প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এখনও বড় সমস্যা

ডেস্ক রিপোর্ট : দুর্নীতির বৈশ্বিক ধারণা সূচকে বাংলাদেশের দুই ধাপ অগ্রগতি হলেও এটা দেশের জন্য এখনও বড় সমস্যা বলে মনে করছেন বিশিষ্টজন। গতকাল ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) দুর্নীতির ধারণা সূচকে দেখা যায়, বাংলাদেশে দুর্নীতি কমেছে। বিশিষ্টজনের মতে, সূচকে অগ্রগতি দেশের জন্য ইতিবাচক। তবে চোখে পড়ার মতো উন্নতি হয়নি। দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষকে এখনও পদে পদে ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। তবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আগের চেয়ে সক্রিয় হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। দুর্নীতি দূর করতে সরকারের সদিচ্ছার পাশাপাশি দুর্নীতিবাজদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দুর্নীতির ধারণা সূচকে দুই ধাপ অগ্রগতি হয়েছে, এটা দেশের জন্য ইতিবাচক। তবে দেশে দুর্নীতি এখনও বড় সমস্যা। বিভিন্ন ক্ষেত্রেই দুর্নীতি আছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, দুর্নীতির কারণে জিডিপি বর্তমান আকারের এক-চুতর্থাংশ কম হচ্ছে। না হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার আরও ২ শতাংশ বাড়তে পারত। দুর্নীতির কারণে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা নষ্ট হয়। দুর্নীতির কারণে সরকারের রাজস্ব আয় কম হয়। সরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির কারণে লোকসান হয়। উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির কারণে খরচ বাড়ে, যার ফলে যে পরিমাণ উন্নয়ন হওয়ার কথা তা হয় না। সামাজিক খাতে দুর্নীতির কারণে দারিদ্র্য বিমোচন কম হয়। আবার বেসরকারি খাতের দুর্নীতির কারণে খেলাপি ঋণের মতো আর্থিক সমস্যা বেড়ে যায়। অর্থ পাচারও হয়। যেসব ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স দেখানো দরকার সব ক্ষেত্রে তা সম্ভব হচ্ছে না। সংশ্নিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। বিশেষ করে দুদক যাতে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, মাঠ পর্যায়ে যা দেখা যাচ্ছে তাতে চোখে পড়ার মতো উন্নতি হয়নি। বড় ধরনের সংস্কার পদক্ষেপ ছাড়া দুর্নীতি কমানো সম্ভব নয়। কিন্তু সে ধরনের সংস্কারের উদ্যোগও নেই। আবার রাষ্ট্রপরিচালনায় যারা রয়েছেন তাদের শীর্ষ মহলেও এ নিয়ে বিশেষ কোনো উদ্যোগ রয়েছে বলে মনে হয় না। ফলে খালি চোখে দেখলে দুর্নীতির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের উন্নতি হয়েছে, তা বলা মুশকিল। তবে একটা জায়গায় কিছুটা উন্নতি হয়েছে। দুদক আগে নিষ্ফ্ক্রিয় ছিল, এখন সংস্থাটি তুলনামূলক বেশি সক্রিয়। অনেকের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে, কাউকে কাউকে গ্রেফতার করছে। কিন্তু ব্যাপক সংস্কার উদ্যোগ ও উচ্চ মহলের সদিচ্ছা ছাড়া দুর্নীতি কমানো যাবে না। যে উন্নতি হয়েছে, তা স্থায়ী করা দুস্কর হবে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার প্রশ্ন করেন, কাগজে দু’ধাপ এগোলেও বাস্তবে কি উন্নতি হয়েছে? বিশ্বের দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হিসেবে বাংলাদেশকে ধরা হয়। দেশের সাধারণ মানুষকেও জিজ্ঞেস করলেও এমন উত্তর মিলবে। দুর্নীতির কারণে জনগণ পদে পদে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। তারা সরাসরি দুর্নীতির ভুক্তভোগী। দুই ধাপ এগিয়েছে- এ নিয়ে সন্তুষ্টির কারণ নেই। বরং দুর্নীতি প্রতিরোধে কী করণীয়, তা জাতীয়ভাবে অগ্রাধিকার পাওয়া দরকার। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের যেভাবে বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দ্রুত বিচার ও শাস্তি দেওয়া হয়েছে, দুর্নীতিবাজদের জন্য এ রকম বিশেষ ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এই বিশেষ ট্রাইব্যুনালে মহাদুর্নীতিগ্রস্তদের দ্রুততার সঙ্গে বিচার করা উচিত। না হলে দুর্নীতি পুরো দেশকে ধ্বংস করে দেবে।

দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ এ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তিনি জানিয়েছেন, আগামী রোববার তারা টিআইবির এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের মতামত দেবেন। সমকাল

সর্বাধিক পঠিত