প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড দুর্নীতির আখড়া

তৌহিদুর রহমান নিটল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া: বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) ব্রাহ্মণবাড়িয়া অফিসে একদিকে গ্রাহক হয়রানী অন্যদিকে বড় কর্তাদের খুঁটি থেকে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে প্রতিমাসে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া সেবার নামে উৎকোচ ছাড়া মিলছে না গ্রাহক সেবা । হয়রানীর শিকার এসব গ্রাহকদের দেখার কেউ নেই।

বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিদ্যু অফিসের গ্রাহক সংখ্যা আবাসিক প্রায় পঞ্চাশ হাজার আর বাণিজ্যিক দশ হাজারের মত। বারটি ফিডার নিয়ে এখানকার মূলকার্যক্রম । ফিডার গুলো হলো ঈদগাহ, বাজার, টাউন, টিভি, ভাদুঘর, বড়াইল ও গোর্কণ ফিডার সহ আরো বেশ কয়েকটি ফিডার। কিন্তু বাস্তবে বিদ্যুৎ অফিসে সেবার নামে হয়রানী দিন দিন বেড়েই চলেছে। সেবার বিনিময়ে অর্থ লেনদেন এখন অনেকটাই ওপেন সিক্রেট। নতুন সংযোগ প্রদান, লাইন মেরামত, মিটার, ট্রান্সফরমার পরিবর্তন, বিল প্রদানসহ সব ক্ষেত্রেই গ্রাহকদের কাছ বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া ফিডারের দায়িত্বে থাকা কর্তাদের যোগসাজজে খুঁটি থেকে প্রতিনিয়ত অটোরিক্সার গ্যারেজগুলো দেওয়া হচ্ছে অবৈধ সংযোগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে । এর বিনিময়ে তারা গ্যারেজ প্রতি ক্ষেত্রে বিশেষে বিশ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা মাসোহারা হাতিয়ে নিচ্ছেন। আর এই অবৈধ চুরির কাজটিতে তাদের সহযোগিতা করছেন লাইনম্যানসহ মাঠ পর্যায়ের দালালরা।

সম্প্রতি অটোরিক্সা গ্যারেজে খুঁটি থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার ও চুরির ঘটনায় ৪ প্রকৌশলীকে শোকজ এবং তিরস্কার করেছে কুমিল্লাস্থ বিদ্যুৎ আদালত।

কুমিল্লাস্থ বিদ্যুৎ আদালতের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মোজাহিদুর রহমান এর আদালতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিতরণ বিভাগের সহকারী- প্রকৌশলী শওকত আলী, সহকারী প্রকৌশলী হেবজুল বারী, উপ-সহকারী রাসেল সরকার, উপ-সহকারী নাসির উদ্দিন তাদের আওতাধীন এলাকায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য কারণ দর্শাতে আদালতে হাজির হলে আদালত তাদের তিরস্কার করেন।

কিছুদিন আগে কুমিল্লা বিদ্যুৎ আদালত ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে বড়াইল আমিনপুর পূর্ব পাড়ায় মাইনউদ্দিন এর অটো গ্যারেজে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ খুঁটি স্থাপন করে অবৈধ সংযোগ ও বিদ্যুৎ চুরির ঘটনা ধরা পড়ে। এতে করে সরকার যেমন বিপুল পরিমান রাজস্ব হারাচ্ছে তেমনি সাধারন গ্রাহকদের উপর ভৌতিক বিলের বোঝা বাড়ছে।

অফিসের একটি সূত্র জানায়, বিদ্যুৎ অফিসে কতিপয় দুর্নীতি পরায়ন কর্মকর্তাদের যোগসাজসে গ্রাহক সেবার নামে এখানে দীর্ঘ দিন ধরেই সক্রিয় রয়েছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। দীর্ঘ সময় একই স্থানে চাকরি করার সুবাধে তাদের এই সিন্ডিকেটের মার্ধ্যমে অবৈধ সংযোগ দিয়ে অটোগ্যারেজ সহ বানিজ্যিক ও আবাসিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তারা মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে । একাধিক ভুক্তভোগী জানায়, দালাল ছাড়া এই অফিসে কোন কাজ হয়না। গ্রাহক সমস্যায় পড়ে অফিসে আসলে পাঠিয়ে দেওয়া হয় তাদের কাছে। অনথায় তাদের সমস্যা সহজে সমাধা হয় না নতুবা অপেক্ষা করতে হয় মাসের পর মাস। বর্তমানে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে চলছে এক তেলেছমাতি কারবার। নতুন বিদ্যুতের সংযোগের জন্য আবেদন করার পর থেকে মিটার লাগানো পযর্ন্ত চলে ঘুষ গ্রহনের মহোৎসব। কিছু অসাধু কর্মকর্তা – কর্মচারি আর ইলেকট্রিশিয়ানদের পাশাপাশি তাদের অনুগত কিছু দালাল চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে এই অফিসটি। তাদের দৌরাত্ম্য অতিষ্ট হয়ে পড়েছে সাধারণ গ্রাহকরা।এছাড়া নিয়মিত বিল পরিশোধের পরেও বকেয়া বাড়তি বিল পাঠিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে বাড়িতে অবৈধ সংযোগ ব্যবহারের দায়ে বিদ্যু অফিসের কর্মরত জেলা সিবিএ সাধারণ সম্পাদক ও লাইনম্যান সেলিম মিয়ার বাড়িতে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে অবৈধ সংযোগ ব্যবহারের ঘটনা ধরা পড়লে এই ঘটনায় মামলা দিয়ে জরিমানা করা হয় এবং কুমিল্লাস্হ বিদ্যু আদালতে সে স্ব-শরীরে হাজির হলে তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে আদালত জেল হাজতে প্রেরণ করে। পরবর্তীতে সে বেশ কয়েকদিন কারাবাসের পর জামিনে বের হয়ে আসেন। বিভিন্নপাড়া মহল্লায় এরকম অনেক গ্রাহকের বাড়িতে অবৈধ সংযোগ ব্যবহারের দায়ে ভ্রাম্যমান আদালতে ধরা পরলে জরিমানা সহ কারাবাসের পর জামিনে বেরিয়ে আসার তথ্য রয়েছে।

এ ব্যাপারে বিদ্যু উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান বলেন, গ্রাহক হয়রানী আগের চেয়ে অনেক অংশে কমে এসেছে। অফিসে কর্মরত যারা অসাধু পথ অবলম্বন করে তাদের বিরুদ্ধে ইতিমর্ধ্যে ব্যবস্হা হয়েছে। আর বাকিদের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে অবৈধ সংযোগের দায়ে ৩০টি মামলা হয়েছে ও ১০লাখ টাকা ক্ষতি পূরণ আদায় করা হয়েছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত