প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জাতীয়তাবাদের জায়গাটা খুবই সংকীর্ণ করে ফেলেছি : সুলতানা কামাল

আশিক রহমান : বাঙালি হিসেবে আমি অত্যন্ত গর্বিত, বাংলা ভাষার জন্য আমরা প্রাণ দিয়েছি। বাঙালি জাতীয়তাবাদের আন্দোলনের মধ্যদিয়ে বড় হয়েছি, মুক্তিযুদ্ধ করেছিÑ সবই ঠিক। কিন্তু এই লড়াই কি শুধু বাঙালিদের জন্য ছিল? বাঙালিদের বাইরে যারা তাদের কি আমরা স্বীকার করব না? এটা স্বীকার না করলে তো আমরাও একই দোষে দোষী হচ্ছি। আমাদের অর্থনীতিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেছেন মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল।

তিনি বলেন, আমরা জাতীয়তাবাদের জায়গাটা খুবই সংকীর্ণ করে ফেলেছি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাগুলো আমরা যে চারটা মূলনীতির মধ্যে দেখতে চেয়েছিলাম, সেসব দিক থেকে যদি বিচার করি তাহলে অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান যে কথাটি বলেছেন, গণমাধ্যমে এসেছেÑ ‘বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে পড়েছে।’ এটা কি ভুল? তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক একটি বাংলাদেশই চেয়েছিলাম আমরা। কিন্তু গণতন্ত্রের মূলনীতি, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে আছি। জাতীয়তাবাদের ক্ষেত্রে আমার কাছে সব সময় যে চিন্তাটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, একুশের চেতনা বলতে আমরা যেটা বুঝি তা হলো ভাষায়, সংস্কৃতিতে ও নিজের পরিচয়ে আমরা মাথা উঁচু করে বাঁচব।

এক প্রশ্নের জবাবে সুলতানা কামাল বলেন, আমাদের উন্নতিটা কোথায় হয়েছে? হ্যাঁ, কাঠামোগত উন্নয়ন আমাদের হয়েছে। রাস্তাঘাটের অনেক উন্নতি হয়েছে। কিন্তু আমরা যখন গ্রামের ভেতরের পাকা রাস্তা দিয়ে যাই সব সময় তো শুনি তা এরশাদ করেছেন। এটা তো সত্যিÑ এরশাদের শাসনামলে গ্রাম-গঞ্জের ভেতরে ভেতরে রাস্তাঘাট হয়েছে। এরশাদের মতো স্বৈরাচারও তো রাস্তাঘাট করেছেন। স্কুল-কলেজ, ব্রিজের মাধ্যমে উন্নয়নের মাপকাঠি পাওয়া যায় না। তিনি বলেন, উন্নয়নের মাপকাঠি হচ্ছে মানুষ নিজেকে কতটুকু স্বাধীন মনে করে।

মানুষ কতখানি মনে করে এ সমাজে আমার ন্যায়বিচার প্রাপ্তির আশা আছে। মানুষ কতখানি নিঃসংকোচ চিত্তে বাস করতে পারে। মানুষ কতখানি ভাবে, আমার যতটুকু সামর্থ্য রয়েছে তা দিয়ে অন্তত প্রতিদিনের জীবনযাপন করতে পারি। সেসব মানদ- বিচার করে বললে অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গেই বলতে হয়, ৪৬ বছর পরও অধিকাংশ মানুষই স্বাধীনতার সেই স্বাদ পাচ্ছে না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত