প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যান্ত্রিক সময়ে দেশাত্মবোধ ও নৈতিক মূল্যবোধ হারিয়ে গেছে : মেনন

ফারমিনা তাসলিম : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বিবিসি বাংলাকে বলছেন, বর্তমান সময়ের সবকিছু যান্ত্রিক হয়ে গেছে। ছেলেমেয়েরা স্কুলের বইয়ের বাইরে কিছু পড়ে না। তারা অবসর সময়ে কম্পিউটার এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে মানুষের সাথে সম্পর্কের প্রশ্নটি এখন অনেক দূরে চলে গেছে। সেদিক থেকে অবশ্যই একটা ফাঁক থেকে যাচ্ছে। আমাদের শিক্ষাক্রমের মধ্যে দেশাত্মবোধ, নৈতিক মূল্যবোধ ক্রমাগত হারিয়ে গেছে। এখন নতুন শিক্ষানীতিতে এবং নতুন শিক্ষাক্রমের মধ্যে এগুলোকে আনার চেষ্টা হচ্ছে এবং এজন্যে সময় লাগবে।

বাংলাদেশের সমাজে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের মধ্যে বৈষম্য দূর করে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনের কথা বলা হলেও বাস্তবে এর ঘাটতি আছে বলেও মনে করা হয়। জাতিসংঘের মতে আমাদের লিঙ্গ, বয়স, জাতি, ধর্ম, বর্ণসহ সব ধরনের ভেদাভেদ দূর করে মানুষে মানুষে সমতা নিশ্চিত করতে পারাই সামাজিক ন্যায়বিচার। সে লক্ষ্যে মঙ্গলবার বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক সামাজিক ন্যায়বিচার দিবস। বাংলাদেশের সাংবিধানেও সবার সমান অধিকারের কথা বলা আছে।

সেটি রাষ্ট্র আসলে কতটা নিশ্চিত করছে ?

জবাবে রাশেদ খান মেনন বলেন, আমাদের দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা কার্যত অসমতা সৃষ্টি করে রেখেছিল আগে থেকে। এখন আমরা অনেক এগিয়েছি। দারিদ্র্য সীমার নীচে মানুষের সংখ্যা শতকরা হারে কমে এসেছে এবং মাথাপিছু আয় বেড়ে গেছে। শহর এবং গ্রামের মধ্যে পার্থক্যটা কিছুটা হলেও কমে এসেছে।

রাশেদ খান মেনন আরো বলেন, সেটা থেকে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হচ্ছে না। কিন্তু আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির কোন পরিবর্তন নেই। আমাদের রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক দায়িত্ব আছে। সমাজকল্যান মন্ত্রণালয় সাংবিধানিকভাবে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ তাদের নিরাপত্তার বিধানে। এই নিয়ে কিন্তু সামাজিক নিরাপত্তার কৌশলও এই সরকার প্রণয়ন করেছেন অনেক আগে। এখন বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, দুঃস্থ-নির্যাতিত মহিলা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, শিক্ষা উপবৃত্তি ইত্যাদি বিষয়গুলো চালু করা হয়েছে। আমাদের এখানে সামাজিক নিরাপত্তা বিধানের ব্যবস্থা হচ্ছে।

বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি কমানোর ব্যাপারে যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে রাশেদ খান মেনন বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সামাজিক নিরাপত্তাবোধমূলক কাজ করা। এখানে আয় বৈষম্য দূরীকরণের পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। যারা বৈষম্যের শিকার অথবা বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারে না তাদেরকে সহায়তা করা এবং সেটাও খুব কম নয়। আয় বৈষম্যের ক্ষেত্রে সমাজ পরিবর্তন করা দরকার। আমি মনে করি, সমতাভিত্তিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ আমরা গড়তে পারব। সেজন্য আমাদের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনতে হবে। এখন অর্থনীতি ছেড়ে একেবারে সব থেকে লিবারালাইজেশন করে দিয়েছে। উদারনৈতিক অর্থনীতিবাদের ভিত্তিতে সবাই চলছে। ফলে দেখা যায় এখানে বিশাল সংখ্যক লোক কোটিপতি হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে সাধারণ মানুষ নিচে পড়ে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তন করার কোন পথ নেই। সেজন্য সম্পূর্ণ আমাদের দল বা আমি ব্যক্তিগতভাবে লিখে চলেছি, বলে চলেছি এবং চেষ্টা করি যেখানে সম্ভব সেখানে কথা বলতে।

ছোটবেলা থেকে পরিবার এবং সমাজ থেকে মানুষকে নীচু চোখে দেখা শ্রেণি বিভেদে এবং শ্রেণি বৈষম্যমূলক আচরণের ক্ষেত্রে শিক্ষার কোন ফাঁক রয়েছে বলে জানান রাশেদ খান মেনন। তিনি আরো বলেন, আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে মূল্যবোধের বড়ই পরিবর্তন এসেছে এবং এই মূল্যবোধটি পরিবার এবং সমাজের মাধ্যমে জন্ম নিয়েছে। আগে যখন আমাদের সমাজের সঙ্গে অনেক বেশি ভালো সম্পর্ক ছিল, তখন আমরা স্থায়ীভাবে বড় পরিবারে বাস করতাম। বড়দের প্রতি মান্যতা, সাধারণ মানুষের প্রতি সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি তখন এগুলো পরিবার থেকে গড়ে উঠেছিল। বর্তমান সময়ের সবকিছু এখন যান্ত্রিক হয়ে গেছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত