প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মিয়ানমারে বন্ধ হয়নি নির্যাতন, অনুপ্রবেশ করছে রোহিঙ্গারা!

ফারমিনা তাসলিম: মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের ফলে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ এখনো বন্ধ হয়নি। মিয়ানমার সরকার তাদেরকে সবাইকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে বললেও এখনো সেখানকার পরিস্থিতি অশান্ত। আন্তর্জাতিক মহলের চাপ ছাড়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন সম্ভব নয় বলে মনে করছেন কূটনৈতিকরা।

মিয়ানমার সেনাদের নজর এড়িয়ে আমেনা তার গ্রাম থেকে যখন পালিয়ে যায়, তখন তার শিশুটির বয়স মাত্র ২৭ দিন। দীর্ঘপথ পায়ে হেটে পাড়ি দিতে গিয়ে সন্তানের নাম রাখতে পারেননি। স্বপরিবারে প্রাণে বাঁচতে পেরেছে এটাই সবচেয়ে বড় পাওয়া।

আমেনা জানান, বাচ্চার বয়স যখন ২৭ দিন তখন গ্রাম থেকে পালায়। এখন বাচ্চার বয়স ৪০ দিন। এতদিন জঙ্গলের মধ্যে ছিলাম।

৪ মাস আগে ওই গ্রামের ৫০টি ঘর পুড়িয়ে দেয় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। বাকি প্রায় ৩’শ ঘরে রোহিঙ্গাদের ওপর এখনো নির্যাতন হচ্ছে। তাই গভীর রাতে ৪ পুরুষের ভিটা ছেড়ে পালায় ওই গ্রামের ১১টি পরিবার। সেনাদের চোখ এড়িয়ে পালাতে পারলেও মগদের হাত থেকে তারা রক্ষা পায়নি। সঙ্গে থাকা টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালঙ্কার সবই লুটে নিয়েছে মগরা।

রোহিঙ্গারা আরও জানান, পুলিশ, মিলিটারিরা রাত ১০টা কিংবা ১টার দিকে যখন তখন ঘরে এসে গণনা করে যেত। গত ৪ মাস আমরা নিজের ঘরের ভিতরে বন্দী ছিলাম। ঘরের বাইরে বের হলে নির্যাতন করা হত।

এখনো মিয়ানমারে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের অবস্থা কী তা প্রমাণ দিবে ১১টি পরিবার। তারা বলছেন, ১১ দিন জঙ্গলে থেকে কোনভাবে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের সীমান্তটি পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। তারা যে গ্রামে ছিলেন সেখানে তাদেরকে মিয়ানমারের বিজিপি অনেকটা বন্দী করে রেখেছিল। সুযোগ পেয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। যদিও মিয়ানমার সরকার বলছে, বাংলাদেশে আসা প্রায় সাড়ে ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে তারা ফিরিয়ে নিতে চায়। সেই বাস্তবতা মিয়ানমারের সরকারের সঙ্গে মিলে না।

এভাবে গত ১ সপ্তাহে নতুন আরো ৪ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে। তাদের বর্ণনার সঙ্গে গত আগস্টে আসা রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের বর্ণনায় কোন পার্থক্য নাই। যা প্রমাণ করছে এখনো অশান্ত রাখাইন।

সাবেক রাষ্ট্রদূত অনুপ কুমার চাকমা বলেন, পরিবেশ তো সবগুলো স্বাভাবিক। তাদের জন্য বাড়ী-ঘর ও গ্রাম করা হয়েছে। ওখানে তো তারা যেতে পারবে না। কিন্তু ওইগুলো পুর্নগঠন হওয়ার আগে থেকে তাহলে তো কোথাও যেতে হবে।

আন্তর্জাতিক মহলের চাপ ছাড়া সমস্যার এই সঙ্কট সমাধান ও রোহিঙ্গাদের নিরাপদে প্রত্যাবাসন সম্ভব নয় বলে মনে করছেন কূটনৈতিকরা। সূত্র: একাত্তর টিভি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত