প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খেলার মাঠে বিএনপির টিকে থাকা নির্ভর করছে বিএনপির ওপর: গোলাম মুর্তোজা

রবিন আকরাম: সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদক গোলাম মোর্তোজা তার ফেসবুকে লিখেছেন- অনেকে বলার চেষ্টা করেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেও চান না যে এবারের নির্বাচনটিও প্রশ্নবিদ্ধ হোক। ৫ জানুয়ারির মতো আরেকটি নির্বাচন হবে না, সেটা ঠিক। একই ঘটনা দ্বিতীয়বার ঘটবে না। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনটি প্রশ্নবিদ্ধ হবে না, তা বলা যাবে না।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচন করেও যেহেতু সরকার দাপটের সঙ্গে ৫ বছর কাটিয়ে দিচ্ছে, সুতরাং প্রশ্নবিদ্ধ আরেকটি নির্বাচন করে ক্ষমতায় থেকে গেলে, আওয়ামী লীগের কোনও ক্ষতি তো নেই। দেশ-বিদেশ কোথাও তো বড় কোনও সমস্যায় পড়তে হয়নি। দেশের মানুষের ভোটের অধিকার, নীতি-নৈতিকতা? মানুষের ভোটের অধিকারের বিষয়, আওয়ামী লীগ ২০১৪ সাল থেকে বিবেচনায় নেওয়া বাদ দিয়ে দিয়েছে। নীতি-নৈতিকতা নিয়ে চিন্তা করারও প্রয়োজন মনে করবে না আওয়ামী লীগ। ক্ষমতায় থাকার জন্যে যা করা দরকার তাই করবে।

আদালত খালেদা জিয়াকে শাস্তি দিয়েছেন। সামনের কয়েক মাসে বিএনপি নেতাদের আরও অনেকের মামলার পরিণতি জানা যাবে। জানা যাবে খালেদা জিয়ার অন্য মামলাগুলোর পরিণতিও।

এমপিরা এমপি পদে থেকেই নির্বাচন করবেন। বিএনপির প্রতি সরকারের এই নমনীয় আচরণও সামনের সময়টাতে থাকবে না। সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নিরপেক্ষ নির্বাচনের যে পরিবেশের কথা বলা হচ্ছে, তার কোনও সম্ভাবনা আছে বলে আমার পর্যবেক্ষণ বলে না।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে সরকার বা আওয়ামী লীগের অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়েছেন। একদিকে অনেকটা উঁচু খেলার মাঠে বিএনপি থাকবে কিনা, টিকে থাকতে পারবে কিনা- তা পুরোপুরিভাবে নির্ভর করছে বিএনপির ওপর। বিএনপির জন্যে সরকার মাঠ সমান করে দেবে না।

…প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন ছিল মূলত একটি, এবং সেই প্রশ্নটি করেছিলেন রেজোওয়ানুল হক। এত ভিড়ে একজন সাংবাদিকের দেখা পাওয়ায় ছোট্ট একটা ধন্যবাদ তাকে জানাতেই হবে। তিনি প্রশ্ন করেছিলেন প্রশ্নপত্র ফাঁসের মহামারি নিয়ে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চেয়েছিলেন, মন্ত্রী- সচিবদের মতো ব্যর্থদের তিনি শাস্তির ব্যবস্থা করবেন কিনা?

উত্তরে প্রধানমন্ত্রী যা বলেছেন, তা একই সঙ্গে বিস্ময়ের এবং আতঙ্কের।

প্রধানমন্ত্রী জানতে চেয়েছেন, প্রশ্ন ফাঁস কখন হয়? সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত যারা ছিলেন, তারা কেউ এই প্রশ্নের উত্তর দেননি বা দিতে পারেননি। অথচ তারা সবাই প্রশ্নের উত্তর জানতেন। একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আগের রাতে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন একাধিকবার দেখিয়েছে। একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যম সকালে অনুষ্ঠিত হবে এমন পরীক্ষার প্রশ্ন পেয়েছে আগের মাঝরাতে, এবং প্রকাশ করেছে। এর বাইরেও আরও অনেক উদাহরণ আছে। কিন্তু কেউ প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নের উত্তর দেননি। কেন দেননি, সেই প্রসঙ্গে না যাই।

…বিশ্ব খাদ্য সংস্থার নির্বাহী পরিচালক রোমে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। নির্বাহী পরিচালক প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের পেছনে বিশ্ব খাদ্য সংস্থার প্রতি মাসে ব্যয় হয় ২৭.৩ মিলিয়ন ডলার, টাকার অঙ্কে যা প্রায় ২২৫ কোটি।

আশঙ্কার কথা যা নির্বাহী পরিচালক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে, আন্তর্জাতিক বিশ্ব রোহিঙ্গাদের জন্যে অর্থ সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। ডোনারদের থেকে অর্থ পাওয়া না গেলে, প্রতি মাসের ২২৫ কোটি টাকা তাদের জন্যে ব্যয় করা সম্ভব হবে না। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে কী ভাবছেন, এমন কোনও প্রশ্ন কেউ করেননি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত