প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাংলাকে অন্য দশটা ভাষার সঙ্গে সমান করলে হবে না

অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক : ভাষার মাসে ভাষা আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। ভাষা আন্দোলন আমাদের অহংকার। বাঙালি জাতি প্রমাণ করেছে, ভাষার জন্য জীবন দেওয়া যায়। মাতৃ¯েœহের জায়গায় আমরা ভাষাকে দিতে পেরেছি এবং এর মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখার দৃষ্টান্ত আমরা স্থাপন করেছি। পাকিস্তানের ঔপনিবেশিক আমলেও আমরা বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় সব সময় এগিয়ে ছিলাম। স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরে, যেহেতু বাংলা ভাষা আমাদের মাতৃভাষা, বাংলা ভাষা আমাদের রাষ্ট্রভাষা, তাই বাংলা ভাষা ব্যবহারে কোন প্রকার বাধা বিপত্তি নেই। একটি স্বাধীন দেশে আমরা বসবাস করছি।

কিন্তু এতদিন পর, এখানে এসে আমরা দেখতে পাচ্ছি, কেন যেন আমাদের মাঝে ভাষার সচেতনতার অভাব। সর্বক্ষেত্রে বাংলা ভাষা প্রচলন করার, ভাষার প্রতি আমাদের যে প্রতিজ্ঞা ছিল, সেটা তে আমরা পিছিয়ে পড়েছি। যেখানে বাংলা ভাষাকে নিয়ে আমাদের আরো এগিয়ে যাওয়ার কথা, সেখানে এই ধরনের প্রাশ্চাত্য প্রবণতা! বাংলা ভাষাকে বাদ দিয়ে অন্য ভাষার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া, উচ্চশিক্ষার পর্যায়ে বাংলা ভাষাকে এখনো সর্বস্তরে প্রচলন না করতে পারা, আইন আদালতের ভাষা হিসেবে এখনো বাংলাকে সর্বস্তরে প্রচলণ করতে না পারা, আমাদের নতুন প্রজন্মের বড় একটি অংশের বিদেশি ভাষার প্রতি আকৃষ্টতা প্রভৃতি ব্যাপার গুলো আমাদের কে ব্যথিত করে।

বাংলা ভাষার জন্যই আমাদের ভাষা শহীদরা জীবন দিয়েছেন। বাংলাকে ব্যবহার করতে কেন আমাদের এত হীনমন্যতা বোধ? বাংলা ভাষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে, বাংলার মর্যাদাকে অক্ষুণœ রেখে, তার পরেই তো আমরা অন্য দশ টি ভাষা শিখবো। তাতে কোন অসুবিধে নেই। কোন ভাবেই যেন বাংলা ভাষার সম্মান ও মর্যাদা ক্ষুণœ না হয়, সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। বাংলাকে সর্বস্তরে প্রচলন করার যে অঙ্গীকার আমরা ১৯৫২ তে করেছিলাম, সে অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য এখন আমাদের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যেতে হবে এবং এর কোন বিকল্প নেই।

তথ্য প্রযুক্তির ভাষা হিসেবে বাংলাকে নিয়ে আসা, এটা আমাদের প্রযুক্তিবিদদের দায়িত্ব। আমরা আশা করি, কম্পিউটার জগতে বাংলা ভাষার সঠিকভাবে ব্যবহার করার বিভিন্ন রকম পন্থা গ্রহণ করা হবে। আমাদের দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর শিক্ষার্থীরা যেখান থেকে শিখবে, মানুষ হয়ে গড়ে উঠবে। সেখানে বাংলাকে সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়া। দেশে প্রচুর ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু হয়েছে এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গুলো রয়েছে, যেখানে ভিনদেশি ভাষার প্রতি একটু বেশিই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যার ফলে, ব্যবহারিক ভাষা হিসেবে বাংলার চেয়ে, শিক্ষার্থীরা ভিনদেশি ভাষাকে, বিশেষ করে ইংরেজি ভাষারই বেশি ব্যবহার করছে।

বাংলা ছাড়াও বিশ্বে আরো বহু ভাষা রয়েছে। সেগুলো শিক্ষার্থীরা শিখবে, সেখানে দোষের কিছু নেই। কিন্তু কোনভাবেই বাংলার অবস্থান, বাংলার সর্বোচ্চ প্রাধান্য থাকতে হবে। সেটা বজায় রেখেই করতে হবে। আমাদের বহুদিনের দাবি, শিক্ষা ব্যবস্থাকে একমুখী করা। শিক্ষাব্যবস্থাকে একমুখী করে, বাংলার প্রাধান্য দিয়ে, তারপর শিক্ষাব্যবস্থাকে পরিচালনা করা।

এখনকার ছেলে মেয়েরা বিভিন্ন ইংরেজি মাধ্যমে লেখাপড়া করছে। কিন্ত সেখানেও বাংলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে শেখানো উচিত। বাংলাকে অন্য দশটা ভাষার সঙ্গে সমান জায়গায় নিয়ে আসলে হবে না। বাংলা আমাদের মাতৃভাষা, বাংলা আমাদের রাষ্ট্রভাষা। বাংলার সর্বোচ্চ অবস্থান নিশ্চিত করে অন্য দশটি ভাষা শিখতে পারে।

পরিচিতি : সাবেক উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়/মতামত গ্রহণ : মাহবুবুল ইসলাম/ সম্পাদনায় : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত