প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আদৌ খালেদা জিয়ার দুর্নাম ঘুচবে কি?

দীপক চৌধুরী : উচ্চ আদালতে আপিলে খালেদা জিয়া কোনোভাবে জামিন কিংবা অভিযোগ থেকে মুক্তি পেলেও দুর্নীতির যে দুর্নাম তার হয়েছে, তা থেকে মুক্তি পাবেন না। আগামী জাতীয় নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বেই। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদার বিরুদ্ধে সেই প্রচার চলতেই থাকবে। সেটা বিএনপির জন্য নিশ্চয়ই বিব্রতকর হবে। এর ফলে নির্বাচনী মাঠে বিএনপির অনেক সমস্যায় পড়তে হবেÑ এটাই বাস্তবতা। এখন বিএনপির উচিৎ, বাংলাদেশের জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া। কিন্তু মঙ্গলবার উল্টোটা শুনলাম। জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মুক্ত করা হবে।’

তিনি দস্তুরমতো হুমকি দিয়ে, ভয় দেখিয়ে নিজের ও দলের ব্যর্থতা মুছতে চাইছেন। বহুল প্রচারিত একটি বাক্য, ‘কঠিনের প্রতি আরো কঠিন হতে হয়’Ñ এটা কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ষোলতম প্রেসিডেস্ট আব্রাহম লিংকনের কথা। সোমবার গণভবনে নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তারা (বিএনপি) যদি নির্বাচনে না-ও আসে তবু নির্বাচন হবে।’ অর্থাৎ এ কথায়ই শেখ হাসিনার কঠোর ইঙ্গিত বহন করে। ২০১২, ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালের আন্দোলনের নামে সহ¯্র মানুষ হত্যা, আইনপ্রয়োগকারী ও রক্ষাকারী সংস্থার সদস্যদের হত্যা, মানুষ পুড়িয়ে হত্যার কথা কিন্তু এদেশের মানুষ ভুলে যায়নি। বিএনপির বর্তমান অহিংস আন্দোলনের নীতি যেকোনো সময় ‘সহিংস’ করার কৌশলই নিভর করবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির গতিপ্রকৃতিও।

আপিল চলাকালীন খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে পারবেন কি না, তা নির্ভর করবে সাজা স্থগিত করার ওপর। সাজা স্থগিত না হলে যে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার যোগ্যতা অর্জন করা যায় না, বাংলাদেশেই এর নজিরও আছে। এছাড়া গণঅভ্যুত্থান তো ‘বলে-কয়ে’ বা ঘোষণা দিয়ে করা যায় না। এছাড়া বিএনপিতে সেই নেতা কোথায়? নেতার দরকার পড়ে না, নাকি? আইন-আদালতের মাধ্যমে ৬ নম্বর শহীদ মইনুল রোড থেকে খালেদা জিয়াকে উচ্ছেদ আর তার দুর্নীতি মামলায় দ- খাটার মাধ্যমে গাঁয়ের সেই কথাটিই প্রমাণিত হয়, কুকুর খেয়ে দেয়ে মোটা-তাজা হতে পারে কিন্তু হাতি হতে পারে না।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক, কলামিস্ট ও ঔপন্যাসিক
সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ