকাশিত মন্তব্যগুলো আমাদের পরখ করা প্রয়োজন।

বস্তুত ভারতের আসাম রাজ্যে বদরুদ্দিন আজমলের নেতৃত্বাধীন ‘অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট’, সংক্ষেপে ‘এআইইউডিএফ’-এর উত্থান এবং রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মুসলিম জনস্ফীতি সম্পর্কিত কিছু প্রতিবেদনের প্রেক্ষাপটে জেনারেল রাওয়াত তেমন ভাষ্যটি দিয়েছেন। তিনি ১৯৮৪ সালে জাতীয় নির্বাচনে বিজেপির দুটি আসনের উল্লেখ করে বলেছেন, ‘এআইইউডিএফ বলে একটি দল রয়েছে। খেয়াল করে দেখুন, বিজেপি বছরের পর বছর যে গতিতে বেড়েছে, ওরা আসামে তার চেয়েও দ্রুত বেড়েছে’। দেখা যাচ্ছে, ২০০৫ সালে গঠিত ‘এআইইউডিএফ’-এর বর্তমানে লোকসভায় ৩টি ও রাজ্যসভায় ১৩টি আসন রয়েছে।

এতে আসামের বিভিন্ন জেলায় মুসলিম আধিক্যটি বোঝাতে রাওয়াত বলেছেন, ‘সেই জনবিন্যাস এখন সহজে পাল্টে ফেলা সম্ভব নয়। যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, জনস্ফীতির দরুণ সেটা ৫ থেকে ৮-৯টি জেলায় বিস্তৃত হয়েছে’। এ প্রসঙ্গে চীনের সহযোগিতায় পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্বমূলক যুদ্ধের পাঁয়তারা হিসেবে বাংলাদেশের মানুষের অনুপ্রবেশকে তিনি ‘পরিকল্পিত’ বলে চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের পশ্চিমা প্রতিবেশীর কারণে একটি পরিকল্পিত অভিবাসন প্রক্রিয়া চলছে। তারা সব সময়ই চাইবে এই এলাকাটি তাদের দখলে থাকুক এবং তাতে প্রতিনিধিত্বমূলক যুদ্ধের পাঁয়তারাটি করতে পারবে। আমি মনে করি প্রতিনিধিত্বমূলক খেলাটি আমাদের পশ্চিমা প্রতিবেশী ভালোভাবেই চালাচ্ছে, যার সমর্থনে রয়েছে আমাদের উত্তরের সীমান্ত (চীন), যাতে এলাকাটি বিপর্যস্ত থাকে। সে কারণে আমরা কিছু অভিবাসন তৎপরতা দেখতে পাব। তাই এই সমস্যা চিহ্নিত করে তার আমূল সমাধানটি অপরিহার্য’।

এখন দেখার বিষয়, ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল রাওয়াতের এই অভিমতের আলোকে আসাম রাজ্যে কী ধরনের সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও সমাধানমূলক কর্মপন্থা প্রণয়ন করা হয়। তবে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হচ্ছে, এই অভিমতের প্রেক্ষাপটে ‘এআইইউডিএফ’ নেতা বদরুদ্দিন আজমল টুইটারে লিখেছেন, ‘জেনারেল বিপিন রাওয়াত একটি দুঃখজনক রাজনৈতিক বক্তব্য রেখেছেন! একটি গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধে প্রতিষ্ঠিত দল বিজেপির চাইতে অগ্রসরমান, সেটি একজন সেনাপ্রধানের উদ্বেগের কারণ কেন? বৃহৎ দলগুলোর অপশাসনের জন্যই তো বিকল্প দল হিসেবে এআইইউডিএফ ও এএপি সমৃদ্ধ হয়েছে’।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত