প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাষ্ট্র কার, রাষ্ট্রের দায়িত্ব কি?

অ্যাড. তৈমূর আলম খন্দকার : সম্প্রতি (জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, এই আর্টিকেল লেখা পর্যন্ত) দেখতে পাচ্ছি যে, হাইকোর্টের বারান্দা লোকে লোকারণ্য। তারা ঢাকায় এসেছে আগাম জামিনের জন্য। প্রতি জেলায় মামলা, প্রতিটি মামলায় জ্ঞাত/অজ্ঞাত মিলিয়ে ২০০-৩০০, এমনকি ৪০০ জন পর্যন্ত আসামী রয়েছে। প্রতিটি মামলায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(৩) এবং ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৩(ক) ধারায় রুজুকৃত। মৃত ব্যক্তি, বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তি, অসুস্থ হয়ে বাড়িতে বা হাসপাতালে রয়েছে তাদেরকেও মামলার আসামী করে এজাহারভুক্ত করা হয়েছে। দেশব্যাপী বিভিন্ন থানায় দায়েরকৃত এজাহারের বক্তব্য সবগুলোই একই, যা দেখে মনে হয় এজাহারের ফরমেট একই জায়গা থেকে লিখে দেওয়া হয়েছে। সবগুলো মামলার বাদী পুলিশ কর্মকর্তা।

সবগুলো এজাহারে বলা হয়েছে যে, ‘০৮/২/২০১৮ইং তারিখে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মামলার রায়কে প্রভান্বিত ও সরকার উৎক্ষাতের ষড়যন্ত্র আসামীরা জড়িত।’ পুলিশকে মামলার আসামী করার ব্ল্যাঙ্ক চেক সরকার থেকে দেওয়া। সরকারি দল থেকে যাদের নাম দেওয়া হয়েছে তাদেরকেই আসামী করা হচ্ছে। এজাহারে নাম থাকুক বা না থাকুক গ্রেফতার করতে পারলেই শুরু হয় রিমান্ড বাণিজ্য। তাও আবার ছোটখাটো নয় বরং মোটা অংকের বাণিজ্য। এ পরিস্থিতিতে দেশবাসীর নাভিশ্বাস উঠে গেছে এবং এ হয়রানির পিছনে রয়েছে মিথ্যা এজাহার। মিথ্যা এজাহারের পিছনে রয়েছে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের দমিয়ে রেখে সরকারের মনোবাসনাকে পূরণ করে নিজ পোস্ট-পজিশন ঠিক রাখা।

এখন প্রশ্ন হলো পুলিশ কি ব্যাপক মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে জনগণকে হয়রানি করতে পারে? হয়রানি করার জন্য কাল্পনিক মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে ভৌতিক মামলা দিতে পারে? পুলিশ বলতে পুলিশ বিভাগ ও তাদের নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ অর্থাৎ কনস্টেবল থেকে শুরু করে পুলিশ প্রধান, আই.জি.পি পর্যন্ত, স্বরাষ্ট্র সচিব যিনি চীফ একাউন্টিং অফিসার। জনগণের টাকায় যাদের বেতন হয় নিম্নপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের বাধ্য করে ভৌতিক ঘটনা সাজিয়ে মিথ্যা আর মিথ্যার উপর মামলা রুজু ও চার্জশীট দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় কীভাবে? পুলিশ কর্মকর্তাদের বিবেকের নিকট কি কোনো জবাবদিহিতা নেই?

যখন একটি পরিবারের সদস্যরা শুনতে পায় যে, তার মৃত পিতা বা দাদা বা আত্মীয় যে ৫/৭ বৎসর পূর্বে মৃত্যুবরণ করলেও তার নাম যদি সরকার বা প্রধানমন্ত্রীকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র করার পরিকল্পনা বৈঠকে উপস্থিত দেখা যায় (এজাহারের ভাষ্যমতে) তবে পুলিশ বিভাগ ও সরকারি উচ্চপদস্থ আমলাদের সম্পর্কে নতুন প্রজন্মের ধারণা কি হবে? পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জল করার জন্য পুলিশ মরিয়া। কিন্তু ভৌতিক মামলা, এজাহার ও রিমান্ড বাণিজ্য করে কি পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জল করা যাবে?

‘মিথ্যা’ যদি রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি লাভ করে তাহলে, ‘সদা সত্য কথা বলিবে’ এ ধরনের নীতি বাক্যগুলো পাঠ্য-পুস্তকে রেখে লাভ কি? ‘রাজতন্ত্রের’ কর্মচারী ও ‘প্রজাতন্ত্রের’ কর্মচারী এক কথা নয়। রাজতন্ত্রের কর্মচারীরা রাজার বেতনভুক্ত কর্মচারী এবং প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা নাগরিকদের (অর্থাৎ যারা পূর্বে প্রজা ছিল) বেতনভুক্ত কর্মচারী। ব্রিটিশ পুলিশরা স্বাধীনতাকামীদের যেভাবে নিপীড়ন-নির্যাতন করেছে, পাক হানাদার বাহিনী মুক্তিকামী বাংলাদেশিদের যেভাবে নির্যাতন করেছে, স্বাধীন দেশের রাষ্ট্রীয় কর্মচারী ও পুলিশ গণতন্ত্রকামী নাগরিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, চার্জশিট, হয়রানি করে তাহলে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করে কারা লাভবান হলো? স্বাধীনতার সুফল কি এদেশের সাধারণ জনগণ পাচ্ছে?

লেখক : কলামিস্ট ও বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত