প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভুয়া নকশায় প্লট বিক্রি করল চসিক

ডেস্ক রিপোর্ট : জীবনে সঞ্চিত সব অর্থ দিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) কাছ থেকে লেকসিটি প্রকল্পের প্লট কিনেছিলেন মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম। কিন্তু এক যুগ পর যেখানে প্লট থাকার কথা, সেখানে আস্ত ভবন দাঁড়িয়ে আছে অন্য কারও। এমন ভুয়া নকশায় প্লট কিনে মাথায় হাত চসিকের লেকসিটি প্রকল্পের আরও ৯১ প্লট মালিকের। সিটি করপোরেশনের দেওয়া নকশা অনুযায়ী প্লট কেনার এক যুগ পর বর্ণিত স্থানে কোনো প্লটেরই অস্তিত্ব খুঁজে পাননি তারা। প্রকল্পে ৪৫৬টি প্লট থাকলেও চসিক বিক্রি করেছে ৫৪৮টি।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে এ প্রসঙ্গে চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন সমকালকে বলেন, ‘চসিক থেকে কেনা লেকসিটি প্রকল্পের অনেক গ্রাহক মৌজা অনুযায়ী জায়গা বুঝে পাননি। তবে এতে তাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। আমরা তাদের জন্য আশপাশে জায়গা দেখছি। আশা করছি বিকল্প উপায়ে তাদের সবাইকে প্লট বুঝিয়ে দেওয়া হবে।’ একই প্রসঙ্গে লেকসিটি হাউজিং সোসাইটি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আফাজ উল্লাহ বলেন, ‘আমাদের হিসাব অনুযায়ী ৯২ জন লোক মৌজা অনুযায়ী তাদের প্লট বুঝে পাননি। বর্ণিত আবাসিকে আসলে তাদের কোনো প্লটই নেই। বিষয়টি সম্পর্কে আমরা মেয়র মহোদয়কে অবহিত করেছি। তিনি সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।’

চসিক সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালে ফয়’স লেক কৈবল্যধাম সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় লেকসিটি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয় চসিক। সে সময় ৩৫ কোটি টাকায় ৩০/৩১ একর জমি কেনা হয় প্রকল্পের জন্য। আড়াই কাঠার প্রতিটি প্লট ২২ লাখ টাকা করে ৫৪ জন এবং বাকিরা ১৭ লাখ টাকায় কিনেছিলেন। দুই দফায় মোট ৫৪৮ জন এসব প্লট কেনেন।

চসিকের প্লট নকশায় আছে, বাস্তবে নেই :চসিকের নকশা দেখে প্লট কিনেছিলেন নেপাল মহাজন। তার মতো একইভাবে প্লট কিনেছিলেন ৯২ জন। কিন্তু কেনার এক যুগ পর তারা জানতে পারলেন, তাদের সর্বস্ব দিয়ে কেনা প্লট ভুয়া। সেখানে কোনো প্লটই নেই। এ প্রসঙ্গে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি বরাদ্দকৃত প্লটের মধ্যে ৯২টি প্লট কম পড়েছে। প্রকল্পটি আমার আমলে না হলেও যেহেতু চসিক বরাদ্দ দিয়েছে তাই মেয়র হিসেবে দায়িকস্ফ আমাকেই নিতে হচ্ছে। আমরা ইতিমধ্যে আশপাশে বেশ কিছু জায়গা দেখেছি, যেখানে এই ৯২ জনের প্লট দেওয়া যায়। আশা করছি আমরা একটা সমাধানে পৌঁছাতে পারব। ‘

লেকসিটি হাউজিং সোসাইটি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আফাজ উল্লাহ বলেন, ‘তিন ফেইজে (ব্লক) বিভক্ত লেকসিটি প্রকল্পে আমাদের ৯২ জনের কেনা প্লটে সমস্যা আছে। তবে বর্তমান মেয়র দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরা প্রকল্পে জায়গা সংকটের বিষয়টি তাকে অবহিত করেছি। অবগত হওয়ার পর তিনি আমাদের প্রকল্প এলাকায় জায়গা না থাকলেও পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে হলেও জায়গার ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। যারা প্লটের হদিস পাননি তারা হলেন মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, নেপাল মহাজন, মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, মোহাম্মদ ওসমান, লাকী রানী দে।’

একই প্রসঙ্গে প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) চসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম জায়গা সংকটের কথা স্বীকার করে সমকালকে বলেন, লেকসিটি এলাকার একই মৌজায় এক একর আয়তনের একটি জায়গা পাওয়া গেছে। জায়গাটির দাগ-খতিয়ানসহ সংশ্নিষ্ট কাগজপত্র দেখে কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের জন্য সম্প্রতি ফাইলটি উপস্থাপন করা হয়। সেটি পেলে সমস্যার প্রায় সমাধান হয়ে যাবে। তবে জায়গাটির বর্তমান মূল্য প্রতি কাঠা আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণের বেশি। চসিক প্রথমে মাত্র ৬ লাখ টাকা করে প্রতি কাঠা মূল্য নির্ধারণ করে। তিনি বলেন, আবাসন প্রকল্পটিতে প্রবাসী বাংলাদেশির সংখ্যাই বেশি। সি ব্লকেই ৫৯ জন আমেরিকা প্রবাসীর প্লট রয়েছে, তাই হয়তো সে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

এক যুগেও মেলেনি প্লট :টাকা পরিশোধের এক যুগ পার হলেও এখনও প্লট বুঝে পাননি লেক সিটি প্রকল্পের প্লট মালিকেরা। দুই দফায় ৫৪৮ প্লট মালিকের কাছ থেকে প্রায় পৌনে ১০০ কোটি টাকা, পরে উন্নয়ন চার্জ বাবদ ২ লাখ টাকা করে আদায় করলেও প্রকল্পের টাকা চসিকের অন্য খাতে ব্যয়সহ নানাবিধ জটিলতায় প্রকল্পটি স্থগিত হয়ে পড়েছিল। বর্তমান সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ক্ষমতায় আসার পর সংশ্নিষ্ট প্লট মালিকদের প্লট বুঝিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। ইতিমধ্যে প্লট মালিকদের রেজিস্ট্রি প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘এ’ ব্লকের প্লট রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম প্রায় শেষ হয়েছে। বি ব্লকের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া চলছে। সি ব্লকের জায়গার সংকট থাকায় তাদের জন্য পার্শ্ববর্তী স্থানে জায়গা দেখা হচ্ছে। জায়গার সংস্থান হলেই প্লটের নতুন নকশা করার পর রেজিস্ট্রেশন শিগগিরই শেষ করা হবে বলে জানায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সংশ্নিষ্ট স্টেট বিভাগ। সেখানে থাকা অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে নতুনভাবে। সূত্র : সমকাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত