প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রচলিত আইন এবং আমাদের সংবিধান

ব্যারিস্টার আফতাব উদ্দিন : ৩২ ধারাটি সাংবাদিকদের জন্য অবশ্যই ক্ষতিকর। কোনো সরকারী অফিসের একটি দুর্নীতি সম্পর্কিত প্রতিবেদন করায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে ৩২ ধারা। সরকারী অফিসে মানুষ কাজের জন্য যায়, সেবার জন্য যায়। সেই সেবা যদি না পায়, সেবা দিতে যদি তারা গাফিলতি করে অথবা সরকারী অফিসের কোনো টেন্ডার প্রক্রিয়া, কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন, সরকারী খাতে হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়, সরকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। ভূমি অফিস, পাসপোর্ট অফিস, রাজস্ব অফিস, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এখানে হাজার কোটি টাকা সরকারী খাতে ব্যয় হয়।

এই ধরনের সরকারী সকল অফিসে মানুষ সেবার জন্যে যায়। এই অফিসগুলোতে কোনো ধরনের অনিয়ম হলে সাংবাদিকরা রিপোর্ট করে থাকেন। এই ধারা অনুসারে সাংবাদিকরা কোনো তদন্ত করতে পারবে না। তাহলে তাকে গুপ্তচর বৃত্তির অভিযোগে অভিযুক্ত করা হবে। সাংবাদিকরা যেকোনো অফিসে ইনভেষ্টিগেশন করতে গেলেই গুপ্তচর আইনে ফেলে দেবে। এখন ইচ্ছে মত অনিয়ম হবে, কেউ কিছু বলতে পারবে না। সংবাদপত্রের বাক স্বাধীনতা খর্ব করা হয়েছে। এই ৩২ ধারা আগে ৫৭ ধারা ছিল। এই ধারাটি সাংবাদিকদের জন্য।

এই ধারায় পরে আর মুক্ত সাংবাদিকতা থাকে না। গণতন্ত্র থাকে না। আমাদের সংবিধানে চিন্তার স্বাধীনতা, বিবেকের স্বাধীনতা, বাক স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা মৌলিক অধিকার হিসেবে রয়েছে। সরকারী অফিসের বিরুদ্ধে লিখলেই আপনার বিরুদ্ধে গুপ্তচর বৃত্তির অভিযোগ আনা হবে। এই বিধি নিষেধ এনে দুর্নীতিবাজদের সুরক্ষা দেয়া হয়েছে। সংবাদপত্রের সম্পাদক পরিষদ এর বিরোধিতা করেছে।

বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থাগুলোও এটা বাতিলের দাবী জানিয়েছে। এই আইন পাশ হলে আমাদের মৌলিক অধিকার ক্ষুন্ন হবে। সরকার মনে করছে, সরকারী অফিসের তথ্য বাইরে না গেলেই কেউতো আর কিছু জানতে পারবে না।
তথ্য অধিকার আইনের অধিনে যে কোনো ব্যক্তি যে কোনো অফিসের তথ্য নিতে পারে। এটা প্রচলিত আইন এবং সংবিধান পরিপন্থি।

পরিচিতি : আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
মতামত গ্রহণ : সানিম আহমেদ
সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত