প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সময়ানুবর্তিতাই জীবন

ডেস্ক রিপোর্ট : সময় জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান বস্তু। যা একবার চলে গেলে আর ফিরে পাওয়ার উপায় নেই। সেজন্যই, জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয় দক্ষতাগুলোর একটি হচ্ছে সময়ানুবর্তিতা। তাই, সময়ানুবর্তিতাকে জীবন অনুবর্তিতা বললে তা কিন্তু মোটেও বাড়িয়ে বলা হয় না। সময়ানুবর্তী হওয়ার মানে হলো জীবনের প্রতিটি দিনকে অর্থবহ করে তোলার চেষ্টা করা। আর এ জন্য প্রয়োজন আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মানুবর্তিতা।

সময়ের সুব্যবস্থাপনা শুধু কর্মদক্ষতাই বাড়িয়ে দেয় না, এর আছে অনেক স্বাস্থ্যগত সুফলও। সময়ানুবর্তিতা দুশ্চিন্তা এবং চাপ কমায়। বাড়িয়ে দেয় জীবনের সার্বিক গুণগত মান।

আপনি যদি নিত্যদিনের কাজের চাপে নিয়মিত হাঁপিয়ে ওঠেন কিংবা কাজের ভারে আপনার জীবনযাত্রা সব সময় জটিল পরিস্থিতিতে আটকে থাকে, তবে হতে পারে আপনার সময় ব্যবস্থাপনার দক্ষতায় ঘাটতি আছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত অন্ট্রাপ্রেনেউর ম্যাগাজিনে প্রকাশিত কিছু কার্যকর পরামর্শ কাজে লাগিয়ে আপনি বাড়িয়ে নিতে পারেন সময় ব্যবস্থাপনার দক্ষতা। নিম্নে তা তুলে ধরা হলো-

নিজের জন্য সময় নির্দিষ্ট করুন: ভাগে ভাগে সাজিয়ে নিন সময়। খাওয়া, ঘুম, ব্যায়াম ইত্যাদির জন্য পর্যাপ্ত সময় রাখুন। এতে আপনার মনোযোগ ঠিক থাকবে। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য আলাদা সময় রাখলে তা আপনার কাজের স্পৃহা বাড়িয়ে দেবে। আপনি অন্যান্য কাজ করার বেশি বেশি সময় পাবেন।

সময় ব্যয়ের ধরন মূল্যায়ন করুন: কীভাবে আপনার সময় কাটছে তা খেয়াল করুন। প্রতিদিন জ্যামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হয়? কী করেন সেই সময়টাতে? বসে না থেকে কী বই পড়া যেতে পারে কিংবা অন্য কাজের কিছু করা যায়? এই অযথা সময়গুলোকে কাজে লাগিয়ে আপনি কিন্তু ছোটখাটো কাজ সেরে নিতে পারেন। প্রথমে কষ্ট হলেও ধীরে ধীরে এটাই আপনার জীবনযাপনের অংশ হয়ে যাবে।

অদরকারি কাজকে ‘না’ বলুন, দরকারি কাজকে গুরুত্ব দিন: আমাদের হাতের সময় অফুরন্ত নয়, সীমিত। তাই সময়কে গুরুত্বের ক্রমানুযায়ী ব্যবহার করতে শেখা অত্যাবশ্যক। এতে দিনশেষে বড় কাজগুলো অসমপূর্ণ পড়ে থাকবে না।

নির্বিঘ্ন কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করুন: প্রতিটি মানুষের কাজ করার পছন্দের ধরন রয়েছে। কেউ কেউ হয়তো কাজের সময় কানে হেডফোন গুঁজে দিয়ে হালকা গান শুনতে শুনতে কাজ করতে ভালোবাসেন। কারো কারো হয়তো কাজের সময় দরকার হয় নিঃশব্দ নীরবতা। তবে বাস্তবিক কাজের ক্ষেত্র যে রকমই হোক, মানিয়ে নিতে চেষ্টা করুন। কাজের সময় একাগ্র থাকার চেষ্টা করুন। কাজের পাশাপাশি অন্য কিছুতে মনোযোগ দেয়া- যেমন টিভি দেখা, গল্প করা, ফোনে কথা বলা, ইন্টারনেট চালানো এসব বন্ধ রাখার চেষ্টা করুন।

প্রয়োজন মনে হলে বিরতি নিন: সবাই কখনো না কখনো কম বেশি হাঁপিয়ে ওঠে। কাজের চাপ অনেক সময় মনকে বিপর্যস্ত করে তোলে। ফলে বাধাগ্রস্ত হয় কাজের গতি। এমনটি হলে বিরতি নেয়া ভালো। তা হতে পারে স্বল্প সময়ের। ভালো না লাগলে উঠে পড়ুন। একটু হাঁটুন। চা-কফি খান। কলিগদের সঙ্গে একটু আড্ডা দিন। সম্ভব হলে একটা দিন ছুটি নিন। কাজের চাপে পিষ্ট দেহ-মনকে চনমনে করে তুলতে প্রয়োজনীয় খোরাক দিন। মাঝে মাঝে এধরনের একটি ছোট্ট বিরতি নেয়াটা উপকারী।

পরিকল্পিত, গোছানো এবং স্বাস্থ্যকরভাবে সময় কাজে লাগানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে তা আপনার কর্মক্ষমতা বাড়াবে। উদ্বেগ কমাবে। ত্বরান্বিত হবে সাফল্য। আর আপনার হাতে আসবে জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের নিয়ন্ত্রণ। এজন্যই বলা হয়- সময়ানুবর্তিতাই জীবন। মানবজমিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত